গাজায় শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের সূচনা: হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতভেদ ও কূটনৈতিক তৎপরতা
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
গাজা উপত্যকার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়টি ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই নতুন ধাপের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি থেকে সরে এসে অঞ্চলটির নিরস্ত্রীকরণ, একটি প্রযুক্তিগত বা টেকনোক্র্যাটিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের দিকে মনোনিবেশ করা। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে 'ন্যাশনাল কমিটি ফর গাজা ম্যানেজমেন্ট' (NCGM) বা গাজা ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা মূলত ওই অঞ্চলের বেসামরিক পরিষেবাগুলোর দায়িত্ব পালন করবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন উপমন্ত্রী আলী শাত এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তার কার্যক্রম তদারকি করবেন জাতিসংঘের প্রাক্তন বিশেষ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ, যিনি বর্তমানে সেখানে উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই নবগঠিত এনসিজিএম (NCGM) ১৫ জন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট বা বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান আলী শাত এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের প্রশাসন "অস্ত্রের বদলে মেধা" ব্যবহারের নীতিতে বিশ্বাসী এবং তারা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে তাদের কাজের সমন্বয় করবে না। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের শর্তটি। হামাস এমনকি তাদের হালকা অস্ত্রশস্ত্র সমর্পণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে যে, নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে এর জন্য "গুরুতর পরিণতি" ভোগ করতে হতে পারে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৮টি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি রাফাহ এলাকায় আইডিএফ-এর একটি ট্যাংকে হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৫ জানুয়ারি থেকে ইসরায়েল পুনরায় বিমান হামলা শুরু করে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তথাকথিত "ইয়েলো লাইন" বা হলুদ রেখার বাইরে সেনা প্রত্যাহার করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।
গাজার এই জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। একদিকে টেকনোক্র্যাটদের মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কারের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অনমনীয় অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং আলী শাতের নেতৃত্বের ওপর, তারা কীভাবে এই অচলাবস্থা নিরসন করে গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যান। তবে নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুটি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
2 দৃশ্য
উৎসসমূহ
اليوم السابع
FDD
Il Riformista
العين الإخبارية
euronews
بوابة الأهرام
NATO News
Doha Forum
Asharq Al-Awsat
EgyptToday
The Washington Post
Reuters
Foundation for Defense of Democracies (FDD)
Time Magazine
The Guardian
IranWire
Al Jazeera
Reuters
Middle East Monitor
Chatham House
Vertex AI Search
Vertex AI Search
Vertex AI Search
Vertex AI Search
U.S. Department of State
Business Today
YouTube
JINSA
U.S. Department of the Treasury
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
