আসামে প্রধানমন্ত্রী মোদীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ: প্রথম জরুরি অবতরণ কেন্দ্র এবং কুমার ভাস্কর বর্মা সেতুর উদ্বোধন

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে এই অঞ্চলের প্রথম জরুরি অবতরণ কেন্দ্র (Emergency Landing Facility - ELF) উদ্বোধন করেন। আসামের ডিব্রুগড় জেলার মোরান বাইপাসে জাতীয় সড়ক NH-127-এর ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশে এই অত্যাধুনিক স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) সাথে নিবিড় সমন্বয়ে তৈরি এই কেন্দ্রটি মূলত সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য একটি বিকল্প ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে। একই সাথে এটি মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা (HADR) কার্যক্রমেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই জরুরি অবতরণ কেন্দ্রটি ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা কৌশলগত পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। ভৌগোলিকভাবে এই কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে; এটি চীন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এবং মিয়ানমার সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ৩৩ মিটার প্রশস্ত এই বিশেষ রানওয়েটি যুদ্ধবিমান, মালবাহী বিমান এবং হেলিকপ্টার ওঠানামার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30 MKI), রাফাল (Rafale) এবং তেজস (Tejas)-এর মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমানের সফল পরীক্ষামূলক অবতরণ এই অবকাঠামোর কার্যকারিতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি, NH-127 জাতীয় সড়কের এই অংশটি বেসামরিক ক্ষেত্রেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আসামের মতো বন্যাপ্রবণ রাজ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন সাধারণ বিমানবন্দরগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তখন এই জরুরি অবতরণ কেন্দ্রটি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো এবং দ্রুত জনবসতি সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। সরকারের এই সমন্বিত উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি একদিকে যেমন দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের গতিশীলতা ও দুর্যোগকালীন নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এটি অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই সফরের অংশ হিসেবে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত 'কুমার ভাস্কর বর্মা সেতু' (Kumar Bhaskar Varma Setu) উদ্বোধন করেন। ১.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছয় লেনের এক্সট্রাডোজড ব্রিজটি গুয়াহাটির সাথে উত্তর গুয়াহাটিকে সরাসরি সংযুক্ত করেছে। প্রায় ৩,০৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর ফলে দুই প্রান্তের যাতায়াতের সময় ৪৫-৬০ মিনিট থেকে কমে মাত্র সাত মিনিটে নেমে আসবে। এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম এক্সট্রাডোজড সেতু, যেখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় অত্যাধুনিক 'ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা এই অবকাঠামোকে দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ করবে।

অবকাঠামো উন্নয়নের এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে ভারত সরকার বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা শীঘ্রই ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ দিয়ে গোহপুর ও নুমালিগড়কে সংযোগকারী একটি আন্ডারওয়াটার টানেল প্রকল্পের অনুমোদন দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৮,৬০০ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের এই প্রকল্পটি হবে ভারতের প্রথম দ্বি-নল বিশিষ্ট আন্ডারওয়াটার টানেল, যা দিয়ে সড়ক ও রেল উভয়ই চলাচল করতে পারবে। এর ফলে চার ঘণ্টার দীর্ঘ পথ মাত্র ৩০-৩৫ মিনিটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং স্পর্শকাতর শিলিগুড়ি করিডোরের নিকটবর্তী হওয়ায় এই লজিস্টিক করিডোরগুলো ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

22 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Republic World

  • Times Now

  • The Times of India

  • Republic World

  • PTI

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।