পুঁজি প্রত্যাহার এবং ক্রমবর্ধমান সামরিক ব্যয়ের মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৮.৪ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
২০২৬ সালের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের স্থায়িত্ব একটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা এই আর্থিক পরিস্থিতির মূল কারণ। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দিকেই মার্কিন জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৩৮.৪৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই ঋণের মাত্রা মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অর্থনৈতিক কমিটির প্রাথমিক পূর্বাভাসকেও অতিক্রম করেছে, যারা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এক ট্রিলিয়ন ডলার ঋণের বৃদ্ধির কথা বলেছিল। এই দ্রুত ঋণ বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, অতিমারী পরবর্তী সময়েও মার্কিন অর্থনীতির ঋণের বোঝা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
এই প্রতিকূল আর্থিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুঁজি সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, যা নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে। ডেনমার্কের পেনশন ফান্ড 'AkademikerPension', যারা প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ পরিচালনা করে, জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ নাগাদ তাদের হাতে থাকা ১০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফান্ডের বিনিয়োগ পরিচালক আন্ডারস শেল্ডে জানিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন আর নিরাপদ ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছে এবং দেশটির দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক কাঠামো স্থায়িত্বহীন হয়ে পড়েছে। ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি মার্কিন বন্ড বিক্রি করে, তবে তাদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। যদিও এই বন্ড বিক্রির পরিমাণ বাজারের তুলনায় খুব সামান্য, তবুও এটি বিশ্ববাজারে মার্কিন ঋণের প্রতি আস্থার ফাটলকেই তুলে ধরে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা চাঙ্গা করা এবং শুল্ক আরোপের মাধ্যমে শিল্পায়নের নীতি ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জেসন ফারম্যানের মতে, বর্তমানে মার্কিন বাজেট ঘাটতি মোট উৎপাদনের ৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে তা ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যদিও ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের পর দ্রুততম, তবুও এর স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। ভোক্তা ব্যয় ৩.৫ শতাংশ বাড়লেও অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিগত ক্রেতাদের কাছে প্রকৃত বিক্রির হার মাত্র ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত চাহিদার একটি অস্থিতিশীল কাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে।
হোয়ার্টন বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক কেন্ট স্মেটার্স সতর্ক করেছেন যে, এই বিশাল ঋণের বোঝা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। একই সাথে মার্কিন সরকারের জবাবদিহি সংস্থা (GAO) পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ঋণের উচ্চ সুদের হার এবং প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২৭ অর্থ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা ২০২৬ সালের ৯০১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বিশাল এক লাফ। এটি গত দশ বছরের মধ্যে সামরিক খাতে সবচেয়ে বড় ব্যয় বৃদ্ধি। এর পাশাপাশি, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বকেয়া ২৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ না করেই ট্রাম্প প্রশাসন ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেছে। প্রশাসনের অভিযোগ, সংস্থাটির ব্যর্থতার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
21 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Il Foglio
United States Gross Federal Debt to GDP - Trading Economics
Credit Cycle Indicator Q1 2026: Tail Risks Would
Debt Dashboard - U.S. Congress Joint Economic Committee
Forbes
CRFB Releases Updated Debt Fixer-2026-01-21
Euractiv
What Would a Fiscal Crisis Look Like? | Committee for a Responsible Federal Budget
The risk of higher US inflation in 2026 | PIIE
Deficit Tracker - Bipartisan Policy Center
National debt of the United States - Wikipedia
Charting the Year Ahead: Investment Ideas for 2026
Investment Executive
Investment Executive
The Guardian
CBS News
The Budget and Economic Outlook: 2025 to 2035
semafor.com
YouTube
PBS
IPE
Chief Investment Officer
The New Republic
Bloomberg
Insurance Journal
NATO
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
