সেল জিনোমিক্স জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, প্রাচীন চীনের বাসিন্দারা গৃহপালিত বিড়াল, অর্থাৎ ফেলিস ক্যাটাস (Felis catus), আসার বহু আগে থেকেই অন্তত ৩৫০০ বছর ধরে বন্য বনবিড়াল প্রজাতি প্রিওনেলুরুস বেঙ্গালেনসিস (Prionailurus bengalensis)-এর সঙ্গে নিজেদের স্থান ভাগ করে নিত। বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শু-জিং লো সহ বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তাঁরা চীনের চৌদ্দটি ভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে সংগৃহীত বাইশটি বিড়াল প্রজাতির হাড়ের নমুনার ডিএনএ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। এই আদিম চিতাবাঘ বিড়ালের অবশেষের বয়স প্রায় ৫৪০০ বছর পর্যন্ত পুরোনো বলে অনুমান করা হয়, এবং ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এটি মানুষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের, কিন্তু অ-গৃহপালিত সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
মানুষ ও বনবিড়ালের এই সুদীর্ঘ, সাড়ে তিন হাজার বছরেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক ইঙ্গিত করে যে প্রিওনেলুরুস বেঙ্গালেনসিস মানব বসতির কাছাকাছি এক বিশেষ পরিবেশগত স্থানে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছিল। ধারণা করা যায়, এই বন্য শিকারি প্রাণীরা কার্যকরভাবে ইঁদুর ও অন্যান্য উপদ্রবকারী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করত, যা পরোক্ষভাবে কৃষকদের শস্যভান্ডার রক্ষা করত এবং আদিম সমাজগুলির জন্য লাভজনক ছিল। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, গৃহপালিত বিড়ালের মতো এদের বিস্তার মানুষের দ্বারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল না, যা তাদের আধা-বন্য অবস্থানকে তুলে ধরে। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব অংশে এই চিতাবাঘ বিড়াল প্রজাতি স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, এই সময়ে বন্য চিতাবাঘ বিড়ালরা গৃহপালিত বিড়ালের সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশে সংকর প্রজনন করেনি, কারণ প্রাচীন স্তরে কোনো সংকর প্রজাতির অবশেষ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষণে একটি উল্লেখযোগ্য সময়কালের ব্যবধান ধরা পড়েছে, যা প্রায় ছয় শতাব্দীর কাছাকাছি। এই সময়ের মধ্যে চিতাবাঘ বিড়ালের শেষ প্রাপ্ত অবশেষ (খ্রিস্টীয় ১৫০ অব্দের কাছাকাছি) এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নথিতে ফেলিস ক্যাটাস-এর প্রথম আবিষ্কারের (খ্রিস্টীয় ৭৩০ অব্দের কাছাকাছি) মধ্যে একটি স্পষ্ট ফারাক বিদ্যমান। এই সময়ের ব্যবধান জোরালোভাবে প্রমাণ করে যে, চিতাবাঘ বিড়ালরা চীনে আধুনিক গৃহপালিত বিড়ালের সরাসরি পূর্বপুরুষ ছিল না। বরং, আফ্রিকান বন্য বিড়াল ফেলিস লাইবিকা (Felis lybica)-এর সঙ্গে জেনেটিক্যালি ঘনিষ্ঠ এই পরবর্তীকালের গৃহপালিত বিড়ালগুলি সম্ভবত অনেক পরে এই অঞ্চলে প্রবেশ করে, সম্ভবত সিল্ক রোড ধরে চলাচলকারী ব্যবসায়ীদের হাত ধরে।
শু-জিং লো ইঙ্গিত দেন যে, কৃষিকাজের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ফেলিস ক্যাটাস-এর গৃহপালন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে, বিশেষত তাং রাজবংশের (৬১৮–৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে, যখন ফসলের ক্ষতিকারক প্রাণী নিয়ন্ত্রণের জন্য বন্য শিকারিদের ওপর নির্ভরতা কমে আসে। এই গবেষণার নমুনায় পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন গৃহপালিত বিড়ালের বয়স অষ্টম বা নবম শতাব্দীর এবং এটি চীনের পশ্চিমাঞ্চলের সিল্ক রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র তুংওয়ানে আবিষ্কৃত হয়। এটি এই তত্ত্বকে সমর্থন করে যে ফেলিস ক্যাটাস-এর বিস্তার পূর্ব এশিয়ায় স্বাধীনভাবে গৃহপালিত হওয়ার পরিবর্তে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত ছিল, যা চিতাবাঘ বিড়ালের ক্ষেত্রে ঘটেনি। চীনের বিড়ালের ইতিহাস মানুষের সঙ্গে দুটি পৃথক মিথস্ক্রিয়ার পর্যায় প্রদর্শন করে: একটি হলো স্থানীয় বন্য প্রজাতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহাবস্থান, এবং অন্যটি হলো পরবর্তীকালে আগত গৃহপালিত প্রজাতি দ্বারা তাদের প্রতিস্থাপন।




