২০৪০ সালের মধ্যে 'শূন্য' নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইইউ থেকে ১.৫ মিলিয়ন ইউরো পেল স্টুটগার্ট বিমানবন্দর

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

স্টুটগার্ট বিমানবন্দর, যা ফ্লুগহাফেন স্টুটগার্ট জিএমবিএইচ (FSG) দ্বারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালিত হয়, তাদের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক অনুদান পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই ঘোষণাটি সামনে আসে, যেখানে জানানো হয় যে AGENDA কনসোর্টিয়ামের আওতায় বিমানবন্দরটিকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ইউরো প্রদান করা হয়েছে। এই বিশাল অংকের তহবিলটি মূলত ইউরোপীয় জলবায়ু, অবকাঠামো এবং পরিবেশ নির্বাহী সংস্থা বা CINEA-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের পরিবেশগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

এই বিশেষ আর্থিক সহায়তাটি বিমানবন্দরের উচ্চাভিলাষী 'STRzero' কৌশল সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৪০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিট-শূন্য নির্গমন বা 'নেট জিরো' অর্জন করা। স্টুটগার্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই সামগ্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মোট প্রায় ৫ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিনিয়োগের একটি প্রধান অংশ ব্যয় করা হবে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড অবকাঠামো আধুনিকীকরণে। বিশেষ করে, টার্মিনাল সংলগ্ন পার্কিং এলাকাগুলোতে উন্নত মানের বৈদ্যুতিক প্রি-কন্ডিশনড এয়ার (PCA) সিস্টেম স্থাপন করা হবে। এর ফলে বিমানগুলো যখন দাঁড়িয়ে থাকবে, তখন তাদের নিজস্ব অক্সিলিয়ারি পাওয়ার ইউনিট (APU) চালানোর প্রয়োজন হবে না, যা সাধারণত প্রচুর পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ এবং শব্দ দূষণ ঘটায়।

পরিবেশগত প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, শুধুমাত্র এই নতুন PCA সিস্টেমটি কার্যকর করার মাধ্যমেই প্রতি বছর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ১,৫০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) নির্গমন কমানো সম্ভব হবে। এই STRzero উদ্যোগটি মূলত FSG-এর একটি বৃহত্তর এবং সুদূরপ্রসারী জলবায়ু পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা বা 'ফেয়ারপোর্ট' (fairport) কোডের অন্তর্ভুক্ত। বিমানবন্দরটি ইতিমধ্যেই একটি সাহসী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে তারা ১৯৯০ সালের নির্গমন মাত্রার তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের নিজস্ব কার্যক্রম (স্কোপ ১ এবং ২) থেকে নির্গমন ৮৫% হ্রাস করার পরিকল্পনা করেছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অ্যাসোসিয়েশন বা ACI Europe-এর নেট-জিরো উদ্যোগের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে।

ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট ফর সোলার এনার্জি সিস্টেমস-এর কারিগরি সহায়তায় তৈরি করা 'এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট মাস্টার প্ল্যান'-এর অধীনে বিমানবন্দরটি তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও নজর দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে তারা তাদের নিজস্ব সৌর শক্তি উৎপাদন বর্তমানের তুলনায় দশ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি করবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই PCA প্রকল্পটি কেবল স্টুটগার্টেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভিয়েনা, মিলান, কোলন/বন, গ্রাজ এবং কোশিসের মতো ইউরোপীয় অংশীদার বিমানবন্দরগুলোর সাথে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ইউরোপীয় বিমান চলাচল শিল্পকে সামগ্রিকভাবে কার্বনমুক্ত করার পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উলরিখ হেপ্পে এই অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, নিম্ন-নির্গমন প্রযুক্তিতে সুনির্দিষ্ট এবং লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি মূলত তাদের STRzero কৌশলের বাস্তবসম্মত দিকটিকেই প্রমাণ করে। এর পাশাপাশি, জার্মানি সরকারের আর্থিক সহায়তায় 'finalise!' নামক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বহরকে পুরোপুরি বিদ্যুতায়িত করা। এর আওতায় একটি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক রিফুয়েলিং ট্রাকও চালু করা হবে। উল্লেখ্য যে, স্টুটগার্ট বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই তাদের যাত্রীবাহী বাস এবং মালামাল বহনের ট্রাক্টরগুলোকে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক যানে রূপান্তরিত করেছে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো অ্যাপ্রন এলাকাকে সম্পূর্ণ নির্গমনমুক্ত করা।

এই সামগ্রিক আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে PCA সিস্টেম স্থাপনের প্রকল্পটি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। এটি ২০৪০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য নির্গমনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। এই ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে স্টুটগার্ট বিমানবন্দর কেবল তাদের পরিবেশগত দায়বদ্ধতাই পালন করছে না, বরং ইউরোপের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং টেকসই বিমানবন্দর হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে। এটি ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব বিমান চালনা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

12 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • World Airnews

  • Stuttgart Airport

  • Stuttgart Airport

  • European Climate, Infrastructure and Environment Executive Agency

  • Skytanking

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।