টাইপ ২ ডায়াবেটিসে গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক আলোর প্রভাব: গবেষণার ফলাফল

সম্পাদনা করেছেন: Maria Sagir

২০২৫ সালের শেষের দিকে সেল মেটাবলিজম (Cell Metabolism) জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা টাইপ ২ ডায়াবেটিস (T2D) আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উপর প্রাকৃতিক সূর্যালোকের তাৎক্ষণিক ও ইতিবাচক প্রভাবের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। এই আবিষ্কারটি ইঙ্গিত দেয় যে, দীর্ঘ সময় ধরে কৃত্রিম আলোর সংস্পর্শে থাকার বিপরীতে, মাত্র কয়েক দিনের জন্য প্রাকৃতিক আলোতে কাটানো সময় এই দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।

এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী দল পরিচালনা করেছিল, যার মধ্যে জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় (UNIGE), মাস্ট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মান ডায়াবেটিস সেন্টার (DDZ)-এর বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ক্রস-ওভার গবেষণায় ১৩ জন ৬৫ বছরের বেশি বয়সী T2D রোগী অংশগ্রহণ করেন। এই স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথমে চার দিন প্রাকৃতিক দিনের আলোতে এবং পরবর্তীতে সমপরিমাণ সময় ধরে একটানা কৃত্রিম আলোর অধীনে ছিলেন। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ এবং ঘুমের সময়সূচী সহ অন্যান্য সমস্ত প্যারামিটার কঠোরভাবে একই রাখা হয়েছিল, যা ফলাফলের ব্যক্তিগত ভিন্নতা হ্রাস করতে সহায়ক হয়েছিল।

পরিমাণগত তথ্যগুলি স্পষ্ট উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শে থাকাকালীন অংশগ্রহণকারীরা তাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কাঙ্ক্ষিত সীমার মধ্যে প্রায় ৫৯% সময় ধরে রাখতে সক্ষম হন, যেখানে কৃত্রিম আলোর অধীনে এই হার ছিল প্রায় ৫১%। যদিও ১০ জন অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে ক্রমাগত গ্লুকোজ মনিটরিং (CGM) দ্বারা পরিমাপ করা গড় গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণ পরিসংখ্যানগতভাবে ভিন্ন ছিল না (৭.৪ mmol/L বনাম ৭.৮ mmol/L), স্বাভাবিক সীমার (৪.৪–৭.২ mmol/L) মধ্যে থাকার মোট সময় প্রাকৃতিক আলোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল (৫০.৯% বনাম ৪৩.৩%)।

গবেষণার সহ-লেখক এবং জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শারনা ডিবনার এই বিষয়ে আলোকপাত করেন, যিনি সার্কাডিয়ান অসিলেটরগুলির আণবিক প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করেন। তিনি শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে বাহ্যিক পরিবেশের সাথে সমন্বয় করার গুরুত্বের উপর জোর দেন। মাস্ট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুরিস হুকস এই গবেষণার সহ-নেতৃত্ব দেন। এটিই প্রথম গবেষণা যা T2D রোগীদের মধ্যে গ্লাইসেমিয়া এবং ২৪-ঘণ্টার সাবস্ট্রেট মেটাবলিজমের উপর অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক দিনের আলো এবং সাধারণ কৃত্রিম অফিস পরিবেশের প্রভাবের তুলনা করেছে। অংশগ্রহণকারীরা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হয় একটি বড় জানালার পাশে অথবা কৃত্রিম আলোযুক্ত একটি কক্ষে অফিসে সময় কাটিয়েছেন।

গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শ কেবল গ্লাইসেমিক স্থিতিশীলতা উন্নত করে না, বরং এটি মেটাবলিজমকে চর্বি পোড়ানোর দিকে স্থানান্তরিত করে এবং শরীরের জৈবিক ঘড়িকে পুনরায় সিঙ্ক্রোনাইজ করতে সাহায্য করে, যা সন্ধ্যায় মেলাটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। ডিডিজে-এর অধ্যাপক প্যাট্রিক শ্রাউভেন উল্লেখ করেন যে এই ফলাফলগুলি নির্দেশ করে যে ডায়াবেটিস আক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবকরা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আরও ভালোভাবে সক্ষম হয়েছেন। এই তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা আরও বাড়ে যখন বিবেচনা করা হয় যে আধুনিক মানুষ তাদের সময়ের প্রায় ৯০% বদ্ধ জায়গায় কাটায়, ফলে তারা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক আলো থেকে বঞ্চিত হয়।

প্রাপ্ত ফলাফলগুলি T2D ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সহজ, ব্যয়বিহীন এবং সহজলভ্য হস্তক্ষেপ কৌশল প্রদান করে, যেখানে দিনের আলো সর্বাধিক করার মতো আচরণগত সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক হুকস এটিকে একটি 'সস্তা, সহজ এবং ঝুঁকিমুক্ত' হস্তক্ষেপ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ভিটামিন ডি-এর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা গবেষণার বিপরীতে, এই আবিষ্কারটি বিপাকীয় চক্রের উপর আলোর সরাসরি প্রভাবকে তুলে ধরে। দৈনন্দিন জীবনের পরিস্থিতিতে আরও দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণের জন্য পরবর্তী গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

19 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • lastampa.it

  • Cell Metabolism

  • Vertex AI Search

  • Daijiworld

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।