ভ্যাটিকান আর্কাইভস: ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ক্রোয়েশীয় ভাষার আন্তর্জাতিক মর্যাদা
সম্পাদনা করেছেন: Vera Mo
ইতিহাসবিদ ও ডোমিনিকান সন্ন্যাসী ডঃ স্টেপান ক্রাসিচ ভ্যাটিকান আর্কাইভস থেকে এমন নথি উদ্ঘাটন করেছেন যা ইঙ্গিত করে যে ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দীতে ক্রোয়েশীয় ভাষা একটি আন্তর্জাতিক মর্যাদা উপভোগ করত। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলি ক্রোয়েশীয় সাহিত্য ভাষার প্রচলিত ইতিহাসকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে বলে ক্রাসিচ মনে করেন। তাঁর গবেষণা অনুযায়ী, ক্যাথলিক চার্চ স্লাভিক জনগণের সাথে যোগাযোগের জন্য ক্রোয়েশীয় ভাষাকে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে বেছে নিয়েছিল, যার ফলস্বরূপ এই ভাষা ইউরোপের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পঠনপাঠনের অন্তর্ভুক্ত হয়। এই তথ্যগুলি ইউনিভার্সিটি অফ স্প্লিটের জার্নাল "ST-OPEN"-এ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ক্রাসিচ তাঁর অনুসন্ধানের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
ডঃ ক্রাসিচের সিদ্ধান্ত ছয়টি মূল নথির উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ভ্যাটিকানের 'কংগ্রেগেশন ফর দ্য প্রোপাগেশন অফ দ্য ফেইথ' (Congregatio de Propaganda Fide) আর্কাইভসে সংরক্ষিত রয়েছে। এই নথিগুলি প্রমাণ করে যে ষোড়শ শতাব্দীতে চার্চ স্লাভিক জনগণের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ক্রোয়েশীয় ভাষাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। গবেষণায় দেখা যায় যে পোপ গ্রেগরি ত্রয়োদশ এবং পোপ অষ্টম আরবান সহ একাধিক পোপ সরাসরি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে এই দুই শতাব্দী ধরে ক্রোয়েশীয় ভাষা সমস্ত স্লাভিক জাতির জন্য সরকারী ভাষা হিসেবে গণ্য হবে।
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলস্বরূপ, ১৫৯৯ সালে পোপের আদেশে জেসুইটরা রোমের কলেজিয়াম রোমানামে 'অ্যাকাডেমি অফ দ্য ইলিরিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ' (Academia linguae Illyricae) প্রতিষ্ঠা করে, যা ক্রাসিচের মতে ক্রোয়েশীয় বৈজ্ঞানিক সাহিত্য ভাষার 'জন্মদিন' হিসেবে চিহ্নিত। এই সময়ে, 'ইলিরিয়ান ভাষা' শব্দটি ইতালিতে সাধারণত ক্রোয়েশীয় ভাষার সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্রোয়েশীয় ভাষা প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পদ্ধতিগতভাবে অধ্যয়নের সুযোগ পায় এবং হিব্রু, গ্রিক, আরবি ও ক্যালডিয়ানের মতো ঐতিহ্যগতভাবে সম্মানিত ভাষাগুলির সমতুল্য মর্যাদায় ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবী মহলে স্থান করে নেয়।
১৬৪৩ সালে পোপ অষ্টম আরবান একটি ডিক্রি জারি করেন, যেখানে ক্রোয়েশীয় ভাষাকে সমস্ত স্লাভিক ভাষার সাধারণ ভাষা হিসেবে মনোনীত করে রোমের বাইরেও অধ্যয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলস্বরূপ, প্যারিস, অক্সফোর্ড এবং ভিয়েনার মতো মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সপ্তদশ শতাব্দীতে এই ভাষাকে তাদের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছিল। পোপ পঞ্চদশ গ্রেগরির ৬ ডিসেম্বর ১৬২২ সালের ডিক্রি ভেনিস প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র ইলিরিয়ান ও আরবি ভাষার শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে। উপরন্তু, পোপ অষ্টম আরবানের ১৬২৩ সালের ডিক্রি অনুসারে হিব্রু, গ্রিক (শাস্ত্রীয় ও কথ্য), আরবি, ক্যালডিয়ান এবং ইলিরিয়ানকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
এই বিশেষ মর্যাদার সময়কালের সরাসরি ফলস্বরূপ, ক্রোয়েশীয় ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, বার্থোল কাশিক (Bartol Kašić)-এর ইনস্টিটিউশনস লিঙ্গুয়ে ইলিরিকে (Institutiones linguae Illyricae) ১৬০৪ সালে রোমে প্রকাশিত হয়েছিল। কাশিককে এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণ রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা ক্রোয়েশীয় ভাষার মান নির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়াকে প্রায় আড়াই শতাব্দী এগিয়ে নিয়ে আসে। এই গবেষণাগুলি ভ্যাটিকান নথিপত্রের ভিত্তিতে রচিত, যা ক্রোয়েশীয় ভাষার বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের উপর নতুন আলোকপাত করেছে, যদিও পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ক্রোয়েশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় এর ব্যবহারকে মন্থর করে দেয়।
উৎসসমূহ
Slobodna Dalmacija
Slobodna Dalmacija
Net.hr
057info
Večernji list
Hrvatski svjetski kongres
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
