নাসার আর্টেমিস II মিশনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়ের ব্যবধানে চাঁদের চারপাশে মানববাহী প্রথম প্রদক্ষিণ অভিযান হবে। এই ঐতিহাসিক মিশনের জন্য মহাকাশযান ও রকেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে, এবং চার সদস্যের ক্রু তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মহাকাশচারীরা হিউস্টনে শুক্রবার, জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ তারিখে তাদের প্রথাগত দুই সপ্তাহের স্বাস্থ্য স্থিতিশীলতা কর্মসূচিতে বা কোয়ারেন্টাইনে প্রবেশ করেছেন, যা উৎক্ষেপণের সময়সূচি বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই মিশনের হার্ডওয়্যার, অর্থাৎ এসএলএস (স্পেস লঞ্চ সিস্টেম) রকেট এবং ওরিয়ন ক্যাপসুল, জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ তারিখে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯বি-তে স্থাপন করা হয়েছে। আর্টেমিস II মিশনটি ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৬ তারিখের আগে উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত, যা ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর প্রথম মনুষ্যবাহী চন্দ্র অভিযান হবে। এই অভিযানে নাসার মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার), ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট), এবং ক্রিস্টিনা কচ (মিশন বিশেষজ্ঞ), এবং সিএসএ (কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি) মহাকাশচারী জেরেমি হ্যান্সেন (মিশন বিশেষজ্ঞ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ভিক্টর গ্লোভার হবেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি যিনি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে যাবেন, ক্রিস্টিনা কচ হবেন প্রথম নারী, এবং জেরেমি হ্যান্সেন হবেন প্রথম কানাডিয়ান যিনি এই ধরনের অভিযানে অংশ নেবেন।
The next humans to travel around the Moon just entered quarantine. It’s a quiet step, but a consequential one, marking the final stretch before Artemis II, humanity’s first crewed mission beyond Earth orbit in more than 50 years. Follow the blog: nasa.gov/blogs/artemis/
কোয়ারেন্টাইন পর্বটি মহাকাশচারীদের অসুস্থতা থেকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রথাগত সতর্কতা, কারণ বেশিরভাগ সংক্রামক রোগের সংক্রমণ হতে ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। ক্রুরা হিউস্টনের নিল এ. আর্মস্ট্রং অপারেশনস অ্যান্ড চেকআউট বিল্ডিং-এর মহাকাশচারী কোয়ার্টার্সে অবস্থান করছেন এবং উৎক্ষেপণের দিন পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন। যদিও তারা বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারবেন, তবে জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং মাস্ক পরার মতো নির্দেশিকা মেনে চলা মিশনের সময়সূচি বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উড্ডয়নের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ যাচাই প্রক্রিয়া হলো 'ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল' (WDR), যেখানে ক্রু ছাড়াই এসএলএস রকেটকে পুরোপুরি তরল প্রপেল্যান্টে পূর্ণ করা হবে। এই মহড়াটি লঞ্চ কাউন্টডাউন অনুশীলন করবে এবং গ্রাউন্ড সিস্টেমগুলির জ্বালানি গ্রহণ ও অপসারণের প্রক্রিয়া পরীক্ষা করবে। প্রকৌশলীরা প্যাড প্রস্তুতিতে সময়সূচির চেয়ে এগিয়ে থাকার কথা জানিয়েছেন, যার ফলে জানুয়ারী ৩১, ২০২৬, রাত ৯টা ইটি-তে সিমুলেটেড কাউন্টডাউন সম্ভব হতে পারে। এই প্রায় ১০ দিনের ফ্লাইটে, ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের চারপাশে একটি ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করবে এবং এর জীবনধারণ, নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করবে।
আর্টেমিস কর্মসূচির সামগ্রিক লক্ষ্য হলো চাঁদে প্রথম নারী ও প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে অবতরণ করানো, চন্দ্রপৃষ্ঠ অন্বেষণ করা এবং ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানের ভিত্তি স্থাপন করা। এই মিশনের সাফল্য আর্টেমিস III-এর পথ সুগম করবে, যার লক্ষ্য এই দশকের শেষের দিকে মহাকাশচারীদের চাঁদে অবতরণ করানো। ওরিয়ন মহাকাশযানটির নাম ক্রু কর্তৃক 'ইন্টিগ্রিটি' রাখা হয়েছে। সফলভাবে মিশন সম্পন্ন হলে, ক্রুরা উৎক্ষেপণের প্রায় ছয় দিন আগে হিউস্টন থেকে কেনেডি স্পেস সেন্টারে স্থানান্তরিত হবেন এবং সেখানে কোয়ারেন্টাইন চালিয়ে যাবেন।
