প্রথমবারের মতো, বিজ্ঞানীরা পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার Thwaites Glacier-এর নিচে একটি বোর্হোল খুঁড়ে এর নিচে থাকা পানি অধ্যয়ন করার জন্য সফল হয়েছেন.
থোয়াইটস হিমবাহের গভীর রহস্য উন্মোচনে ১০০০ মিটার বরফ খনন: বিজ্ঞানীদের নতুন সাফল্য
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি নাগাদ ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে (BAS) এবং কোরিয়া পোলার রিসার্চ ইনস্টিটিউট (KOPRI)-এর একটি যৌথ অভিযাত্রী দল অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহে ১০০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত বরফ খনন করতে সক্ষম হয়েছে। "ডুমসডে গ্লেসিয়ার" বা "মহাপ্রলয়ী হিমবাহ" নামে পরিচিত এই বিশাল বরফের স্তূপটি মেরি বার্ড ল্যান্ডের ওয়ালগ্রিন উপকূলে অবস্থিত। ১২০ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং ১,৯২,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই হিমবাহটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রশস্ত হিমবাহ হিসেবে স্বীকৃত। উষ্ণ সামুদ্রিক জল কীভাবে এই হিমবাহের তলদেশে প্রবেশ করে গলন ত্বরান্বিত করছে, তা বিশদভাবে জানাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
ডাক্তার পিটার ডেভিস এটাই কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, গ্লেসিয়ার włas টেন্ট থেকে লাইভ ব্যাখ্যা করছেন।
বিজ্ঞানীরা এই অভিযানে একটি বিশেষ 'হট ওয়াটার ড্রিল' বা গরম জলের ড্রিল ব্যবহার করছেন যাতে 'গ্রাউন্ডিং লাইন' পর্যন্ত পৌঁছানো যায়। এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল যেখানে হিমবাহটি সমুদ্রের তলদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভাসতে শুরু করে। আমুন্ডসেন সাগরের উষ্ণ জল এই গ্রাউন্ডিং লাইনের নিচে প্রবেশ করে বরফ গলিয়ে দিচ্ছে, যা হিমবাহটির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। BAS-এর ভৌত সমুদ্রবিজ্ঞানী পিটার ডেভিস জানান যে, এই প্রথমবার বিজ্ঞানীরা সরাসরি এই সংকটপূর্ণ স্থান থেকে সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং স্রোতের দীর্ঘমেয়াদী তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। যদি থোয়াইটস হিমবাহটি সম্পূর্ণভাবে গলে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য গবেষক দলটি নিউজিল্যান্ড থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বরফ ভাঙা জাহাজ 'আরভি অ্যারন' (RV Araon)-এ করে ১২ দিনের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে হিমবাহে পৌঁছান। দুর্গম এই অঞ্চলে ২৫ টন সরঞ্জাম এবং কর্মীদের পৌঁছে দিতে ৪০টিরও বেশি হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়েছে, যা এই কাজের চরম জটিলতাকে তুলে ধরে। এই মিশনটি মূলত 'ইন্টারন্যাশনাল থোয়াইটস গ্লেসিয়ার কোলাবরেশন' (ITGC)-এর অংশ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (NSF) এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাচারাল এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ কাউন্সিল (NERC) দ্বারা অর্থায়িত। এই খনন কাজ টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংগৃহীত তথ্যগুলো ইরিডিয়াম স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অন্তত এক বছর ধরে রিয়েল-টাইমে বিজ্ঞানীদের কাছে পৌঁছাতে থাকবে। ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় এই অঞ্চলে বরফ ক্ষয়ের হার বর্তমানে দ্বিগুণ হয়েছে এবং এটি ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ৪ শতাংশের জন্য দায়ী। KOPRI-এর প্রধান বিজ্ঞানী ডক্টর ওন সাং লি এই মিশনটিকে "চরম প্রতিকূল পরিবেশে মেরু বিজ্ঞান" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গ্রাউন্ডিং লাইনের কাছে জলের তাপমাত্রা এবং স্রোতের সরাসরি তথ্য পাওয়ার ফলে বিজ্ঞানীরা আরও নিখুঁতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারবেন যে, মহাসাগরীয় প্রক্রিয়াগুলো কীভাবে হিমবাহের গলন নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ভবিষ্যতে আমাদের পৃথিবীর উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি কেমন হবে।
এই গবেষণার ফলাফল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। থোয়াইটস হিমবাহের পরিবর্তন কেবল অ্যান্টার্কটিকার মানচিত্রই বদলে দেবে না, বরং এটি সারা বিশ্বের নিচু উপকূলীয় এলাকাগুলোর অস্তিত্বের সংকটের সাথে সরাসরি যুক্ত। বিজ্ঞানীদের এই নিরলস প্রচেষ্টা আমাদের গ্রহের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রয়োজনীয় তথ্য জোগাতে সাহায্য করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যগুলো বৈশ্বিক জলবায়ু মডেলগুলোকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে, যা শেষ পর্যন্ত মানবসভ্যতাকে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রমাণ করে যে, জলবায়ু সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা কতটা জরুরি।
উৎসসমূহ
The Independent
Mirage News
www.dur.ac.uk
Info Nasional
Oceanographic Magazine
British Antarctic Survey
YouTube
IPCC
Info Nasional
Oceanographic Magazine
Febspot
British Antarctic Survey
UNFCCC
UNFCCC
UNESCO in the UK
University of Bristol
