প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে ঘুমের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের গুরুত্ব

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের উপর পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক মনোবিজ্ঞান গবেষণায় দেখা গেছে যে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং বিষণ্নতার ঝুঁকির মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক বিদ্যমান। এই অনুসন্ধানগুলি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার কৌশলগুলিতে সুনির্দিষ্ট ঘুমের সময় নির্ধারণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। ঘুমের শুরুর সময়কে সঠিকভাবে বিবেচনা করা মেজাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাবশ্যক, কারণ সার্কাডিয়ান ছন্দের বিঘ্ন নেতিবাচক মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই গবেষণার জন্য ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভে (NHANES)-এর ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছিল, যেখানে মোট ৬৯৯১ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৪৫.৬ বছর এবং এদের মধ্যে ৪৯.৫% ছিলেন মহিলা। গবেষণায় ঘুমের শুরুর সময়কে পাঁচটি ভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছিল: রাত ২২:০০ থেকে ২৩:০০, ২৩:০০ থেকে ০০:০০, ০০:০০ থেকে ০১:০০, ০১:০০ থেকে ২০:০০, এবং ২০:০০ থেকে ২২:০০।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, রাত ২২:০০ থেকে ২৩:০০-এর মধ্যে ঘুম শুরু করা সময়টিকে বিষণ্নতার সর্বনিম্ন ঝুঁকির সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এই সময়ের মধ্যে বিষণ্নতার প্রকোপ ছিল মাত্র ১.৯৮%। যেসব প্রাপ্তবয়স্ক এই আদর্শ সময়সীমার বাইরে ঘুমিয়েছেন, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ প্রকাশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত, রাত ০১:০০ থেকে ২০:০০-এর মধ্যে ঘুম শুরু করা ব্যক্তিদের মধ্যে বিষণ্নতার ঝুঁকি রেফারেন্স গ্রুপের তুলনায় ২.৩৯ গুণ বেশি ছিল, যা পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়াও, রাত ২০:০০ থেকে ২২:০০-এর মধ্যে ঘুম শুরু করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা সামান্য বেশি পরিলক্ষিত হয়েছিল, যার অডস রেশিও (OR) ছিল ১.৭৮।

সার্কাডিয়ান ছন্দ বিঘ্নিত হওয়া মেজাজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক সমাজের জীবনযাত্রার কারণে শিফট ওয়ার্ক, রাতে আলোতে থাকা, এবং সামাজিক জেট ল্যাগ-এর মতো বিষয়গুলি সার্কাডিয়ান ছন্দকে ব্যাহত করে, যা মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার (MDD) বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। মস্তিষ্কের মাস্টার পেসমেকার, সুপ্রাকায়াজম্যাটিক নিউক্লিয়াস (SCN), পরিবেশগত সংকেত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এর ছন্দপতন সরাসরি মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলিকে প্রভাবিত করে।

গবেষণার ফলাফলগুলি ক্লিনিকাল অনুশীলনের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করে। কমিউনিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জ্ঞান প্রচার ও চিকিৎসায় ঘুমের শুরুর সময়ের ওপর জোর দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। একটি পৃথক জেনেটিক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা ভোরে ওঠেন, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে; প্রতি এক ঘণ্টা আগে ঘুমাতে যাওয়া মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২৩% কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, মধ্যবয়সী এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে, ৭ ঘণ্টা রাতের ঘুম বিষণ্নতার সর্বনিম্ন ঝুঁকির সাথে যুক্ত, যেখানে এর চেয়ে কম বা বেশি ঘুম ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে, কেবল ঘুমের মোট সময়কাল নয়, বরং ঘুমের নির্দিষ্ট শুরুর সময়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাত ২২:০০ থেকে ২৩:০০-এর মধ্যে ঘুম শুরু করার অভ্যাসটি মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা আধুনিক জীবনের জটিলতার মধ্যেও সামগ্রিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

12 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Scienmag: Latest Science and Health News

  • Annals of General Psychiatry

  • ResearchGate

  • PMC - NIH

  • Atlantis Press

  • Frontiers

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।