আমেরিকার তৈরি টয়োটা মডেলগুলির জাপানে প্রত্যাবর্তন: টয়োটার 'রিভার্স ইমপোর্ট' উদ্যোগ

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

জাপানের বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর কর্পোরেশন সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২০২৬ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি তাদের তিনটি জনপ্রিয় মডেল জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এই পদক্ষেপকে 'রিভার্স ইমপোর্ট' বা বিপরীত আমদানি হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছে সেডান ক্যামরি, এসইউভি হাইল্যান্ডার এবং পূর্ণ আকারের পিকআপ ট্রাক টান্ড্রা। এই গাড়িগুলির উৎপাদন যথাক্রমে কেন্টাকি, ইন্ডিয়ানা এবং টেক্সাসে স্থানীয়ভাবে সম্পন্ন হয়। টয়োটার ভাষ্যমতে, গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদা মেটাতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আমদানি শুল্ক আরোপের মতো অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন। জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ওয়াশিংটন এবং টোকিওর মধ্যে একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, জাপানি গাড়ির ওপর মার্কিন শুল্ক ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ছিল। এর বিনিময়ে জাপানকে মার্কিন অর্থনীতিতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে জাপান আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দেয়—আমদানি করা আমেরিকান গাড়িগুলির জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা হয়, যার অর্থ হলো তারা কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মানদণ্ড গ্রহণ করে নেয়।

ঐতিহাসিকভাবে, জাপানের বাজারে আমেরিকান গাড়িগুলির অংশীদারিত্ব খুবই কম ছিল। এর প্রধান কারণ হিসেবে গাড়িগুলির বিশাল আকার এবং ডানহাতি চালকদের জন্য বাম দিকে স্টিয়ারিং হুইল থাকার বিষয়টি সামনে আসে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে, জাপানে আমেরিকান ব্র্যান্ডের গাড়ির বিক্রয় ছিল মোট আমদানির মাত্র ৭.৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ৯,৫১৭ ইউনিট। তুলনামূলকভাবে, এই সময়ে মার্সিডিজ-বেঞ্জ সেখানে ২৫,০১৫টি গাড়ি বিক্রি করেছিল। তবে, নতুন বৈদ্যুতিক মডেলগুলির আগমনের ফলে আমেরিকান ব্র্যান্ডগুলির প্রতি সামগ্রিক চাহিদা গত বছরের তুলনায় ১৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টয়োটার এই পদক্ষেপ মূলত প্রত্যাশিত বিক্রির পরিমাণের ভিত্তিতে নয়, বরং চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনের একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা। টয়োটার চেয়ারম্যান আকিও টয়োডা পূর্বে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন; উদাহরণস্বরূপ, তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি এমএজিএ টুপি পরে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। একই সঙ্গে, কোম্পানিটি আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন উৎপাদন খাতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনায় একটি নতুন ব্যাটারি কারখানা চালু করেছে। টয়োটার প্রেসিডেন্ট কোজি সাতো আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তারা জাপানে আমেরিকান বাজারজাত মডেলগুলি আনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

যদিও ইয়েনের দুর্বল বিনিময় হারের কারণে আমেরিকান মডেলগুলি জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে, যা এই 'রিভার্স ইমপোর্ট'-এর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবুও, এই পদক্ষেপটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জাপানের পক্ষ থেকে আমেরিকান চালের আমদানি ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি। শুল্ক হ্রাসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর টয়োটা মোটর কর্পোরেশনের শেয়ারের দাম ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

13 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Free Malaysia Today

  • The Japan Times

  • The Economic Times

  • Investing.com

  • Global Newsroom

  • The White House

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।