২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সানশাইন কোস্টের নিকটবর্তী অঞ্চলে উত্তর বাসিন্দা কিলার হোয়েল বা এনআরকেডব্লিউ-এর একটি দলের বিরল কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করা হয়েছিল। এই তিমিরা সিক্রেট বিচ পার্কের কাছে সৈকতের কাছাকাছি এসে তাদের বিশেষ 'সৈকত ঘর্ষণ' আচরণে লিপ্ত ছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। এই ধরনের আচরণ বিশ্বব্যাপী খুব কম সংখ্যক কিলার হোয়েল জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেখা যায়, তবে এটি মূলত উত্তর বাসিন্দা কিলার হোয়েলদের একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা রায়ান চিলিবেক এই দৃশ্যটি প্রথম রিপোর্ট করেন। বে সাইটোলজির নির্বাহী পরিচালক জ্যারেড টাওয়ার্স নিশ্চিত করেছেন যে পর্যবেক্ষণ করা দলটি এ৫ পডের সদস্য। এই বিশেষ আচরণে তিমিরা তাদের পেট মসৃণ নুড়ি পাথরের উপর ঘষে, যা সম্ভবত ত্বক এক্সফোলিয়েশন, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা, অথবা সংবেদনশীল আনন্দের জন্য করা হয়। জ্যারেড টাওয়ার্স, যিনি সমুদ্রের উপর বছরে ১০০ দিনের বেশি সময় কাটিয়ে কিলার হোয়েল নিয়ে গবেষণা করেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই আচরণটি অত্যন্ত বিশেষায়িত এবং সাধারণভাবে দেখা যায় না। এ৫ পড তিনটি ভিন্ন বংশ নিয়ে গঠিত এবং তারা সানশাইন কোস্টের নুড়ি পাথর পছন্দ করে বলে জানা যায়।
উত্তর বাসিন্দা কিলার হোয়েলদের এই আচরণটি তাদের সামাজিক কাঠামো এবং সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এই প্রাণীগুলির ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায়, পাথরের সাথে ঘষা লাগা তাদের কাছে ম্যাসাজের মতো আরামদায়ক হতে পারে। এই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পাওয়া স্থানীয়দের কাছে এক 'জীবনকালে একবারের মতো' অভিজ্ঞতা ছিল, যেমনটি রায়ান চিলিবেক বর্ণনা করেছেন। এই তিমিগুলি সাধারণত চিনুক স্যামন শিকার করে এবং তাদের খাদ্যাভ্যাস অন্যান্য কিলার হোয়েলদের থেকে আলাদা।
এই ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ সংরক্ষণের জন্য কানাডা সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। রবসন্স বাইট মাইকেল বিগ ইকোলজিক্যাল রিজার্ভের মতো সংরক্ষণ এলাকাগুলি বিশেষভাবে পরিচিত ঘর্ষণ সৈকতগুলিকে মানুষের হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত রাখে। এই সংরক্ষিত অঞ্চলে মোটর চালিত বা অ-মোটর চালিত সকল প্রকার নৌযান প্রবেশ থেকে বিরত থাকার প্রত্যাশা করা হয়, যাতে তিমিদের খাওয়ানো, সামাজিকতা এবং সৈকত ঘর্ষণের সময় বিঘ্ন না ঘটে। রবসন্স বাইট ইকোলজিক্যাল রিজার্ভটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি এনআরকেডব্লিউ-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত।
জ্যারেড টাওয়ার্সের প্রতিষ্ঠান বে সাইটোলজি, উত্তর বাসিন্দা কিলার হোয়েলদের গতিবিধি, আচরণ, প্রাচুর্য এবং বাস্তুসংস্থান নিয়ে গবেষণা করে, যা তাদের সংরক্ষণে সহায়তা করে। এই গবেষণাগুলি দীর্ঘমেয়াদী জনসংখ্যা অধ্যয়নের অংশ, যা প্রয়াত ডঃ মাইকেল বিগ ১৯৭৩ সালে শুরু করেছিলেন। এর ফলে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কিলার হোয়েলদের বিশ্বের অন্য যেকোনো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর চেয়ে বেশি ব্যক্তিগতভাবে অধ্যয়ন করা হয়েছে। যদিও ঘর্ষণ আচরণ গ্রীষ্মকালে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) রবসন্স বাইটে বেশি দেখা যায়, জানুয়ারির শুরুতে সানশাইন কোস্টে এই দৃশ্যটি গবেষক এবং বন্যপ্রাণী উৎসাহীদের জন্য একটি বিশেষ ঘটনা। এই পর্যবেক্ষণগুলি প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এই মাছ-খাদক তিমিরা তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র সামাজিক রীতিনীতি বজায় রেখেছে, যা বৈশ্বিক স্তরে অত্যন্ত বিরল।




