২০২৬ সালেও মাতৃত্বকালীন অবসাদ: অভ্যন্তরীণ চাহিদার চাপ ও সামাজিক আদর্শের সংঘাত

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

২০২৬ সালেও মায়েরা গুরুতর বার্নআউটের সম্মুখীন হচ্ছেন, যা মূলত সময়সূচী সংক্রান্ত সমস্যার চেয়েও তীব্র অভ্যন্তরীণ স্ব-চাহিদা দ্বারা চালিত হচ্ছে। এই চরম ক্লান্তি সামাজিক চাপের ফসল, যেখানে ব্যক্তিগত আত্ম-যত্নের চেয়ে ঘরোয়া দায়িত্ব এবং সন্তান পালনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত মাতৃত্বের আদর্শ চিত্রের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত। এই পরিস্থিতি আধুনিক মাতৃত্বের একটি জটিল বাস্তবতা তুলে ধরে, যেখানে মায়েরা নিজেদের চাহিদা পূরণের সুযোগ পান না।

লেখক ডায়ানা আল আজেম এই সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি 'ফ্লেক্সিমম' নামক একটি অবাস্তব আদর্শের বিপরীতে সময়ের অভাবের বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন—এই আদর্শে মায়েরা নমনীয়, আত্ম-সচেতন এবং ক্ষমতায়িত। আল আজেমের মতে, মূল বাধাটি কেবল অতিরিক্ত কাজের চাপ নয়, বরং মায়ের ভেতরের চরম আত্ম-অস্বীকৃতি। গবেষণায় দেখা গেছে যে উচ্চ আয়ের কর্মজীবী মায়েরা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার সামাজিক চাপের কারণে গুরুতর বার্নআউটের শিকার হন। ২০২২ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী, কর্মজীবী মায়েরা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় দৈনন্দিন জীবনে প্রায়শই বেশি চাপের সম্মুখীন হন।

আল আজেম দৈনন্দিন জীবনে 'মাইক্রোমোমেন্টস' বা ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলিকে আত্ম-যত্নের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন, যেমন একা নিজের পছন্দের গান শোনা। তিনি মাতৃত্বকালীন ক্রোধকে বৈধতা দেন, যা প্রায়শই নিখুঁত অভিভাবকত্বের মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ার অপরাধবোধ এড়াতে দমন করা হয়। মনোবিজ্ঞানীরাও পরামর্শ দেন যে মায়ের রাগ প্রায়শই অপূর্ণ চাহিদা থেকে উদ্ভূত হয় এবং এই অনুভূতিগুলিকে লজ্জা ছাড়াই স্বীকার করা অপরিহার্য।

কার্যকরী মোকাবিলা কৌশলগুলির মধ্যে রয়েছে সহায়ক সহকর্মী গোষ্ঠী বা 'উপজাতি'-এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং দুর্বলতা প্রকাশ করা। এই ভাগ করে নেওয়া অভিজ্ঞতা বিচার থেকে মুক্তি দেয় এবং ব্যক্তিগত পরিচয় পুনরুদ্ধার করা যে সন্তানের কল্যাণের পরিপন্থী নয়, এই ধারণাকে প্রতিহত করে। কিছু মা তাদের ক্রোধ প্রশমিত করতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা স্থান পরিবর্তন করার মতো কৌশল অবলম্বন করেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন, কারণ সমাজ প্রায়শই মায়েদের উপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দেয়। ডায়ানা আল আজেমের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন যে 'সেরা মা'-এর ধারণাটি একটি অসম্ভব স্বপ্ন, এবং নমনীয়তা ও নিজের প্রতি কোমলতা বেঁচে থাকার অপরিহার্য হাতিয়ার। মূল বার্তাটি হলো সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা: কখনও কখনও সবকিছু অর্জন করতে না পারাটাও গ্রহণযোগ্য, যা মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করতে পারে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে আরও শান্ত ও উপস্থিত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারে।

11 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • EL PAÍS

  • Plataforma Editorial

  • Casa del Libro

  • EL PAÍS

  • Magisnet

  • Google Play

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।