মার্কিন শুল্ক ফেরত ব্যবস্থার সূচনা: হাজার হাজার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণের জন্য ভিড় করছে

সম্পাদনা করেছেন: lee author

মার্কিন শুল্ক ফেরত ব্যবস্থার সূচনা: হাজার হাজার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণের জন্য ভিড় করছে-1
যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত শুল্কগুলোর পেমেন্ট ফেরত দেবে।

ওয়াশিংটন, ২০ এপ্রিল, ২০২৬: মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) আজ তাদের নতুন ইলেকট্রনিক পোর্টাল 'কনসোলিডেটেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড প্রসেসিং অফ এন্ট্রিজ' বা সংক্ষেপে CAPE-এর প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করেছে। আজ সকাল ৮:০০ টা (পূর্ব উপকূলীয় সময়) থেকে আমদানিকারক কোম্পানিগুলো ইন্টারন্যাশনাল এমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)-এর অধীনে পূর্বে আদায়কৃত শুল্ক ফেরত পাওয়ার জন্য তাদের আবেদন জমা দিতে পারছেন।

এই নতুন ব্যবস্থাপনাটি মূলত অটোমেটেড কমার্শিয়াল এনভায়রনমেন্ট (ACE) পোর্টালের একটি অংশ হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে আমদানিকারক এবং কাস্টমস ব্রোকাররা এখন প্রতিটি চালানের জন্য আলাদাভাবে কাগজ জমা দেওয়ার পরিবর্তে একটি সমন্বিত 'CAPE ডিক্লারেশন' ব্যবহার করতে পারছেন। সিবিপি-র ঘোষণা অনুযায়ী, যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে যোগ্য আবেদনকারীরা তাদের মূল অর্থের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুদসহ এককালীন অর্থ ফেরত পাবেন।

এই বিশাল অর্থ ফেরতের নেপথ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগান্তকারী রায়। আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময়ে IEEPA আইনের অধীনে আরোপিত ব্যাপক শুল্ককে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছিল। হিসাব অনুযায়ী, এই খাতের মোট ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন থেকে ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রথম ধাপের এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই প্রায় ৫৬,৪৯৭ জন আমদানিকারক ১২৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ ফেরতের দাবি পেশ করার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন।

সিস্টেমটি চালু হওয়ার প্রথম মুহূর্ত থেকেই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়তে থাকে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্টালটি উন্মুক্ত করার সাথে সাথেই হাজার হাজার কোম্পানি তাদের দাবি পেশ করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তবে বিশাল ডাটাবেজ এবং ফাইল আপলোডের চাপের কারণে কিছু সাময়িক কারিগরি ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সিবিপি নিশ্চিত করেছে যে, কোনো বড় ধরনের বিভ্রাট ছাড়াই সিস্টেমটি সচল রয়েছে এবং প্রথম ধাপে প্রধানত সেইসব চালান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেগুলোর হিসাব এখনও চূড়ান্ত (unliquidated) হয়নি বা আবেদনের ৮০ দিনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে।

আবেদন পরবর্তী ধাপগুলো সম্পর্কে সিবিপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, একবার ডিক্লারেশন গ্রহণ করা হয়ে গেলে সাধারণত পরবর্তী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে জটিল নথিপত্র বা অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা কিছুটা বর্ধিত হতে পারে।

নীতিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র নথিভুক্ত আমদানিকারক (importers of record) বা তাদের মনোনীত কাস্টমস ব্রোকাররাই এই আবেদন করার সুযোগ পাবেন। যেহেতু এই শুল্কগুলো কোম্পানিগুলো সরাসরি পরিশোধ করেছিল, তাই সাধারণ খুচরা ক্রেতা বা ভোক্তাদের এই পোর্টাল ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। ফেরত দেওয়া সমস্ত অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটির প্রেক্ষাপট মূলত ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আরোপিত কিছু শুল্ক পদক্ষেপের সাথে জড়িত, যা পরবর্তীতে আদালতের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এটি চীনের ওপর আরোপিত বহুল আলোচিত 'সেকশন ৩০১' শুল্ক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি বিষয়। চীনের পণ্যের ওপর আরোপিত সেই শুল্কগুলো এখনও বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির অধীনে বহাল রাখা হয়েছে বা পরিবর্তিত হয়েছে।

ব্যবসায়িক মহলে এই পদক্ষেপটি ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে যারা বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল, সেইসব বড় রিটেইল কোম্পানিগুলো আদালতের রায় কার্যকর করার এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। অনেক কোম্পানি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই তাদের সমস্ত নথিপত্র প্রস্তুত করে রেখেছিল যাতে সিস্টেম চালুর প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করা যায়।

সিবিপি জানিয়েছে যে, এটি CAPE সিস্টেমের প্রথম পর্যায় মাত্র এবং ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। তবে বিশাল অংকের এই অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ হতে পারে এবং এর জন্য চলমান প্রশাসনিক ও আইনি সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Tariff refund system launches as thousands of companies file claims

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।