বিড়ালের মানসিক চাপ: অস্বাভাবিক আচরণ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

অনেক পোষ্য মালিকই বিড়ালের কিছু অস্বাভাবিক আচরণকে সাধারণ অভ্যাস ভেবে উপেক্ষা করেন, যেমন অতিরিক্ত লোম চেটে ফেলা বা ঘন ঘন লুকিয়ে থাকা। তবে এই ধরনের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলি প্রায়শই ইঙ্গিত দেয় যে প্রাণীটি গুরুতর মানসিক চাপে ভুগছে এবং তার জন্য অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বিড়ালরা তাদের অস্বস্তি লুকিয়ে রাখতে অত্যন্ত পারদর্শী; কুকুরের মতো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না, তাই এই লুকানো সংকেতগুলি শনাক্ত করা তাদের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

অতিরিক্ত লোম চেটে ফেলা বা ওভারগ্রুমিং একটি প্রধান মানসিক চাপের উপসর্গ, যা সাধারণত পেটের অংশ বা ভেতরের উরুতে বেশি দেখা যায় এবং এর ফলে ত্বকে টাক বা ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। মানসিক চাপজনিত কারণে অতিরিক্ত লোম ঝরে যাওয়া বা সাইকোজেনিক অ্যালোপেশিয়া দেখা দিতে পারে, যার জন্য পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। যদিও বিড়ালের লোম ঝরা ঋতু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, তবে ভয় বা উদ্বেগের কারণেও লোম ঝরতে পারে। এছাড়াও, খাদ্যাভ্যাসের আকস্মিক পরিবর্তন, যেমন খাবার গ্রহণ কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, বিশেষত স্থানান্তরের মতো বড় ধরনের পরিবর্তনের পরে, উদ্বেগের লক্ষণ হতে পারে।

বিড়ালদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বা একাকীত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাঝে মাঝে লুকিয়ে থাকা স্বাভাবিক হলেও, ক্রমাগত অন্ধকার, আবদ্ধ স্থানে নিজেকে গুটিয়ে রাখা ইঙ্গিত দেয় যে প্রাণীটি অভিভূত বোধ করছে। বিড়ালের আচরণগত সমস্যা, যেমন লিটার বক্সের বাইরে প্রস্রাব করা, প্রায়শই মানসিক চাপের ফল; মালিকেরা এটিকে ভুল করে বিদ্বেষপূর্ণ কাজ মনে করেন। তবে, এই ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে প্রথমে অবশ্যই একজন পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে শারীরিক অসুস্থতা বাতিল করতে হবে। লিটার বক্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিড়াল গোপনীয়তার চেয়ে চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার দেখতে পছন্দ করে, তাই আবৃত লিটার বক্স তাদের অপছন্দ হতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনেও অন্তর্নিহিত উদ্বেগ প্রকাশ পায়; বিড়ালটি হয় অস্বাভাবিকভাবে শান্ত হয়ে যেতে পারে অথবা অতিরিক্ত উচ্চস্বরে ডাকতে পারে। সামাজিক আচরণের পরিবর্তন, যেমন হঠাৎ অতিরিক্ত আদরপ্রবণ হয়ে ওঠা বা স্পর্শ এড়িয়ে চলা, সংবেদনশীলতার আরও একটি দিক তুলে ধরে।

বিড়াল পালন মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়াল পালনকারীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি যারা কখনও বিড়াল পালন করেননি তাদের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম। এই প্রাণীগুলির সান্নিধ্য মানুষের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমাতে এবং সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে, যা মনকে শান্ত রাখে। এই ধরনের সূক্ষ্ম লক্ষণগুলি চিহ্নিত করতে পারলে মালিকেরা মূল কারণগুলির সমাধান করতে পারেন, যা সাধারণ রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শের মাধ্যমে হতে পারে। বিড়ালরা তাদের জীবনের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ সময় নিজেদের পরিষ্কার করতে ব্যয় করে, যা তাদের স্বাভাবিক পরিচর্যার অংশ। আমাদের দায়িত্ব হলো এই প্রায়শই উপেক্ষিত সংকেতগুলি ব্যাখ্যা করা যাতে আমাদের বিড়ালরা নিজেদের সুরক্ষিত এবং নিরাপদ মনে করে।

অতিরিক্ত লোম ঝরার ক্ষেত্রে, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব, নিম্নমানের গ্রুমিং পণ্য ব্যবহার, বা পরজীবী যেমন উকুন ও মাইটের উপস্থিতি কারণ হতে পারে। যদি কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা না থাকে, তবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, যেমন বেশি মাছ ও মাংস খাওয়ানো, এবং প্রতিদিন অন্তত একবার ভালো মানের ব্রাশ দিয়ে গ্রুমিং করানো যেতে পারে। নতুন পরিবেশ বা পরিচিত মানুষের অনুপস্থিতি বিড়ালের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার জন্য খেলার মাধ্যমে তাকে ব্যস্ত রাখা প্রয়োজন। বিড়ালরা প্রায় ১০০ ধরনের আলাদা শব্দ করতে পারে এবং মানুষের সাথে যোগাযোগের জন্য তারা মূলত 'মিউ মিউ' শব্দটি ব্যবহার করে। এই তথ্যগুলি মালিকদের তাদের বিড়ালের মানসিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করে, যা তাদের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। এই পদক্ষেপগুলি বিড়ালের মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অস্বাভাবিক আচরণ হ্রাস করতে সহায়ক হবে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Silicon Canals

  • Silicon Canals

  • Spay Neuter Network

  • Animal Clinic of Manda

  • Cornell University College of Veterinary Medicine

  • International Cat Care

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।