জাপান জাম্বিয়াকে শরণার্থী সহায়তায় ৭.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান প্রদান করেছে

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জাপান সরকার জাম্বিয়ার জন্য ৭.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি বিশাল অনুদান ঘোষণা করেছে। এই অর্থ মূলত শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। জাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী জনাব মউইম্বু এবং জাম্বিয়ায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত জনাব মিকামি আকিতেরুর মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই ঘোষণাটি আসে। এই আর্থিক সহায়তা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ছয় দশকেরও বেশি সময়ের গভীর এবং ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই বিশাল তহবিলের একটি বড় অংশ, অর্থাৎ প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-র মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের মেহেবা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের মায়ুকওয়ায়ুকওয়া শরণার্থী শিবিরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হবে। এই বসতিগুলো ঐতিহাসিকভাবেই গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (DRC) থেকে আসা বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যার ফলে সেখানে উন্নত নাগরিক সুবিধার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি, অতিরিক্ত ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (UNHCR)-কে প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ নতুন করে আসা ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবা প্রদানে সরাসরি ব্যয় করা হবে। মন্ত্রী জনাব মউইম্বু এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, জাম্বিয়া তার মানবিক প্রতিশ্রুতিগুলো অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছে। তবে কঙ্গো থেকে আসা শরণার্থীদের ক্রমাগত স্রোত সামাল দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের পক্ষ থেকে এই ধরনের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

জাপানের এই সহায়তা কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, বরং এটি এই অঞ্চলে টেকসই উন্নয়নের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদী 'হোপ টু' (HOPE II) প্রকল্পের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। জাপান এবং ইউএনডিপি-র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রাক্তন শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (JICA)-র সাথে স্বাক্ষরিত এই প্রকল্পটি কালুম্বিলা জেলার মেহেবা এবং কাওমা জেলার মায়ুকওয়ায়ুকওয়া অঞ্চলে একটি উৎপাদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে কাজ করবে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১,০০,০০০-এরও বেশি মানুষের জীবনমান উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী মউইম্বু জাম্বিয়ার পক্ষ থেকে এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান যে, জাপানি সহায়তা কেবল শরণার্থীদের কল্যাণই নিশ্চিত করবে না, বরং এটি আশেপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, জাপানি রাষ্ট্রদূত জনাব আকিতেরু জোর দিয়ে বলেন যে, এই অর্থ কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই প্রদান করা হয়েছে, যা আফ্রিকায় জাপানের দীর্ঘমেয়াদী মানবিক ও উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ। কঙ্গোর সাথে ২,৩৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকা জাম্বিয়া এই অঞ্চলে অভিবাসন প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে তার ভূমিকা পালন করে চলেছে।

16 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • LusakaTimes.com

  • Efficacy News

  • Zambia, Japan, UNDP launch second phase of infrastructure project for displaced communities - Lusaka Times

  • Muvi TV

  • Landmark Resilience Plan to support refugee hosting communities in Zambia - UNHCR

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।