২০২৬ সালের ১৭ই জানুয়ারি, শনিবারে, নাসা কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে লঞ্চ প্যাড ৩৯বি-এর দিকে মহাকাশযান ওরিয়ন সহ ৩২২ ফুট উঁচু স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটের রোলআউট শুরু করেছে। এই বিশাল আকারের রকেটটি ক্রলার-ট্রান্সপোর্টারের মাধ্যমে লঞ্চ প্যাডের দিকে চার মাইল পথ অতিক্রম করে, যা আর্টেমিস II মিশনের জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং মহড়ার সূচনা করে। এই ধীর গতির যাত্রা, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় এক মাইল বেগে সম্পন্ন হয় এবং শেষ হতে প্রায় ১২ ঘন্টা সময় লাগতে পারে, নাসা-র মানববাহী চন্দ্র অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
আর্টেমিস II অভিযানটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখের আগে শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ পর্যন্ত সুযোগ রয়েছে এবং পরবর্তীতে মার্চ ও এপ্রিল মাসেও অতিরিক্ত সুযোগ রাখা হয়েছে। এই ফ্লাইটটি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে চাঁদের কাছাকাছি মানুষের প্রথম যাত্রা হবে এবং এটি ওরিয়ন ক্যাপসুল ও এসএলএস রকেটের প্রথম মানববাহী পরীক্ষা। মিশনের সময়কাল প্রায় ১০ দিনের হবে এবং এটি চাঁদের চারপাশে একটি ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করবে। এই মিশনের ক্রু সদস্য হিসেবে রয়েছেন নাসা-র কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ, সাথে কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ)-এর মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন। এই ঐতিহাসিক যাত্রায়, ক্রিস্টিনা কচ চাঁদে ভ্রমণকারী প্রথম মহিলা এবং ভিক্টর গ্লোভার হবেন প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি যিনি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে যাবেন।
নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান, যিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এবং বিল নেলসন উভয়েই রোলআউটের পরবর্তী মিডিয়া ইভেন্টগুলিতে অংশগ্রহণ করেন। মিশন ম্যানেজমেন্ট টিমের চেয়ার জন হানিকেট দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং তারা প্রস্তুত হলেই উড্ডয়ন করা হবে। এই রোলআউট প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি মিশন পরিচালকদের বুস্টারের স্বাস্থ্য যাচাই করতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে একটি 'ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল' (ডব্লিউডিআর) সম্পন্ন করার আগে, যা জানুয়ারির শেষের দিকে পরিকল্পিত। এই ডব্লিউডিআর-এ ক্রু ছাড়াই রকেটটিকে সম্পূর্ণরূপে জ্বালানি দ্বারা পূর্ণ করা হবে এবং কাউন্টডাউনটি টি-মাইনাস ২৯ সেকেন্ড পর্যন্ত চালানো হবে।
আর্টেমিস I ফ্লাইটের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা, যেমন জ্বালানি ফুটো এবং অপ্রত্যাশিত হিট শিল্ড অ্যাবলেশন সমস্যা, এর ভিত্তিতে ওরিয়ন ক্যাপসুলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর্টেমিস I, যা ২০২২ সালের নভেম্বরে উড্ডয়ন করেছিল, একটি মানববিহীন পরীক্ষা ছিল, যেখানে ওরিয়ন ক্যাপসুলের হিট শিল্ডে অপ্রত্যাশিত চার ক্ষয় দেখা গিয়েছিল, যার কারণ ছিল অ্যাভকোয়াট উপাদানের ভেতরের গ্যাস ঠিকমতো বের হতে না পারা। আর্টেমিস II ক্রুরা প্রায় ১০ দিনের ফ্লাইটে ওরিয়নের জীবন-সহায়ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করবেন এবং ভবিষ্যতের ডকিং মহড়ার অনুকরণে ক্যাপসুলটিকে বিচ্ছিন্ন করা আপার স্টেজের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া ও দূরে সরে আসার মাধ্যমে ম্যানুয়াল মহাকাশযান পরিচালনার অনুশীলন করবেন। এই মিশনের সাফল্য আর্টেমিস III-এর পথ সুগম করবে, যার লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে মহাকাশচারীদের চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করানো। এই অভিযানটি অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর মানবজাতির চাঁদের নৈকট্যে প্রথম ভ্রমণকে চিহ্নিত করবে, যা মহাকাশ অনুসন্ধানের এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা।
অতিরিক্ত অপারেশনাল জটিলতা হিসেবে, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬-এ স্পেসএক্স ক্রু-১১ মিশনের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে একটি জরুরি চিকিৎসা প্রত্যাহারের কারণে দ্রুত প্রত্যাবর্তন ঘটে, যার ফলে প্রতিস্থাপনকারী ক্রু-১২-এর উৎক্ষেপণ ১৫ই ফেব্রুয়ারির আগে সম্ভব নয়, যা আর্টেমিস II সময়সূচির সাথে সতর্ক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এই সমস্ত লজিস্টিকাল ও প্রযুক্তিগত মাইলফলকগুলি গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানে আমেরিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার চলমান জটিলতা এবং উচ্চ ঝুঁকিকে প্রতিফলিত করে।


