সাম্প্রতিক মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছে যে, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে শিশুদের মিথস্ক্রিয়ার তুলনায় পুতুল নিয়ে প্রতীকী খেলা তাদের আবেগিক ভাষা এবং সামাজিক চিন্তাভাবনার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটায়। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন সিনিয়র লেকচারার ডঃ সারাহ গারসন, কার্যকরী নিকট-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি (fNIRS) নামক নিউরোইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। এই গবেষণায় ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মোট ৩৩ জন শিশুর মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।
স্নায়ু-চিত্রণ অধ্যয়নে দেখা গেছে যে পুতুল নিয়ে খেলার সময় মস্তিষ্কের পোস্টেরিয়র সুপিরিয়র টেম্পোরাল সালকাস (pSTS) সক্রিয় হয়, যা সামাজিক প্রক্রিয়াকরণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, শিশুরা যখন একাকী পুতুল নিয়ে খেলছিল, তখনও তাদের pSTS সক্রিয় ছিল, যা একাকী ট্যাবলেট খেলার সময় দেখা যায়নি। ডঃ গারসন উল্লেখ করেছেন যে, এই মস্তিষ্কের অঞ্চলটি আমরা অন্যের চিন্তা বা অনুভূতি নিয়ে ভাবার সময় ব্যবহার করি, যা পুতুল খেলার মাধ্যমে সামাজিক দক্ষতার মহড়া হিসেবে কাজ করে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুতুল খেলার সময় ৮২ শতাংশ শিশু আবেগিক ভাষা ব্যবহার করেছে, যেখানে ট্যাবলেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ৬৪ শতাংশ।[cite: মূল উপাদান] এই ভাষাগত পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পুতুল খেলার সময় শিশুরা প্রায়শই দ্বিতীয় পুরুষে পুতুলদের সম্বোধন করে, যা স্ক্রিন-ভিত্তিক খেলার তুলনায় সরাসরি যোগাযোগের গভীরতা নির্দেশ করে। ক্লিনিকাল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের প্রতীকী খেলা শিশুদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ করতে এবং সামাজিক ভূমিকা অনুশীলন করতে সহায়তা করে, যা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য।[cite: মূল উপাদান]
ডঃ গারসন ব্যাখ্যা করেন যে পুতুল শিশুদের সমস্যা-সমাধান বা নির্মাণ গেমের বিপরীতে তাদের নিজস্ব ছোট কাল্পনিক জগৎ তৈরি করতে উৎসাহিত করে, যেখানে তারা একে অপরের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করতে পারে তা নিয়ে চিন্তা করে। এই প্রক্রিয়া শিশুদের অনুভূতিগুলিকে মৌখিকভাবে প্রকাশ করতে এবং তাদের অভিজ্ঞতাগুলিকে সংগঠিত করতে সাহায্য করে, যা সামাজিক দক্ষতা বিকাশের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।[cite: মূল উপাদান] কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণাটি, যা ম্যাটেল দ্বারা পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছিল, প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক পুতুল খেলার সময় মস্তিষ্কের সক্রিয়তা তুলে ধরতে নিউরোইমেজিং ডেটা ব্যবহার করেছে।
এই গবেষণার ফলাফলগুলি লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রযোজ্য বলে মনে করা হয়, যা ইঙ্গিত করে যে পুতুল খেলার সুবিধাগুলি ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যই সমানভাবে কার্যকর। গবেষণাটি আরও দেখায় যে অভ্যন্তরীণ অবস্থা ভাষা (Internal State Language - ISL) ব্যবহারের সাথে pSTS কার্যকলাপের সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে শিশুরা পুতুলের চিন্তা ও অনুভূতি নিয়ে বেশি কথা বলে। এই অব্যাহত প্রাসঙ্গিকতা শৈশবের প্রাথমিক বিকাশে কল্পনাপ্রবণ, অ-ডিজিটাল খেলার গুরুত্বকে তুলে ধরে, যা শিশুদের মূল মানসিক স্বাস্থ্য দক্ষতা গঠনে সহায়ক।[cite: মূল উপাদান]



