২০২৫/২০২৬ মৌসুমের আন্তর্জাতিক ড্রিলিং অভিযান SWAIS2C-এর আওতায় রস সাগরের ক্রারি আইস রাইজে (Crary Ice Rise) সমুদ্রতলের তলানিতে ২২৮ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সাফল্য নির্ধারিত ২০০ মিটারের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে, যা পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফ স্তরের (WAIS) লক্ষ লক্ষ বছরের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস উন্মোচন করতে একটি অমূল্য আর্কাইভ হিসেবে কাজ করবে। এই জটিল অভিযানে স্কট বেস থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এলাকায় ৫২৩ মিটার পুরু বরফের স্তর ভেদ করে তলানিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক।
Progetto SWAIS2C - Completata in Antartide la perforazione per raggiungere la profondità di 228 m, individuando sedimenti risalenti a milioni di anni fa che custodiscono informazioni sul destino della Calotta Glaciale dell’Antartide Occidentale. ➡️buff.ly/yuLeH03
SWAIS2C বা 'সেনসিটিভিটি অফ দ্য ওয়েস্ট অ্যান্টার্কটিক আইস শিট টু ২°সি ওয়ার্মিং' প্রকল্পটি অ্যান্টার্কটিকায় ইন্টারন্যাশনাল কন্টিনেন্টাল সায়েন্টিফিক ড্রিলিং প্রজেক্টের (ICDP) প্রথম উদ্যোগ এবং এটি ANDRILL-এর মতো পূর্ববর্তী সফল প্রোগ্রামগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ইতালি (INGV-এর নেতৃত্বে) সহ দশটি দেশের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এবং ICDP-এর অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফ স্তরের অপরিবর্তনীয় গলনের 'টিপিং পয়েন্ট' বা ফিরে না আসার বিন্দুটি চিহ্নিত করা। বিজ্ঞানীদের মতে, এই বরফ স্তরটি সম্পূর্ণ গলে গেলে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৬৮০ মিলিয়ন মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এই মৌসুমের মাঠ পর্যায়ের কাজগুলো যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন বিংহামটন ইউনিভার্সিটির মলি প্যাটারসন এবং ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েলিংটন ও ইটিএইচ জুরিখের হিউ হোরগান। সংগৃহীত পলি বা সেডিমেন্ট কোরের প্রাথমিক বিশ্লেষণ থেকে অতীতে পৃথিবীর উষ্ণায়নের ফলে পরিবেশগত বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই ভূতাত্ত্বিক প্রমাণগুলো বর্তমান জলবায়ু মডেলগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করতে এবং ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে।
SWAIS2C প্রকল্পটি KIS3 বা ক্যাম্ব আইস স্ট্রিম এলাকাতেও খনন কাজ পরিচালনা করেছে, যেখানে বরফের নিচে ৫৫ মিটার গভীর একটি সমুদ্র গহ্বর বিদ্যমান। তবে ক্রারি আইস রাইজের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন, কারণ এখানে বরফ সরাসরি সমুদ্রতলের ওপর অবস্থান করে। গত দুই মৌসুমের প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে ড্রিলিং সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পর ক্রারিতে এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এই ভূতাত্ত্বিক আর্কাইভে এমন সময়ের পলি জমা থাকতে পারে যখন পৃথিবীর তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়েও বেশি ছিল, যা ভবিষ্যতের জলবায়ু নীতি নির্ধারণ এবং অভিযোজন কৌশল তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের সহ-নেতা রিচার্ড লেভি সহ অন্যান্য গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি স্থিতিস্থাপক বিশ্ব গড়তে এই খনন থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো অপরিহার্য। মাঠ পর্যায়ের এই অভিযানে রোটারি ড্রিলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে ১৩০০ মিটারেরও বেশি ওজনের ড্রিল পাইপ ও ড্রিল স্ট্রিং সমুদ্রের গভীরে নামানো হয়েছিল। ভূতাত্ত্বিক, হিমবাহবিদ্যা এবং ভূ-পদার্থগত তথ্যের এই সমন্বিত বিশ্লেষণ পদ্ধতিটি ভবিষ্যতের উষ্ণায়ন পরিস্থিতিতে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফ স্তরের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে গাণিতিক মডেলগুলোকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভুল করতে সাহায্য করবে।
