আর্জেন্টিনার সিনেটে মাইলির শ্রম আধুনিকীকরণ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

আর্জেন্টিনার সিনেট, শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ তারিখে, প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলির বহুল আলোচিত শ্রম আধুনিকীকরণ আইনটি অনুমোদন করেছে। এই অনুমোদন দেশটির শ্রম সম্পর্ক, নিয়োগ পদ্ধতি এবং ধর্মঘটের অধিকারের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছে। সিনেটে এই বিলের পক্ষে ৪২টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে ছিল ২৮টি এবং দুটি ভোট বিরত ছিল, যার মাধ্যমে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। এই আইনি পদক্ষেপটি মাইলির মুক্ত-বাজার এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের ঐতিহ্যগত শ্রমিক-বান্ধব নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।

এই সংস্কার প্যাকেজটি শ্রম ব্যবস্থার কাঠামোকে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রভাবিত করা আইনি ব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য রাখে। আইনটির মূল পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে নিয়োগের নিয়ম শিথিল করা, ছুটির ব্যবস্থা পরিবর্তন করা এবং ধর্মঘটের অধিকারের উপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা, বিশেষত অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলিতে ন্যূনতম কার্যক্রম বজায় রাখার শর্ত আরোপ করে। আইনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মদিবস সম্প্রসারণের সুযোগ, যেখানে স্বেচ্ছামূলক 'ঘণ্টা ব্যাংক' ব্যবস্থার মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড দৈনিক কাজ আট ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা করা যেতে পারে, তবে এর জন্য অতিরিক্ত মজুরি দিতে হবে না। উল্লেখযোগ্যভাবে, নিম্নকক্ষ কর্তৃক সংশোধিত একটি ধারা, যা আঘাত বা অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীদের বেতন অর্ধেক করার বিধান করেছিল, তা সিনেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বাদ দেওয়া হয়।

সরকার আশা করছে যে এই আইনটি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বাড়াতে, আমলাতন্ত্র কমাতে এবং শ্রম মামলা মোকদ্দমার হার কমাতে সাহায্য করবে, যা দেশটির অর্থনীতিতে একটি বড় সমস্যা। অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে, মাইলির প্রশাসন কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) বিনিময় হার স্থিতিশীল করা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রশংসা করেছে। যদিও জানুয়ারি ২০২৬-এ মাসিক মুদ্রাস্ফীতি ২.৯ শতাংশে নেমে এসেছিল, তবে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি তখনও ৩২.৪ শতাংশে ছিল। এই সংস্কারের সমর্থকরা যুক্তি দেন যে পরিবর্তনগুলি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অপরিহার্য।

তবে, শ্রম ইউনিয়নগুলি, যার মধ্যে জেনারেল কনফেডারেশন অফ লেবার (CGT) অন্যতম, দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে এই সংস্কার পেরোনিজম উত্থানের পর থেকে তৈরি হওয়া শ্রমিক সুরক্ষার ভিত্তি দুর্বল করে দেবে। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সের্জিও এমিলিওজ্জি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে এই আইনটি আসলে চাকরি সৃষ্টির পরিবর্তে সহজে কর্মী ছাঁটাই করার সুযোগ করে দেবে। শ্রম আইন বিশেষজ্ঞরা এই বিলটিকে 'অসাংবিধানিক' বলেও অভিহিত করেছেন, কারণ এটি কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অধিকারের উপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রায় ৪৩ শতাংশের বেশি কর্মীকে প্রভাবিত করা বিশাল অনানুষ্ঠানিক কর্মীবাহিনীকে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে আসা, যেখানে কর্মীদের কোনো আইনি সুরক্ষা থাকে না।

সংস্কারের ফলে সৃষ্ট সামাজিক উত্তেজনা স্পষ্ট ছিল, কারণ সিনেটে চূড়ান্ত ভোটের ঠিক আগে, ইউনিয়ন এবং বিরোধী দলগুলির দ্বারা আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছিল। এই আইনটি কার্যকর হওয়ার জন্য সরকারের অভিপ্রায় হলো মার্চ ১, ২০২৬-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে বলবৎ করা। এই ঐতিহাসিক আইনি পদক্ষেপটি আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি গভীর রূপান্তরকে চিহ্নিত করে, যা দেশটির শ্রম বাজারের গতিশীলতা এবং সামাজিক বিভাজন উভয়কেই প্রভাবিত করবে।

1 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Al Jazeera Online

  • Today News - Mint

  • AP News

  • Investing.com

  • Reuters

  • The Guardian

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।