স্পিতি উপত্যকায় মহিলা পরিচালিত উদ্যোগ: তুষার চিতা সংরক্ষণ ও বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের ভূমিকা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
হিমালয়ের দুর্গম স্পিতি উপত্যকায় একটি নতুন সংরক্ষণ মডেল প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, যেখানে স্থানীয় মহিলারা দুর্লভ তুষার চিতা বা স্নো লেপার্ড রক্ষায় সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। এই নারীরা, যারা সম্মিলিতভাবে 'শেনমো' নামে পরিচিত, হিমালয়ের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য এই শিকারী প্রাণীর উপর নজরদারি পরিচালনা করছেন। ঐতিহাসিকভাবে গবাদি পশুর জন্য বিপদ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এই মহিলাদের অংশগ্রহণের ফলে স্থানীয় সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় হিমাচল প্রদেশ বন বিভাগ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন (NCF)-এর মতো সংস্থাগুলি সহযোগিতা করছে।
'শেনমো' গোষ্ঠীর প্রায় এক ডজন সদস্যকে অত্যাধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা বন্যপ্রাণীর জনসংখ্যা সমীক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক। এই মহিলারা এখন সংগৃহীত চিত্র বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে শিখেছেন, যা তাদের সাধারণ গ্রামবাসী থেকে সরাসরি বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণ অনুশীলনকারীতে রূপান্তরিত করছে। এই কার্যক্রম বৃহত্তর অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণে সহায়তা করছে, যা সদ্য ঘোষিত কোল্ড ডেজার্ট বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত। এই কাজ শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন; মহিলারা প্রায়শই ১৪,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় হেঁটে ক্যামেরা সাইটগুলি পরীক্ষা করেন, যেখানে পাতলা বাতাসের কারণে চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।
এই উদ্যোগটি মূলত 'শেন' (SHEN) নামক একটি বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ, যা ২০১৩ সালে NCF এবং স্নো লেপার্ড ট্রাস্ট দ্বারা শুরু হয়েছিল; 'শেন' শব্দের অর্থ স্পিতিয়ান ভাষায় 'তুষার চিতা'। 'শেন' প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে একটি মহিলা পরিচালিত হস্তশিল্প সমবায় হিসেবে শুরু হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল স্থানীয় মহিলাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং হস্তশিল্প উৎপাদনের মাধ্যমে আয় বাড়ানো, যা পরোক্ষভাবে গবাদি পশু শিকারের ক্ষতিপূরণ দিত এবং সংরক্ষণে উৎসাহ দিত। যদিও এই উদ্যোগের ব্যবসায়িক মডেলটি পরে বন্ধ হয়ে যায়, তবুও মহিলারা বুনন (knitting)-এর মতো দক্ষতা অর্জন করেন, যা পর্যটকদের কাছে মোজা ও মাফলার বিক্রির মাধ্যমে এখনও আয় বাড়াতে সহায়তা করে। এই অর্থনৈতিক সংযোগ NCF-এর সাথে স্থানীয় মহিলাদের বিশ্বাস-ভিত্তিক সম্পর্ক স্থাপনে সহায়ক হয়েছিল, যা বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগে তাদের আগ্রহ উন্মোচিত করে।
এই মহিলাদের প্রচেষ্টা হিমাচল প্রদেশের রাজ্যব্যাপী তুষার চিতা সমীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, যা রাজ্যটিতে ২০২১ সালের ৫১টি থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৮৩টি চিতার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। কোল্ড ডেজার্ট বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, যা ট্রান্স-হিমালয়ান অঞ্চলে অবস্থিত এবং যার উচ্চতা ৩,৩০০ থেকে ৬,৬০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত, এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। এই সংরক্ষিত অঞ্চলে তুষার চিতা ছাড়াও হিমালয়ান উলফ, তিব্বতি অ্যান্টিলোপ এবং হিমালয়ান আইবেক্সের মতো বিপন্ন প্রজাতিদের আশ্রয়স্থল। এই নারীদের কাজ কেবল ডেটা সংগ্রহ নয়, বরং এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা এই ভঙ্গুর উচ্চ-উচ্চতার বাস্তুতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য। স্থানীয় জ্ঞানকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাথে মেলানোর এই অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি হিমালয়ের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে সংরক্ষণ কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
BBC
BBC News India
Yahoo News Canada
The Logical Indian
Mongabay-India
Jokta Academy
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।