মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল করেছে; নতুন আইনের অধীনে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ প্রেসিডেন্টের

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক ৬-৩ রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ব্যাপক আমদানি শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA) এর অধীনে এই ধরনের বিশাল শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার নির্বাহী ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। মার্কিন সংবিধানের বরাত দিয়ে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কর বা শুল্ক আরোপের একচ্ছত্র অধিকার কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। এই রায়টি বর্তমান প্রশাসনের জন্য বাণিজ্য বিরোধের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই প্রতিকূল রায়ের পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দমে না গিয়ে দ্রুত বিকল্প আইনি পথ বেছে নেন। শুক্রবারই তিনি একটি নতুন ঘোষণা দেন যেখানে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারার (Section 122 of the Trade Act of 1974) অধীনে বিশ্বের সব দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়। এর ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার, এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে "সম্পূর্ণ অনুমোদিত এবং আইনত পরীক্ষিত" বলে বর্ণনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১২২ ধারাটি এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করেননি, যা মূলত লেনদেনের ভারসাম্যের ঘাটতি মেটাতে সর্বোচ্চ ১৫০ দিন পর্যন্ত অস্থায়ী শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয়।

মার্কিন বাণিজ্য নীতিতে এমন নাটকীয় পরিবর্তন এবং আইনি লড়াই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে এর প্রভাব ছিল তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার, বিটকয়েনের দাম ৬৮,০০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে, যেখানে বাজার কেবল সাময়িক অস্থিরতা প্রদর্শন করেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা আগে থেকেই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিকল্প আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে ধারণা করেছিলেন, যার ফলে বাজারে বড় কোনো শকিং এফেক্ট বা ধস নামেনি। তবে এই সময়ে 'ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড ইনডেক্স' (Fear & Greed Index) ৯-এ নেমে আসে, যা খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে "চরম আতঙ্ক" বা এক্সট্রিম রিটেইল ফিয়ার নির্দেশ করে।

নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বর্তমানে গভীর বিশ্লেষণ চলছে। ইয়েল বাজেট ল্যাব (Yale Budget Lab) এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং পরবর্তীতে আরোপিত নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কের সম্মিলিত প্রভাবে একটি সাধারণ মার্কিন পরিবারকে বছরে গড়ে অতিরিক্ত ১,৩১৫ ডলার ব্যয় করতে হতে পারে। অন্যদিকে, হংকংয়ের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসনের এই ধরনের অননুমেয় সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্যে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্বের IEEPA শুল্ক কোডগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেবে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তির আওতায় কানাডা এবং মেক্সিকো থেকে আসা পণ্যগুলো এই নতুন শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

এই আইনি লড়াই এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। যদিও কংগ্রেসের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করেছে, তবুও প্রেসিডেন্টের বিকল্প আইনি ধারা ব্যবহারের সক্ষমতা বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী দিনগুলোতে এই ১৫ শতাংশ শুল্ক মার্কিন বাজারে মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে কী ধরনের পরিবর্তন আনে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। আইনি অনিশ্চয়তা বজায় থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বাণিজ্য নীতিতে অনড় থাকার সংকেত দিয়েছে, যা বিশ্ববাজারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

9 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Bitcoinist.com

  • RNZ News

  • CBC News

  • MS NOW

  • PBS News

  • The Guardian

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।