গৃহপালিত প্রাণীর শোক: বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
সঙ্গীর বিয়োগ গৃহপালিত প্রাণীর উপর গভীর প্রভাব ফেলে, এবং সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে কুকুর ও বিড়ালের মতো প্রাণীও অনুপস্থিতি ও শোকের প্রতি জটিল প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে। এই গবেষণাগুলি প্রাণীজগতের আবেগিক জীবন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করছে, যা কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
প্রাণীদের শোকের বৈজ্ঞানিক উপলব্ধি ক্রমশ উন্নত হচ্ছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা মানুষের মতোই বন্ধন ব্যবস্থা ভাগ করে নেয়, যা অক্সিটোসিন এবং কর্টিসলের মতো নিউরোরসায়নিক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন কোনো সংযুক্ত সত্তা অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন এই বন্ধন ব্যবস্থাগুলি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, যার ফলে প্রাণীর মধ্যে শারীরবৃত্তীয় চাপের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়াটি মানুষের শোকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কর্টেক্স, নিউক্লিয়াস অ্যাকুমবেন্স এবং অ্যামিগডালার মতো অঞ্চলগুলি সক্রিয় হয়, যা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যেও মৌলিকভাবে উপস্থিত।
প্রাণীদের মধ্যে শোকের লক্ষণগুলি প্রজাতিভেদে ভিন্ন হয়, যা প্রায়শই মানুষের শোক আচরণের প্রতিচ্ছবি দেখায়। কুকুরদের ক্ষেত্রে, লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে অলসতা, ক্ষুধা হ্রাস, অস্থিরতা এবং কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন। গবেষণায় দেখা গেছে যে সহবাসী কুকুরের মৃত্যুর পরে প্রায় ৩২% মালিক তাদের বেঁচে থাকা কুকুরের মধ্যে কম খাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন, এবং প্রায় ৬৭% মালিক সঙ্গীর মনোযোগ চাওয়ার বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছেন। অন্যদিকে, বিড়ালের শোক প্রায়শই আরও সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ পায়, যা অতিরিক্ত লুকানো, কম গ্রুমিং করা বা স্নেহের মাত্রায় পরিবর্তন হিসাবে প্রতীয়মান হয়। এই আচরণগত পরিবর্তনগুলি প্রাণী আচরণ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে শোকের বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য প্রমাণ সরবরাহ করে।
বিশেষজ্ঞ পশুচিকিৎসক আচরণবিদরা পরামর্শ দেন যে শোকাহত পোষা প্রাণীর জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ দৈনিক রুটিন বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক নোঙ্গর হিসাবে কাজ করে। খাওয়ানো, হাঁটা এবং খেলার রুটিন বজায় রাখা তাদের মানসিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাবোধ ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, বেঁচে থাকা পোষা প্রাণীদের মৃত সঙ্গীকে দেখতে বা শুঁকতে দেওয়া কখনও কখনও ক্ষতির চূড়ান্ততা প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করতে পারে। এই ধরনের আচরণ, যেমন মৃত সঙ্গীর প্রিয় বিশ্রামের জায়গায় বারবার ফিরে যাওয়া, প্রায় ৬০% পোষা প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়। তবে, দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যের প্রতি অনীহা বা অন্যান্য গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত যাতে কোনো অন্তর্নিহিত চিকিৎসা সমস্যা বাতিল করা যায়।
অক্সিটোসিন, যা 'ভালোবাসার হরমোন' নামেও পরিচিত, সামাজিক বন্ধন সৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর ব্যাহত হওয়া শোক-সম্পর্কিত আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে মানুষের সাথে কুকুরের পারস্পরিক চোখের যোগাযোগ এবং স্পর্শের মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ আক্ষরিক অর্থে সারিবদ্ধ হতে পারে, যা বন্ধনের গভীরতাকে তুলে ধরে। যদিও বেশিরভাগ পোষা প্রাণী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তবে এই শোকের প্রক্রিয়াটি মানুষের মতোই ব্যক্তিগত এবং সময়সাপেক্ষ। পশুচিকিৎসা ক্ষেত্রে, পশুচিকিৎসক এবং পশুচিকিৎসা সমাজকর্মীরা শোকাহত মালিকদের সহায়তা করার জন্য সহায়তা গোষ্ঠী এবং স্মৃতিচারণের কৌশলগুলি ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা প্রমাণ করে যে এই বন্ধনগুলি মানুষের মানসিক সুস্থতার উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে, প্রাণীদের জটিল আবেগিক প্রতিক্রিয়া স্বীকার করা কেবল সহানুভূতি নয়, বরং দায়িত্বশীল মালিকানার একটি অংশ, যা তাদের নিরাময় যাত্রায় সহায়তা করে।
7 দৃশ্য
উৎসসমূহ
ArcaMax
Funeral.com
Horse & Hound
The American College of Veterinary Behaviorists
PetMD
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।