এলন মাস্ক SpaceX-এর জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের घोषणा করেছেন: কোম্পানি আধिकारिकভাবে Moon-এ একটি 'স্ব-উন্নয়নশীল শহর' নির্মাণে তাদের প্রধান ফোকাস স্থানান্তর করছে.
ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স তাদের দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ লক্ষ্যমাত্রাগুলোতে একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। সংস্থাটি এখন মঙ্গলে একটি স্বনির্ভর শহর গড়ে তোলার পরিবর্তে চাঁদে দ্রুত একটি স্থায়ী বসতি স্থাপনের দিকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো স্বল্পমেয়াদে লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা, যেখানে চন্দ্রপৃষ্ঠে ঘাঁটি তৈরি করা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে হচ্ছে। মাস্ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মানব সভ্যতার দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। তার মতে, চাঁদে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি আগামী দশ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মঙ্গলের প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে আগেকার হিসাব অনুযায়ী দুই দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
চাঁদের শহরগুলি ও চাঁদে ভ্রমণ কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং একটি নিকট ভবিষ্যৎ।
এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে যাতায়াত ও লজিস্টিক ব্যবস্থার বিশাল পার্থক্য। চাঁদে অভিযানের জন্য প্রতি দশ দিন অন্তর মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা সম্ভব এবং সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র দুই দিন। এর বিপরীতে, মঙ্গলে যাত্রার সুযোগ আসে প্রতি ২৬ মাস অন্তর যখন গ্রহ দুটির অবস্থান অনুকূলে থাকে এবং সেই যাত্রাপথ পাড়ি দিতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগে। যাতায়াতের এই ফ্রিকোয়েন্সি বা ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে চাঁদে অবকাঠামো নির্মাণের গতি অনেক বেশি হবে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মঙ্গলে পাঁচটি মনুষ্যবিহীন স্টারশিপ পাঠানোর যে পূর্বঘোষিত লক্ষ্য ছিল, সেটিকে এখন অগ্রাধিকার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে স্পেসএক্সের চন্দ্রাভিযান পরিকল্পনাটি নাসার 'আর্টেমিস' কর্মসূচির সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এই প্রকল্পের অধীনে স্টারশিপের ওপর ভিত্তি করে একটি হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম (HLS) তৈরির জন্য স্পেসএক্স চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তবে কারিগরি কিছু সীমাবদ্ধতা এবং স্টারশিপ এইচএলএস-এর উন্নয়নে বিলম্বের কারণে নাসার পরিকল্পিত 'আর্টেমিস ৩' মিশন ২০২৮ সালের আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া ওরিয়ন মহাকাশযানের হিট শিল্ড বা তাপ সুরক্ষা কবচ নিয়েও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সম্পদের এই নতুন বণ্টন সত্ত্বেও মাস্ক নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলে উপনিবেশ স্থাপনই তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য। তিনি জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে মঙ্গলে যাওয়ার কার্যক্রম পুনরায় পূর্ণ উদ্যমে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্পেসএক্সের এই নতুন পরিকল্পনাটি তাদের সাম্প্রতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক সংস্থা xAI অধিগ্রহণের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং সংস্থাটি ২০২৬ সালে তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO)-র মাধ্যমে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কক্ষপথে ডেটা সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার জন্য যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা এই আইপিও থেকে আসা অর্থ দিয়ে মেটানো সম্ভব হবে। xAI-এর মতো লোকসানি সংস্থাকে অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্পেসএক্স তাদের স্টারলিংক প্রকল্পের মুনাফাকে মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে কাজে লাগাতে পারবে।
চাঁদে মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্পেসএক্সের চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথেও সম্পর্কিত। আর্টেমিস ৩ মিশনের সফলতার জন্য স্টারশিপকে মহাকাশ কক্ষপথে অন্তত বারো বার জ্বালানি ভরতে হবে, যা নাসার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাসার অ্যারোস্পেস সেফটি অ্যাডভাইজরি প্যানেল (ASAP)-এর মতে, ২০২৮ সালই হবে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সময়সীমা। তাই বর্তমান কারিগরি সক্ষমতা এবং আর্টেমিস প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চাঁদে গুরুত্ব প্রদান করা একটি অত্যন্ত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে চাঁদে স্টারশিপের একটি মনুষ্যবিহীন অবতরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।