এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসালিন ইনস্টিটিউটের গবেষকরা একটি যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন, যেখানে তাঁরা ক্লাসিক্যাল সোয়াইন ফিভার (CSF) নামক অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে শূকরদের সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন করে তুলেছেন। এই মারাত্মক ব্যাধি বিশ্বজুড়ে শূকর পালনে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করে, এবং এই অগ্রগতি পশুপালনের স্বাস্থ্য ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধিতে জিন-সম্পাদনার অপার সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। গবেষণা দলটি সিএসএফ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির জন্য অপরিহার্য একটি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে উন্নত জিন-সম্পাদনা কৌশল প্রয়োগ করে।
এই প্রক্রিয়ায়, গবেষকরা ডিএনএজেসি১৪ (DNAJC14) নামক একটি প্রোটিন তৈরির জন্য দায়ী জিনে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনেন, যা ভাইরাসকে শূকরের কোষে বংশবৃদ্ধি করতে বাধা দেয়। এই পরিবর্তনটি কেবল একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যে শূকরদের জিন সম্পাদনা করা হয়নি, তারা ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পর সংক্রমিত হয়েছিল এবং অসুস্থতার সাধারণ লক্ষণ প্রদর্শন করেছিল। এর বিপরীতে, জিন-সম্পাদিত শূকরগুলি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল এবং সংক্রমণের কোনো চিহ্ন দেখায়নি, এমনকি তাদের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি বা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি।
রসালিন ইনস্টিটিউটের গবেষক ডাঃ সাইমন লিলিকে উল্লেখ করেছেন যে এই গবেষণা পশুপালনে জিন-সম্পাদনার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনাকে তুলে ধরে, যা প্রাণী স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং টেকসই কৃষিতে সহায়তা করতে পারে। এই জেনেটিক পরিবর্তন প্রাণীদের স্বাস্থ্য বা বিকাশের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি বলে মনে করা হচ্ছে, এবং গবেষকরা বিশ্বাস করেন যে এই শূকরগুলি অন্য প্রাণীর মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনাও কম। ডাঃ হেলেন ক্রুক, অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ এজেন্সির (APHA) একজন সহযোগী, এই ফলাফলকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেছেন।
ক্লাসিক্যাল সোয়াইন ফিভার বিশ্বব্যাপী শূকর শিল্পের জন্য একটি বিশাল অর্থনৈতিক বোঝা। এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকায় এই রোগ বিশেষত মারাত্মক প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৮ সালে এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস এবং নিকারাগুয়ায় শুধুমাত্র মৃত্যুহার ও অসুস্থতা থেকে বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমান করা হয়েছিল, যা মূলত গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপর প্রভাব ফেলেছিল। অতীতে, ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে নেদারল্যান্ডসে সিএসএফ প্রাদুর্ভাবের ফলে ১০ মিলিয়ন শূকর ধ্বংস করা হয়েছিল এবং মোট খরচ হয়েছিল ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই ধরনের রোগের মোকাবিলায় টিকা এবং নিধন কার্যক্রমের জন্য যে বিপুল ব্যয় হয়, এই নতুন কৌশল তা হ্রাস করার এক আশাব্যঞ্জক পথ দেখাতে পারে।
