বেইজিংয়ে 'প্ল্যানেট' প্রকল্পের মাধ্যমে স্থলজ উদ্ভিদের জিনগত রহস্য উন্মোচনের মহোদ্যোগ
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, বুধবার বেইজিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে 'প্ল্যানেট' (PLANeT) প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ, যা চীনা বিজ্ঞানীদের সাথে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাকে একসূত্রে গেঁথেছে। এই প্রকল্পের বিশালতাকে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া মানব জিনোম প্রকল্পের (Human Genome Project) সাথে তুলনা করা হচ্ছে। 'প্ল্যানেট' প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো স্থলজ উদ্ভিদের প্রধান গোষ্ঠীগুলোর জেনেটিক কোড সম্পূর্ণভাবে উন্মোচন করা, যাতে সমগ্র উদ্ভিদ জগতের একটি নিখুঁত 'জীবনবৃক্ষ' তৈরি করা সম্ভব হয়।
এই মহতী উদ্যোগটি বিজ্ঞানের একটি বিশাল শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৪৫০,০০০ প্রজাতির স্থলজ উদ্ভিদ থাকলেও, তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশেরই কোনো উচ্চ-মানের রেফারেন্স জিনোম নেই। এই তথ্যের অভাব উদ্ভিদ বিবর্তনের ইতিহাস এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বোঝার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেনজেনে অবস্থিত চাইনিজ একাডেমি অফ এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস (CAAS)-এর এগ্রিকালচারাল জিনোমিক্স ইনস্টিটিউট (AGIS) এবং পিকিং ইউনিভার্সিটি এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যেখানে ১৫টি দেশ ও অঞ্চলের গবেষকরা সরাসরি সহযোগিতা করছেন।
প্রকল্পের প্রধান গবেষক ওয়াং লি-র তত্ত্বাবধানে বিজ্ঞানীদের একটি দল পদ্ধতিগতভাবে সেইসব উদ্ভিদ পরিবারগুলোকে বেছে নেবেন যাদের সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনো অপ্রতুল। বিবর্তনীয় রহস্য সমাধানে তারা ক্লোরোপ্লাস্ট, নিউক্লিয়ার এবং মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনোমের মতো আণবিক মার্কার ব্যবহার করে উন্নত ফাইলোজেনেটিক পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত AGIS এই গবেষণায় তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তাদের জিনোম সিকোয়েন্সিং প্ল্যাটফর্ম প্রতি সপ্তাহে ২.৫ টেরাবাইট ডেটা উৎপাদন করতে সক্ষম এবং তাদের কম্পিউটিং সিস্টেম প্রতি সেকেন্ডে ৩৫ ট্রিলিয়ন গাণিতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।
২০২৬ সালে 'প্ল্যানেট' প্রকল্পের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কার্যকর ব্যবহার। বিশাল পরিমাণ জিনোমিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য এআই অ্যালগরিদমগুলোকে ডিএনএ সিকোয়েন্স এবং রেগুলেটরি লজিক শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার জিনোম বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। গবেষকদের আশা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের বিবর্তনীয় সম্পর্ক স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ১০০০টি জৈব-সক্রিয় প্রাকৃতিক উপাদান এবং ১০০টি নতুন অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফসল শনাক্ত করা যাবে।
এই গবেষণার ফলাফল বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খরা ও রোগ-প্রতিরোধী 'ভবিষ্যতের ফসল' উদ্ভাবনের কৌশল তৈরি করা এই প্রকল্পের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। এছাড়াও, জিনোমিক তথ্যগুলো বিলুপ্তপ্রায় এবং জেনেটিক্যালি দুর্বল প্রজাতিগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এটি বিজ্ঞানীদের এবং নীতিনির্ধারকদের আরও কার্যকর প্রকৃতি সংরক্ষণ নীতিমালা তৈরি করতে একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করবে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জীবজগতকে তালিকাভুক্ত করার যে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা চলছে, যেমন 'আর্থ বায়োজিনোম প্রজেক্ট' (EBP), তার মধ্যে 'প্ল্যানেট' প্রকল্প স্থলজ উদ্ভিদের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সিকোয়েন্সিং এবং ফাইলোজেনেটিক পদ্ধতির এই মেলবন্ধন 'ফাইলোজেনোমিক্স' নামক এক নতুন যুগের সূচনা করছে, যা অভূতপূর্ব নির্ভুলতার সাথে বিবর্তনীয় বৃক্ষ পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবে। ২০০৩ সালে সম্পন্ন হওয়া মানব জিনোম প্রকল্পের মতোই, 'প্ল্যানেট'-এর সাফল্য নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ডেটা বিশ্লেষণের আধুনিক প্রযুক্তির ওপর। এটি উদ্ভিদ জগতের গবেষণায় একটি নতুন বৈশ্বিক মানদণ্ড স্থাপন করবে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Телевизия Евроком
Поглед Инфо
CGTN
China Daily
Chinadaily.com.cn
Евроком
China launches megascience project to decode genetic blueprint of land plants
China launches international Plant Planet Project to decode plant genomes - CGTN
Chinese researchers launch global project to explore plants' evolutionary history, unlock genetic assets - Chinadaily.com.cn
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
