বেন্নু গ্রহাণু থেকে সংগৃহীত নমুনায় ট্রিপটোফ্যান আবিষ্কার: প্রাণের আদি উপাদান মহাজাগতিক উৎস থেকে আসার তত্ত্বকে জোরালো করল
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
সম্প্রতি বেন্নু গ্রহাণু থেকে পৃথিবীতে আনা নমুনার বিশ্লেষণে একটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড, ট্রিপটোফ্যান, সনাক্ত করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি ২০২২ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে প্রকাশিত হয় এবং জ্যোতির্জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এর আগে কোনো উল্কা বা মহাজাগতিক নমুনায় ট্রিপটোফ্যান কখনও শনাক্ত করা যায়নি। নাসা'র মহাকাশযান ওসিরিস-রেক্স (OSIRIS-REx) কর্তৃক সংগৃহীত এই মাটির ক্ষুদ্র অংশটির ওপর ভিত্তি করেই এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।
Bennu এর নমুনায় ট্রিপটোফ্যান পাওয়া গেছে — আবিষ্কৃত ১৫-তম অ্যামিনো অ্যাসিড, যা এই অনুমানকে নিশ্চিত করে যে গ্রহাণুগুলো জীবন উপাদানগুলোকে প্রাথমিক পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে.
ওসিরিস-রেক্স মহাকাশযানটি ২০২৩ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর ইউটা অঙ্গনে অবতরণ করে পৃথিবীতে নমুনা বহনকারী ক্যাপসুলটি সফলভাবে পৌঁছে দেয়। পৃথিবীতে আনা মোট উপাদানের পরিমাণ ছিল ১২১.৬ গ্রাম। প্রাথমিক বিশ্লেষণে ইতিমধ্যেই ২০টি প্রোটিনোজেনিক অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে ১৪টি এবং পাঁচটি প্রধান নিউক্লিওবেসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গিয়েছিল। ট্রিপটোফ্যান, যা প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং জীবদেহের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তার উপস্থিতি এই ধারণাকে আরও দৃঢ় করে যে সৌরজগতের প্রথম দিকে জীবনের মৌলিক উপাদানগুলি প্রাকৃতিকভাবে মহাকাশে উৎপন্ন হয়েছিল।
নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী হোসে আপোন্তে এই আবিষ্কার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন যে এই ফলাফলটি বি-শ্রেণীর গ্রহাণুগুলির গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠা করে, যার মধ্যে বেন্নু অন্যতম। এই গ্রহাণুগুলি প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে সৌরজগৎ গঠনের সময়কার আদি কার্বনযুক্ত পদার্থ সংরক্ষণ করে রেখেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে ডিএনএ এবং আরএনএ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদানও এই নমুনায় উপস্থিত রয়েছে। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির কেট ফ্রিম্যান অনুমান করেছেন যে বেন্নুর মতো গ্রহাণুগুলি আদি পৃথিবীর জন্য প্রিবায়োটিক উপাদান সরবরাহের ‘ডেলিভারি সার্ভিস’ হিসেবে কাজ করেছিল।
নমুনাগুলির খনিজ বিশ্লেষণ, যার মধ্যে ফসফেট, কার্বনেট এবং সালফেট অন্তর্ভুক্ত, ইঙ্গিত দেয় যে বেন্নুর মূল বস্তুতে, সম্ভবত একটি বরফাবৃত দেহের ভূগর্ভস্থ মহাসাগরে, এই উপাদানগুলি জলীয় পরিবেশে গঠিত হয়েছিল। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডান্টে লরেটার নেতৃত্বে থাকা বিজ্ঞানীরা ডোসোলারি কণা বা ‘প্রি-সোলার গ্রেইনস’ খুঁজে পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে সৌরজগতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পদার্থ এখানে মিশ্রিত হয়েছিল। সাধারণ উল্কাপিণ্ডগুলি পৃথিবীর দূষণের শিকার হলেও, বেন্নু অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা সৌরজগতের রাসায়নিক ইতিহাসকে প্রায় অক্ষত অবস্থায় পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছি।
এই বৈজ্ঞানিক সাফল্য সত্ত্বেও, গবেষকরা সতর্ক থাকতে বলেছেন। ট্রিপটোফ্যান সংক্রান্ত প্রাথমিক সংকেতগুলি অত্যন্ত অল্প পরিমাণ উপাদান থেকে পাওয়া গেছে, তাই আরও স্বাধীন যাচাইকরণের প্রয়োজন রয়েছে। জৈব পদার্থের বিশ্লেষণের পাশাপাশি, বেন্নুর কক্ষপথও গ্রহীয় সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রহাণুটি ২১৮২ সালের সেপ্টেম্বরে পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের ০.০৩৩% সম্ভাবনা বহন করে। নমুনা সফলভাবে পৃথিবীতে আনার পর, ওসিরিস-রেক্স মহাকাশযানটির নাম পরিবর্তন করে ওসিরিস-এপেক্স (OSIRIS-APEX) রাখা হয়েছে এবং এটিকে অ্যাপোফিস গ্রহাণু পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে, যা ২০২৯ সালের এপ্রিলে পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে।
উৎসসমূহ
Diken
Sputnik Türkiye
TRT haber
NASA
CTV News
Reddit
Astrobiology
PNAS
NASA
r/Astronomy
Space.com
NASA
ANDINA
Science Delivered
Proceedings of the National Academy of Sciences
NASA
Astrobiology
NASASpaceFlight.com
SciTechDaily
ResearchGate
Planetary Radio
NASA
NASA
APPEL Knowledge Services
Space
OSIRIS-REx Mission
PNAS
Nature Astronomy
Astrobiology
CNN
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
