উদ্ভিদভিত্তিক অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি স্মুডি (×699)
টোকিও ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্সের গবেষণায় মেনথল, সিনিয়ল এবং ক্যাপসাইসিনের সমন্বিত প্রদাহরোধী প্রভাব প্রমাণিত
সম্পাদনা করেছেন: Maria Sagir
টোকিও ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্সের (Tokyo University of Science) একদল গবেষক, যার নেতৃত্বে ছিলেন ডিপার্টমেন্ট অফ বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক জেন-ইচিরো আরিমুরা (Professor Gen-Ichiro Arimura), ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি উদ্ভিজ্জ যৌগের প্রদাহরোধী কার্যকারিতার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে পুদিনা থেকে প্রাপ্ত মেনথল, ইউক্যালিপটাস তেল থেকে প্রাপ্ত ১,৮-সিনিয়ল এবং ঝাল মরিচ থেকে প্রাপ্ত ক্যাপসাইসিনের যৌথ প্রয়োগ একক ব্যবহারের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী প্রদাহরোধী প্রভাব তৈরি করে। এই গবেষণার ফলাফলগুলো বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী 'নিউট্রিয়েন্টস' (Nutrients)-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল বা উদ্ভিজ্জ রাসায়নিকের সমন্বয় কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে তা যাচাই করা। গবেষকরা RAW264.7 নামক কোষের ওপর ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চালিয়েছেন, যা মূলত ম্যাক্রোফেজ কোষের একটি মডেল হিসেবে কাজ করে। এই কোষগুলো শরীরে প্রদাহ সৃষ্টিকারী সাইটোকাইন নিঃসরণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় লিপোপলিস্যাকারাইড (LPS) ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে প্রদাহ সৃষ্টি করা হয় এবং এরপর টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর-আলফা (TNF-α) ও ইন্টারলিউকিন-৬ (IL-6) এর মতো প্রদাহজনিত জিনের অভিব্যক্তি এবং প্রোটিনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণাটি মূলত আণবিক পর্যায়ে এই উপাদানগুলোর কার্যকারিতা বোঝার চেষ্টা করেছে।
গবেষণার পরিমাণগত ফলাফলে একটি বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গেছে যে, ক্যাপসাইসিনের সাথে মেনথল যুক্ত করলে প্রদাহরোধী প্রভাব পেতে প্রয়োজনীয় ঘনত্বের পরিমাণ প্রায় ৬৯৯ গুণ হ্রাস পায়। একইভাবে, ১,৮-সিনিয়লের সাথে ক্যাপসাইসিনের মিশ্রণ প্রয়োজনীয় ঘনত্বের মাত্রা প্রায় ১৫৪ গুণ কমিয়ে দেয়। এই বিশাল পার্থক্যটি কোষীয় স্তরে একটি শক্তিশালী সিনার্জিস্টিক বা সমন্বিত মিথস্ক্রিয়া নির্দেশ করে। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মেনথল এবং ১,৮-সিনিয়ল মূলত ট্রানজিয়েন্ট রিসেপ্টর পটেনশিয়াল (TRP) চ্যানেল এবং ক্যালসিয়াম সিগন্যালিংয়ের মাধ্যমে কাজ করে, যেখানে ক্যাপসাইসিন TRP-নিরপেক্ষ একটি ভিন্ন পথে প্রদাহ দমন করে।
যদিও ১,৮-সিনিয়ল আগে থেকেই তার প্রদাহরোধী এবং ব্যথানাশক গুণের জন্য পরিচিত ছিল, এই গবেষণাটি মূলত একাধিক ফাইটোকেমিক্যালের সম্মিলিত ক্রিয়ার ওপর আলোকপাত করেছে। ম্যাক্রোফেজ প্রতিক্রিয়ার ওপর জৈব-সক্রিয় যৌগের প্রভাব মূল্যায়নের জন্য RAW264.7 কোষ লাইন একটি আদর্শ ইন-ভিট্রো (In-vitro) পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এই ধরনের সংমিশ্রণ ভবিষ্যতে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কার্যকরী খাদ্য বা ফাংশনাল ফুড তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই ফলাফলগুলো নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যতে ইন-ভিভো (In-vivo) বা জীবন্ত প্রাণীর ওপর আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
সহজলভ্য উদ্ভিজ্জ রাসায়নিকগুলোর মধ্যে এই সমন্বিত শক্তি বা সিনার্জি আবিষ্কার দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ব্যবস্থাপনায় নতুন ডায়েটারি কৌশলের পথ প্রশস্ত করেছে। এই গবেষণাটি কেবল একক যৌগের মূল্যায়নের গণ্ডি ছাড়িয়ে সম্মিলিত পদ্ধতির সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। জনস্বাস্থ্যের প্রেক্ষাপটে, যেখানে প্রাকৃতিক উপায়ে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, সেখানে এই কাজটি একটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করে। এটি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার উপাদানগুলো কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য রক্ষায় অবদান রাখতে পারে তা বুঝতে সাহায্য করে। ভবিষ্যতে এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে নতুন ধরনের ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট তৈরি করা সম্ভব হতে পারে যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে, যদিও এটি কোষীয় পরীক্ষা থেকে ক্লিনিক্যাল সুপারিশে পৌঁছানোর প্রাথমিক ধাপ মাত্র।
উৎসসমূহ
planet-today.ru
Газета
Nutrition Insight
Planet Today
ScienceBlog.com
MDPI
