উইজ এয়ার ইউকে-র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট পরিচালনার আবেদন: একটি কৌশলগত পদক্ষেপ

লেখক: Tatyana Hurynovich

উইজ এয়ারের ব্রিটিশ শাখা, উইজ এয়ার ইউকে, একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ (DOT)-এর কাছে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিমান পরিষেবা পরিচালনার জন্য আবেদন জানিয়েছে। ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি আইন সংস্থা হল্যান্ড অ্যান্ড নাইট-এর মাধ্যমে এই আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। এতে ব্রিটিশ-মার্কিন ওপেন স্কাই চুক্তির আওতায় নিয়মিত এবং চার্টার উভয় ধরনের যাত্রী ও পণ্যবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এয়ারলাইনটি এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে যাতে তারা যত দ্রুত সম্ভব কার্যক্রম শুরু করতে পারে। প্রাথমিকভাবে তারা চার্টার যাত্রী পরিষেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যা মূলত বাজার যাচাই করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে যাতে পরবর্তীতে নিয়মিত ফ্লাইট শুরুর আগে নতুন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করতে না হয়।

এই সিদ্ধান্তটি কোম্পানির পূর্ববর্তী অবস্থানের একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ২০২৩ সালে উইজ এয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) ইয়োসেফ ভারাদি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক বা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়া ফ্লাইটগুলোর অর্থনীতি তাদের আল্ট্রা-লো-কস্ট মডেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সংকুচিত হওয়ার পর এই নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল ও রুক্ষ আবহাওয়ায় ইঞ্জিনের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির কারণে তারা আবুধাবি বেস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তাদের এই নতুন পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো এয়ারবাস A321XLR মডেলের বিমান। বর্তমানে তাদের বহরে তিনটি এই ধরনের বিমান রয়েছে, যদিও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রাগে একটি 'টেইল স্ট্রাইক' বা লেজ মাটিতে ঘষটে যাওয়ার দুর্ঘটনার কারণে একটি বিমান বর্তমানে মেরামতের অধীনে রয়েছে।

প্রযুক্তিগতভাবে এয়ারবাস A321XLR বিমানটি এই সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই সরু বডির বিমানগুলো আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম এবং কম ঘনত্বের রুটের জন্য আদর্শ। উইজ এয়ার গ্রুপের কাছে আরও দুটি A321XLR বিমান রয়েছে যা বর্তমানে অন্যান্য বিমানের ইঞ্জিনের প্রয়োজনে 'ডোনার' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে কোম্পানিটি তাদের A321XLR বিমানের অর্ডার ৪৭টি থেকে কমিয়ে ১১টিতে নামিয়ে এনেছে এবং বাকি ৩৬টি অর্ডারকে স্ট্যান্ডার্ড A321neo মডেলে রূপান্তর করেছে। এটি নির্দেশ করে যে তারা দীর্ঘ পাল্লার এই মডেলটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এবং নির্দিষ্ট কিছু রুটে ব্যবহার করতে চায়।

আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জটিলতা। উইজ এয়ার ইউকে হলো লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ডব্লিউএ হোল্ডিংস (WA Holdings)-এর একটি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ডব্লিউএ হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান উইলিয়াম ফ্রাঙ্কে একজন মার্কিন নাগরিক, যা মার্কিন পরিবহন বিভাগের কঠোর মালিকানা নীতি থেকে অব্যাহতি পেতে একটি শক্তিশালী যুক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। ফ্রাঙ্কে ২০১৩ সাল থেকে ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ইন্ডিগো পার্টনারসের মাধ্যমে আল্ট্রা-লো-কস্ট ক্যারিয়ার (ULCC) মডেলের একজন অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে মালবাহী বা কার্গো অপারেশনের জন্য উইজ এয়ারের একটি আবেদন পাইলট ইউনিয়নগুলোর আপত্তির কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। বর্তমান আবেদনের প্রেক্ষিতে অব্যাহতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এবং স্থায়ী অনুমতির বিষয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে। এই পদক্ষেপটি মূলত আটলান্টিক রুটে আল্ট্রা-লো-কস্ট মডেলের কার্যকারিতা পরীক্ষার একটি নতুন প্রয়াস, যেখানে তারা A321XLR-এর প্রযুক্তিগত সুবিধাকে কাজে লাগাতে চায়। তবে প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি জিটিএফ ইঞ্জিনের সমস্যাগুলো এখনো কোম্পানিকে চ্যালেঞ্জের মুখে রাখছে। প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (CFO) ইয়ান ম্যালিনের মতে, এই ইঞ্জিন সংক্রান্ত জটিলতাগুলো ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পুরোপুরি সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

5 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।