শৈশবে পোষা প্রাণীর সংস্পর্শ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অ্যালার্জি সহনশীলতা বাড়ায়
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলি দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত করে যে শৈশবে কুকুর বা বিড়ালের মতো গৃহপালিত প্রাণীর সঙ্গে বেড়ে ওঠা শিশুদের শারীরিক সুরক্ষাব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য জৈবিক সুবিধা প্রদান করে। এই দৈনন্দিন সংস্পর্শ শিশুদের সাধারণ সংক্রমণের বিরুদ্ধে উন্নত প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে সহায়ক, যা তাদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষার ভিত্তি স্থাপন করে। এই প্রক্রিয়ায়, পোষা প্রাণীর মাধ্যমে বাহিত বিভিন্ন প্রকার অণুজীবের সংস্পর্শে আসার ফলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ তন্ত্র ক্ষতিকারক উদ্দীপক এবং নিরীহ উদ্দীপকের মধ্যে সঠিকভাবে পার্থক্য করতে শেখে। বিশেষজ্ঞরা এই মাইক্রোবিয়াল আদান-প্রদানকে শিশুর রোগ প্রতিরোধ কোষগুলির জন্য একটি 'জৈবিক জিমনেসিয়াম' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা শরীরকে অতিরিক্ত প্রদাহমূলক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করেই কার্যকরভাবে সাড়া দিতে প্রস্তুত করে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই স্বাস্থ্যগত সুবিধার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। উদাহরণস্বরূপ, সুইডিশ গবেষণায় দেখা গেছে যে জীবনের প্রথম বছরে কুকুরের সংস্পর্শে আসা শিশুদের ছয় বছর বয়সের মধ্যে হাঁপানির ঝুঁকি হ্রাস পায়। একইভাবে, ফিনিশ গবেষকরা পোষা প্রাণীর উপস্থিতিকে অ্যাটোপিক একজিমা এবং অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ঝুঁকি হ্রাস করার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। বিশেষত জেনেটিক্যালি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ক্ষেত্রে, শৈশবে কুকুরের প্রাথমিক সংস্পর্শ অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি কেবল সংক্রমণ প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়; গবেষণায় আরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এই ধরনের প্রাথমিক এক্সপোজার দীর্ঘস্থায়ী নিম্ন-মাত্রার প্রদাহের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা দিতে পারে, যা কিছু মানসিক ব্যাধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
অ্যালার্জি সহনশীলতা বিকাশের ক্ষেত্রেও পোষা প্রাণীর প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক। বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ করে যে প্রাণীদের সঙ্গে সহাবস্থান অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী অণুগুলির উৎপাদন হ্রাস করে। একটি জাপানি সমীক্ষায় লক্ষ্য করা গেছে যে কুকুর পালনকারী শিশুদের ডিম, দুধ এবং বাদামের মতো সাধারণ খাদ্য উপাদানের প্রতি গুরুতর অসহিষ্ণুতা বিকাশের সম্ভাবনা কম। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিড়ালের উপস্থিতি গম, সয়াবিন এবং ডিমের প্রতি অ্যালার্জির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সুরক্ষা প্রদান করতে পারে। এই ফলাফলগুলি নির্দেশ করে যে পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে আসা শিশুদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা খাদ্যজনিত অ্যালার্জেনগুলির প্রতি কম প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে।
এই বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণগুলি আধুনিক জীবনযাত্রার বিপরীতে প্রাচীন জীবনযাত্রার মডেলগুলির সঙ্গে তুলনীয়। গবেষকরা আমিশ সম্প্রদায়ের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন, যারা আধুনিক প্রযুক্তি এড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী পশুপালনের মাধ্যমে জীবনযাপন করে; দেখা গেছে তাদের মধ্যে অ্যালার্জি ও হাঁপানির প্রকোপ প্রায় নেই বললেই চলে, যা তাদের শৈশবের গবাদি পশুর সঙ্গে নিবিড় সংস্পর্শের ফল। এই 'মিনি-ফার্ম এফেক্ট' প্রমাণ করে যে যত বেশি বৈচিত্র্যময় মাইক্রোবের সংস্পর্শ, তত কম অ্যালার্জির ঝুঁকি। মার্কিন গবেষকরা এখন খুঁজছেন কীভাবে এই প্রাকৃতিক মাইক্রোবিয়াল উদ্দীপনাকে শহুরে পরিবেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
এছাড়াও, পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলাধুলা শিশুদের মধ্যে অক্সিটোসিন নিঃসরণ বাড়ায় এবং কর্টিসল হরমোন কমায়, যা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পোষা প্রাণীর সঙ্গে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে সহানুভূতি এবং দায়িত্ববোধের মতো মানবিক গুণাবলীও বিশেষভাবে বিকশিত হয়, যা তাদের সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন কনসালট্যান্ট সাইফ হোসেন খানও পোষা প্রাণীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। এই ধারাবাহিক মিথস্ক্রিয়া শিশুদের মধ্যে অপ্রকাশিত অনুভূতি বোঝার দক্ষতাও তৈরি করে, যেহেতু প্রাণীরা কথা বলতে পারে না, তাই তাদের অনুভূতি অনুধাবন করতে হয়। এই সমস্ত তথ্য একত্রিত করলে দেখা যায়, শৈশবে পোষা প্রাণীর উপস্থিতি কেবল মানসিক আনন্দের উৎস নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী জৈবিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে পোষা প্রাণীর সঙ্গে বেড়ে ওঠা শিশুর অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
12 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Unica Radio
Children's Health Ireland
Colorado Arts and Sciences Magazine
Galaxus
SMC Spain
The Drake Center
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
