সাত বছর পর ইরানের অপরিশোধিত তেল আমদানি পুনরায় শুরু ভারতের; ইরাকের জন্য হরমুজ প্রণালীতে ছাড় ঘোষণা ইরানের

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে সৃষ্ট অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশটির পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে যে ভারতীয় শোধনাগারগুলি ২০১৯ সালের মে মাসের পর এই প্রথম ইরানের কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার ওপর নির্ভরশীল, যা সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর প্রযোজ্য ছিল এবং বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গৃহীত। এই ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী তেল আমদানিকারক হিসেবে ভারতের জন্য সাত বছরের বাণিজ্য স্থবিরতার একটি অস্থায়ী বিপরীত চিত্র তুলে ধরে, বিশেষত যখন পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক চলাচলে গুরুতর বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের এই কৌশলগত পরিবর্তন দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। ভারত বর্তমানে ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিস্থাপক করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত চলাচলের বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে ইরাককে বিশেষ অব্যাহতি দিয়েছে। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছেন যে তাদের আঞ্চলিক মিত্র ইরাকের তেলবাহী জাহাজগুলি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে, যদিও বৃহত্তর অবরোধ বলবৎ রয়েছে। ইরান পূর্বে ঘোষণা করেছিল যে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক এবং পাকিস্তানের মতো 'বন্ধুভাবাপন্ন' দেশগুলিকে নিরাপদ ট্রানজিট দেওয়া হবে। ইরাকের তেল রপ্তানি হরমুজ প্রণালীর ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, যা দেশটির বাজেট রাজস্বের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল বিক্রির ওপর নির্ভর করে, তাই এই ছাড় ইরাকি রপ্তানিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছেন এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়েছেন, অন্যথায় গুরুতর পরিণতির হুমকি দিয়েছেন। এই হুঁশিয়ারির পরপরই ইরান ইরাককে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইরানের নির্বাচনী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। এই উত্তেজনা ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বাহরাইন কর্তৃক স্পন্সর করা একটি খসড়া প্রস্তাব, যা প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষার জন্য 'প্রতিরক্ষামূলক' বলপ্রয়োগের অনুমোদন দিতে চেয়েছিল, তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীন এবং রাশিয়ার মতো স্থায়ী সদস্যদের বিরোধিতার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনকে তুলে ধরে, যেখানে ভারত তার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ইরানের সাথে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু করেছে। উপরন্তু, ইরানের তরফ থেকে হরমুজ প্রণালীতে একটি 'নতুন আইনি ব্যবস্থা' প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা সামরিক অবরোধের পরিবর্তে একটি আনুষ্ঠানিক অনুমতি-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলে এলপিজি আমদানিতেও বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। দেশটির মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যার একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। এই ঝুঁকি কমাতে, ভারতীয় পাবলিক সেক্টর তেল সংস্থাগুলি ২০২৬ সালের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলপিজি আমদানির জন্য প্রথম কাঠামোগত চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করবে। এই চুক্তিটি মন্ট বেলভিউকে মূল্য নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে এবং এটি ভারতের জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • H Kαθημερινή

  • Politika

  • Valor Econômico

  • The National

  • Deccan Herald

  • Bloomberg

  • The Hindu

  • The Indian Express

  • The Hindu

  • Reuters

  • The National

  • India Today

  • The Economic Times

  • Notícias ao Minuto

  • Brasil 247

  • Opera Mundi

  • Agência Brasil

  • UOL Notícias

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।