ডিজিটাল ইউরোর প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন: ইসিবি এখন রাজনৈতিক অনুমোদনের দিকে মনোনিবেশ করছে

সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) ঘোষণা করেছে যে ডিজিটাল ইউরোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বছরের শেষ প্রেস কনফারেন্সে এই মাইলফলক নিশ্চিত করেন। এই ঘোষণার পর, ইসিবি এখন ইউরোপীয় কাউন্সিল এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন আদায়ের দিকে মনোযোগ সরিয়েছে।

ল্যাগার্ড নিশ্চিত করেন যে অভ্যন্তরীণ দলগুলি ডিজিটাল মুদ্রার ভিত্তিমূলক প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরি করেছে এবং ইসিবি তার দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে। এখন আইন প্রণয়নকারী সংস্থাগুলির দায়িত্ব হলো ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করা এবং এটিকে আইনে রূপান্তরিত করা বা সংশোধন করা। ডিজিটাল ইউরোকে একটি খুচরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা (CBDC) হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, যা নগদ অর্থের পরিপূরক হিসেবে জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য একটি সরকারি ডিজিটাল অর্থ প্রদানের মাধ্যম হবে এবং এর আইনি দর থাকবে।

এই প্রকল্পের কৌশলগত লক্ষ্য হলো ডিজিটাল যুগে ইউরোর প্রাসঙ্গিকতা এবং ইউরোপের আর্থিক সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা। ইসিবি কর্মকর্তাদের মতে, নগদ অর্থের ব্যবহার হ্রাস এবং বেসরকারি ডিজিটাল সম্পদের ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ইউরো আর্থিক ব্যবস্থার জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি নিশ্চিত করতে চায়। প্রাক্তন ইসিবি কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্য পিয়েরো চিপোলোনেও এই প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

ইউরোপীয় কমিশন ২০২৩ সালের ২৮ জুন ডিজিটাল ইউরোর আইনি কাঠামো নির্ধারণের জন্য একটি প্যাকেজ প্রস্তাব করেছিল, যা বর্তমানে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং কাউন্সিলে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। ইসিবি বারবার বলেছে যে ডিজিটাল ইউরো নগদ অর্থকে প্রতিস্থাপন করবে না, বরং পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এই প্রক্রিয়ার গতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনের কারণেও বৃদ্ধি পেয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে CBDC প্রতিষ্ঠা বা প্রচার করা থেকে ফেডারেল এজেন্সিগুলিকে বিরত রাখার নির্দেশ দেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তথ্য অনুযায়ী, যদি আইন প্রণেতারা ২০২৬ সালের মধ্যে বিধিমালা গ্রহণ করেন, তবে পাইলট প্রকল্পগুলি ২০২৭ সালে শুরু হতে পারে এবং ইউরোজোন ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম ইস্যু করার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। প্রস্তুতি পর্ব, যা নভেম্বর ২০২৩ থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত চলেছিল, এর মধ্যে ইসিবি নিয়মাবলীর খসড়া তৈরি করেছে এবং ডিজিটাল ইউরো প্ল্যাটফর্মের জন্য পরিষেবা প্রদানকারীদের নির্বাচন করেছে, যা অবকাঠামো নির্মাণে অগ্রগতির প্রমাণ দেয়। এই পর্যায়ে, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং আইনগত অনুমোদনই এই প্রকল্পের চূড়ান্ত সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

11 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Decrypt

  • European Central Bank

  • Reuters

  • Atlantic Council

  • CNBC

  • International Monetary Fund

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।