দশম জাতীয় অ্যান্টার্কটিক বৈজ্ঞানিক অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তামবুল থেকে ১৭ জন বিজ্ঞানী ও একটি প্রতিনিধিদলের প্রস্থানসহ শুরু হয়েছে।
আন্টার্কটিকায় স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে তুরস্কের দশম বৈজ্ঞানিক অভিযান শুরু
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তুরস্ক প্রজাতন্ত্র তাদের দশম জাতীয় আন্টার্কটিক বৈজ্ঞানিক অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মিশনে মোট ১৭ জন তুর্কি গবেষক এবং একজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করছেন। আঙ্কারার এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর নিবিড় গবেষণা চালানো এবং আন্টার্কটিক চুক্তির অধীনে 'পরামর্শদাতা দেশ' হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা। বর্তমানে হর্সশু দ্বীপকে কেন্দ্র করে এই বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তুরস্কের একটি স্থায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Одна из главных целей экспедиции — получить статус «консультативного государства» в рамках системы Договора об Антарктике и создать постоянную турецкую научно-исследовательскую базу в Антарктиде.
২০১৭ সালে শুরু হওয়া তুরস্কের এই মেরু অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত ১৫০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্রকল্পে তুরস্ক বিশ্বের প্রায় ৩৫টি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংস্থার সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। অভিযানের প্রধান সমন্বয়কারী বুরজু ওজসোয় আন্টার্কটিকাকে একটি "হিমায়িত আর্কাইভ" হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিস্থিতি এবং মডেল তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান মিশনের অন্যতম প্রধান কাজ হলো হর্সশু দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রতলের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করা এবং সেখানে অবস্থিত তুরস্কের বিদ্যমান গবেষণা কেন্দ্রগুলো থেকে আবহাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা।
তুরস্ক মহাদেশটিতে তাদের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং ইতিমধ্যে সেখানে একটি অস্থায়ী বৈজ্ঞানিক স্টেশন স্থাপন করেছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পরিচালিত তৃতীয় অভিযানের সময় এই স্টেশনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। মোট ছয় টন ওজনের তিনটি মডিউল নিয়ে গঠিত এই স্টেশনটি বার্জ, জোডিয়াক বোট এবং হেলিকপ্টারের সহায়তায় দ্বীপে সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবারের মিশনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে টেকনোফেস্ট পোলার রিসার্চ প্রজেক্ট কম্পিটিশনের বিজয়ী তিনজন হাইস্কুল শিক্ষার্থীও অংশ নিচ্ছে। তুর্কি নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় পরিচালিত এই মিশনটি মেরু অঞ্চলে তুরস্কের দীর্ঘমেয়াদী বৈজ্ঞানিক ও কৌশলগত অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
আন্টার্কটিকার এই সফল অভিযানগুলো তুরস্কের ষষ্ঠ আর্কটিক বৈজ্ঞানিক অভিযানের প্রস্তুতির পথও প্রশস্ত করছে। মেরু অঞ্চলে তুরস্কের এই আগ্রহের ঐতিহাসিক ভিত্তি বেশ পুরনো, যা ১৫১৩ সালে অটোমান মানচিত্রকার পিরি রেইসের আঁকা মানচিত্র পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই মানচিত্রে আন্টার্কটিকা সংলগ্ন ভূখণ্ডের প্রাথমিক চিত্র পাওয়া যায়। ১৯৫৯ সালের ১ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত আন্টার্কটিক চুক্তিতে পরামর্শদাতার মর্যাদা পাওয়া বর্তমানে তুরস্কের একটি প্রধান ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য। বর্তমানে চুক্তির ৫৬টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ২৯টির এই বিশেষ ভোটাধিকার বা পরামর্শদাতার মর্যাদা রয়েছে। এই মর্যাদা অর্জনের জন্য কোনো দেশকে সেখানে "উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম" পরিচালনা করতে হয়, যা তুরস্ক এই অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণ করছে।
আন্টার্কটিকার পাশাপাশি তুরস্ক আর্কটিক অঞ্চলেও তাদের কার্যক্রম প্রসারিত করছে। দেশটি ২০১৫ সালে আর্কটিক কাউন্সিলে পর্যবেক্ষক পদের জন্য আবেদন করেছিল এবং "জাতীয় মেরু গবেষণা কৌশল ২০২৩-২০৩৫" প্রণয়ন করেছে। মেরু অঞ্চলের গবেষণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে TÜBİTAK MAM পোলার রিসার্চ ইনস্টিটিউট (KARE) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নৌবাহিনীর নেভিগেশন, হাইড্রোগ্রাফি এবং ওশানোগ্রাফি বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত বাথিমেট্রিক জরিপগুলো মেরু অঞ্চলের প্রতিকূল জলসীমায় নৌ-চলাচল ও লজিস্টিক সহায়তার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সামগ্রিক প্রচেষ্টা তুরস্ককে বিশ্বব্যাপী মেরু গবেষণার মানচিত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
উৎসসমূহ
Hurriyet Daily News
andina.pe
Hürriyet Daily News
İLKHA - Ilke News Agency
OECD Events
Anadolu Agency
Southern Ocean Observing System
SIMA PERÚ
Infobae
Estado Peruano
Wikipedia, la enciclopedia libre
Instituto del Mar del Perú - Imarpe
