ইউক্রেন অর্থায়ন অগ্রাধিকার, ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ গ্রহণের লক্ষ্য ইইউ

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ২০তম প্যাকেজ প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ব্যবস্থার রাজনৈতিক লক্ষ্য হলো ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকী, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে মিল রেখে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলি গ্রহণ করা। ইউরোপীয় কমিশন ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাসের মধ্যেই খসড়া প্রস্তাবনা পেশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বর্তমানে ইইউ-এর প্রধান মনোযোগ ২০২৬-২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেনের অর্থায়ন সুরক্ষিত করার দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। এই আর্থিক অগ্রাধিকারের কারণে নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী রাউন্ডের আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি, তবে কূটনীতিকরা মনে করছেন যে পূর্ববর্তী প্যাকেজগুলির মতো প্রস্তাব পেশের এক মাসের মধ্যে এটি অনুমোদিত হতে পারে।

এই ২০তম নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজটির মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার ফাঁকগুলি বন্ধ করা। প্রস্তাবিত প্রধান পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণ ও আদর্শগত পুনর্বিবেচনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দ আরোপ করা। এছাড়াও, ইইউ রাশিয়ার ইউরেনিয়াম আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা সরাসরি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমকে প্রভাবিত করবে। রোসাটম বিশ্বব্যাপী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে এবং যদিও পূর্বে কিছু সদস্য রাষ্ট্র এর বিরোধিতা করেছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৌশলগত ঝুঁকি মোকাবেলার চেষ্টা চলছে।

সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড এই প্যাকেজে আরও কঠোর ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যৌথভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড এবং ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভ্যালটোনেন যৌথভাবে উচ্চ প্রতিনিধি কায়া কালাসের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন, যেখানে রাশিয়ার বন্দর থেকে কার্বন-ভিত্তিক শক্তি সম্পদ পরিবহনকারী যেকোনো জাহাজের উপর সম্পূর্ণ সামুদ্রিক পরিষেবা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো ইইউ সংস্থাগুলি পরিবহন, জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তর, বীমা বা মেরামতসহ কোনো ধরনের সহায়তা প্রদান করতে পারবে না, যা রাশিয়ার তেল রপ্তানির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত ছায়া নৌবহরের কার্যকলাপকে আরও সীমিত করবে। বাণিজ্য বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে, ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন রাশিয়ার সার রপ্তানির উপর আরও কঠোর ব্যবস্থা এবং বিলাসবহুল পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্যসীমা তুলে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে।

আর্থিক খাতেও নতুন বিধিনিষেধ প্রত্যাশিত, যা পূর্ববর্তী ১৯তম প্যাকেজের পরিপূরক হবে, যা অক্টোবর ২০২৫ সালে গৃহীত হয়েছিল এবং শক্তি রাজস্ব হ্রাস ও দ্বৈত-ব্যবহার প্রযুক্তির রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল। বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলির মেয়াদ অন্তত ২০২৬ সালের ৩১শে জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কাউন্সিল অফ দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউক্রেনের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য, ইউরোপীয় কাউন্সিল সম্প্রতি ২০২৬-২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরোর একটি ঋণ প্রদানের বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা ইইউ বাজেট হেডরুম দ্বারা সমর্থিত মূলধন বাজার থেকে ধার করা হবে। এই ঋণ ইউক্রেনকে তার পরবর্তী দুই বছরের অর্থায়নের চাহিদা সুরক্ষিত করবে এবং রাশিয়া ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনকে এটি পরিশোধ করতে হবে না। এই সামগ্রিক কৌশল, যা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার উপর জোর দেয়, তা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ ও কাঠামোগত অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে।

61 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Ukraine-Nachrichten

  • EUalive

  • Ukrainska Pravda

  • JD Supra

  • Brussels Morning Newspaper

  • Euractiv

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।