TU Eindhoven একটি ইলেকট্রিক গাড়ি উপস্থাপন করছে, যার ব্যাটারি কম রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন পড়ে।
এআরআইএ: ছাত্রছাত্রীদের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা মালিক নিজেই মেরামত করতে পারবেন
সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Pin
আইন্দহোভেন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির (TU/ecomotive) ছাত্রছাত্রীদের একটি দল তৈরি করেছে এআরআইএ (ARIA) নামক একটি শহুরে বৈদ্যুতিক গাড়ি। এই গাড়িটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে এর মালিক নিজেই সহজে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেন। বর্তমান সময়ের অনেক ইলেকট্রিক গাড়ির মতো এটি 'একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার' (single-use) ধারণার বিপরীতে গিয়ে তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা গাড়িটিকে মডুলার এবং সহজে খোলা যায় এমন কাঠামোয় নির্মাণ করেছে। এটি দলের দশম কনসেপ্ট গাড়ি। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের সামনে একটি সত্যিকারের টেকসই ও মেরামতযোগ্য গাড়ির রূপরেখা তুলে ধরতে চাইছে।
এআরআইএ গাড়ির মূল ভাবনা হলো, এর প্রতিটি অংশ যেন সহজে পরিবর্তন করা যায়। ব্যাটারির মডিউল, গাড়ির বডির প্যানেল এবং ইলেকট্রনিক ইউনিট—সবকিছুই আলাদাভাবে খোলা যায়। ফলে কোনো অংশ নষ্ট হলে পুরো গাড়ির অর্ধেক বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই, কিংবা অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হবে না। মালিককে এই কাজে সাহায্য করার জন্য রয়েছে বিস্তারিত নির্দেশিকা, সাধারণ ধরনের ফিক্সচার, গাড়ির ভেতরেই থাকা একটি টুলকিট এবং একটি বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন, যা গাড়ির বিভিন্ন অংশের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেয়।
বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে ব্যাটারির ওপর। এখানে একটি বিশাল ও ভারী ব্লকের পরিবর্তে ছয়টি ছোট আকারের মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি মডিউলের ওজন প্রায় ১২ কেজি এবং সম্মিলিতভাবে এদের ধারণক্ষমতা প্রায় ১২.৯৬ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। এই মডিউলগুলো কোনো বিশেষ সরঞ্জাম ছাড়াই হাত দিয়ে খোলা সম্ভব। গাড়ির বডিটিও একইভাবে অপসারণযোগ্য প্যানেল দিয়ে তৈরি। ফলে কোনো প্যানেলে আঁচড় লাগলে বা সামান্য ক্ষতি হলে তা দ্রুত পরিবর্তন করা যায় এবং এর নিচের অংশগুলোও সহজে দৃশ্যমান হয়।
এই নকশাটি একটি বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা। আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো প্রায়শই এমনভাবে তৈরি হয় যে, তাদের ব্যাটারি সংযুক্ত থাকার কারণে মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে স্বাধীন মেরামত কেন্দ্রগুলোর কাজ কঠিন হয়, মালিকদের বড় অঙ্কের বিল দিতে হয়, অথবা গাড়িগুলো সময়ের আগেই বাতিল হয়ে যায়। দলের প্রধান টাকো অলমার স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এআরআইএ এই পরিস্থিতির একটি বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পে TU/e-এর ছাত্রদের পাশাপাশি ফন্টিজ ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস এবং সুম্মা কলেজের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছিলেন, যা এটিকে একটি আন্তঃবিভাগীয় উদ্যোগে পরিণত করেছে।
এআরআইএ-এর এই ধারণাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'মেরামতের অধিকার' (Right to Repair) নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও এই অধিকার বর্তমানে গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক্সের জন্য কার্যকর, তবুও যাত্রীবাহী বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ এখনও সীমিত। TU/ecomotive দলটি রাইট টু রিপেয়ার ইউরোপ জোটকে সমর্থন করে এবং যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যারে ন্যায্য প্রবেশাধিকারের পক্ষে সওয়াল করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, এআরআইএ কেবল একটি প্রদর্শনী গাড়ি নয়; এটি একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ যে কীভাবে গাড়ির নকশায় মেরামতযোগ্যতার নীতি প্রয়োগ করে পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকদের একচেটিয়া আধিপত্য হ্রাস করা যায় এবং স্থায়িত্ব বাড়ানো যায়।
উৎসসমূহ
ecomento.de
IO+
electrive.com
NL Times
Eindhoven University of Technology
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
