
কাশ্মীরে বসন্তের আবাহন: বাদাম উৎসবের সূচনা ও ডাল লেকে টিউলিপ প্যারেডের প্রস্তুতি
সম্পাদনা করেছেন: Irina Davgaleva

শ্রীনগরে বসন্তের আগমন এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সম্প্রতি ঐতিহাসিক বাদামওয়ারি (Badamwari) উদ্যানে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বাদাম উৎসব-২০২৬' (Almond Blossom Festival-2026)-এর উদ্বোধন করেছেন। শীতের জড়তা কাটিয়ে উপত্যকার পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে এই উৎসবটি পালিত হচ্ছে, যেখানে হাজারেরও বেশি প্রাচীন বাদাম গাছ এখন গোলাপি ও সাদা ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে। এই দৃশ্যটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
Бадамвари-এ almond blossom festival-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান Chief Minister Омара Абдул্লার সভাপতিত্বে: কাশ্মীরের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য উদযাপনকারী একটি প্রথা।
কোহ-ই-মারান পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রায় ১৫০ হেক্টর আয়তনের এই বাদামওয়ারি উদ্যানটি অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন বাগান হিসেবে পরিচিত। এ বছর তুলনামূলক উষ্ণ শীত ও ফেব্রুয়ারির নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার কারণে মার্চের শুরুতেই ফুল ফুটতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে গাছগুলো পূর্ণ প্রস্ফুটিত অবস্থায় রয়েছে। ফ্লোরিকালচার বিভাগ বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে; এখানে অতিরিক্ত ৩০০টি নতুন বাদাম গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৫০ কানাল বা ৬.২৫ একর জমিতে একটি ল্যাভেন্ডার বাগান তৈরি করা হয়েছে যা মে-জুন মাস পর্যন্ত পর্যটকদের আকর্ষণ করবে। এছাড়া এখানে সংস্কার করা ঝরনা, হস্তশিল্পের স্টল এবং সেলফি পয়েন্টের পাশাপাশি নার্সিসাস, ড্যাফোডিল, প্যানসি ও আগাম জাতের টিউলিপের মতো নতুন প্রজাতির ফুল যুক্ত করা হয়েছে। জাপানের চেরি ব্লসম বা সাকুরার সাথে তুলনীয় এই দৃশ্যটি কাশ্মীরের নিজস্ব ঐতিহ্যের সাথে মিশে এক অনন্য রূপ ধারণ করেছে। ১০ থেকে ১৪ দিনের এই ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে বর্তমানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
1,8 млн tulips will bloom soon in Шринагаре: Indira Gandhi Memorial Garden is being prepared for opening.
বাদাম উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ১৬ মার্চ শ্রীনগর আরও একটি প্রাকৃতিক বিস্ময়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। এদিন এশিয়ার বৃহত্তম টিউলিপ বাগান হিসেবে পরিচিত 'ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল টিউলিপ গার্ডেন' জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ডাল লেক ও জাবারওয়ান পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত ৩০ হেক্টরের এই বিশাল উদ্যানে প্রায় ১.৮ মিলিয়ন টিউলিপ বাল্ব রোপণ করা হয়েছে। এখানে ডারউইন হাইব্রিড, ট্রায়াম্ফ, লিলি-ফ্লাওয়ার্ড এবং প্যারটসহ ৭০টিরও বেশি প্রজাতির টিউলিপের সমারোহ দেখা যাবে। আধুনিক ড্রিপ ইরিগেশন বা বিন্দু সেচ পদ্ধতির মাধ্যমে এই বিশাল বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মার্চ মাসের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরুতে এখানে পূর্ণ প্রস্ফুটন বা পিক ব্লুম আশা করা হচ্ছে।
কাশ্মীরের এই দুই প্রধান উৎসব যেন প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরা দিয়েছে। একদিকে বাদামওয়ারি উদ্যানের প্রাচীন গাছগুলো উপত্যকাকে সাদা ও গোলাপি মেঘের মতো কোমলতায় ঢেকে দেয়, যার সুগন্ধ ভেজা মাটি ও পাইন বনের ঘ্রাণের সাথে মিশে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। বাতাসের দোলায় এই পাপড়িগুলোর নড়াচড়া প্রাচীন শহরের বুকে এক মায়াবী কুয়াশার বিভ্রম তৈরি করে। অন্যদিকে, টিউলিপ বাগান তার উজ্জ্বল ও সাহসী রঙের বৈচিত্র্য দিয়ে বসন্তের ক্যানভাসকে রাঙিয়ে তোলে। এই দুই বাগানের বৈপরীত্য ও মেলবন্ধন কাশ্মীরের বসন্তকে এক অনন্য পূর্ণতা দান করে।
এই বাগানগুলো বিখ্যাত মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন নিশান্ত বাগ, শালিমার বাগ এবং চাশমে শাহীর খুব কাছেই অবস্থিত। মুঘল আমলের টেরাস, জলধারা এবং ঝরনাগুলো এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে মিলেমিশে এক ঐতিহাসিক ও আধুনিকতার মেলবন্ধন তৈরি করে। সূর্যাস্তের সময় যখন সোনালী আলো বাদাম ও টিউলিপের পাপড়িতে পড়ে, তখন ডাল লেকের জলে সেই রঙিন প্রতিফলন পুরো দৃশ্যটিকে এক স্বর্গীয় রূপ দান করে। এই সতেজ বাতাস ও চারপাশের সৌন্দর্য মানুষকে নতুন জীবনের আশা ও আনন্দ জোগায়, যা প্রতিটি নিঃশ্বাসে অনুভূত হয়।
কাশ্মীরে বসন্ত কেবল একটি ঋতু নয়, এটি প্রকৃতির এক মহোৎসব। বাদাম ফুলের শুভ্রতা থেকে শুরু করে টিউলিপের বর্ণিল সমুদ্র—সব মিলিয়ে উপত্যকা যেন তার শ্রেষ্ঠ সাজে সজ্জিত হয়। দীর্ঘ শীতের পর এই রঙ, সংগীত এবং প্রাণের স্পন্দন প্রমাণ করে যে প্রকৃতি সর্বদা পুনর্জন্মের পথ খুঁজে নেয়। এই উৎসবগুলো কেবল পর্যটনকে সমৃদ্ধ করে না, বরং বিশ্ববাসীর কাছে কাশ্মীরের শান্তি ও সৌন্দর্যের বার্তা পৌঁছে দেয়।
10 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Travel And Tour World
Outlook Traveller
Curly Tales
White World Expeditions
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



