২০২৫ সালের ২৮শে ডিসেম্বর, কোসোভোর জনগণ দ্বিতীয়বারের মতো সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে দেশকে আচ্ছন্ন করে রাখা প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা দূর করা। এই অচলাবস্থা শুরু হয়েছিল কারণ ৯ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক পক্ষই কার্যকর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। দেশটি প্রায় এক বছর ধরে কার্যকর সরকারবিহীন অবস্থায় থাকায় রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং ইউরোপের নবীনতম রাষ্ট্রের অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই জরুরি নির্বাচনের ডাক আসে প্রেসিডেন্ট ভজোসা ওসমানীর নির্দেশে, যখন পূর্ববর্তী অচলাবস্থা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল। স্পিকার নির্বাচনের জন্য ৫০টিরও বেশি ভোটাভুটি এবং সাংবিধানিক আদালতের রায়ের প্রয়োজন হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ ২৫শে আগস্ট, ২০২৫-এ ভেটেভেন্ডোসজে (LVV) দলের দিমালজ বাশা স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে, সরকার গঠনে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে, প্রেসিডেন্ট ওসমানী ২০শে নভেম্বর, ২০২৫-এ অ্যাসেম্বলি ভেঙে দিয়ে এই নির্বাচনের আহ্বান জানান। রাজনৈতিক স্থবিরতার কারণে ২০২৬ সালের বাজেট অনুমোদিত হয়নি, যা দেশটির ২ মিলিয়ন মানুষের দুর্বল অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
এই অচলাবস্থার কারণে কোসোভো ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের ঋণ চুক্তি অনুমোদন করতে পারেনি, যা দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কিছু সহায়তা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রভাব ফেলবে। ভেটেভেন্ডোসজে (LVV) দলের নেতা এবং তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রায় ৪২% ভোট পেয়েছিলেন, কিন্তু সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট থেকে পিছিয়ে ছিলেন।
বিরোধী দলগুলো, যেমন কেন্দ্র-ডানপন্থী জোট (পিডিকে, এলডিকে, এএকে), কুর্তির বিরুদ্ধে পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করা এবং উত্তরের পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের অভিযোগ এনেছে। কুর্তি তার প্রচারে বার্ষিক ১ বিলিয়ন ইউরো মূলধন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই বছর দুটি জাতীয় নির্বাচন এবং একটি স্থানীয় ভোট মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ওসমানীর মেয়াদ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হবে, যার আগে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা আবশ্যক, অন্যথায় আরও একটি জরুরি নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরতান মুহাকিরি এই নির্বাচনকে এক বছরের অচলাবস্থার পরে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটিকে কোসোভোর সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। দেশের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার প্রবাহ বজায় রাখার জন্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কার্যকরী সরকার গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।



