নিসান ক্লিন এনার্জি দিবসে সোলার প্যানেল সমৃদ্ধ আরিয়া কনসেপ্ট উন্মোচন করেছে

সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Pin

Nissan Ariya বৈদ্যুতিক গাড়ি

২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি, বিশ্ব পরিচ্ছন্ন জ্বালানি দিবসে নিসান তাদের নতুন আরিয়া ইলেকট্রিক গাড়ির কনসেপ্ট মডেলটি সামনে এনেছে। এই গাড়িটিতে একটি সমন্বিত সৌর শক্তি ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। মূলত নিসানের জনপ্রিয় আরিয়া ক্রসওভারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রজেক্টটির লক্ষ্য হলো সূর্যের আলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা। এই উদ্ভাবনী কাজে নিসান নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত সোলার মোবিলিটি ডেভেলপার 'লাইটইয়ার'-এর সাথে অংশীদারিত্ব করেছে, যারা উন্নতমানের ফটোভোলটাইক মডিউল প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে।

এই কনসেপ্ট গাড়ির হুড, ছাদ এবং পেছনের দরজায় উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন পলিমার-গ্লাস প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যার মোট আয়তন ৩.৮ বর্গমিটার। নিসানের দুবাই ভিত্তিক অ্যাডভান্সড প্ল্যানিং বিভাগ এবং বার্সেলোনার পাওয়ারট্রেন প্ল্যানিং টিমের প্রকৌশলীরা এই প্যানেলগুলোকে গাড়ির সাথে যুক্ত করার জন্য নিরলস কাজ করেছেন। একটি বিশেষ কন্ট্রোলারের মাধ্যমে সৌর রশ্মিকে সরাসরি ডিসি কারেন্টে রূপান্তরিত করে শক্তির ব্যবহার অপ্টিমাইজ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, আদর্শ আবহাওয়ায় এই সিস্টেমটি প্রতিদিন অতিরিক্ত ২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম।

বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে এর ফলাফলে ভিন্নতা দেখা গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, দুবাইতে প্রতিদিন গড়ে ২১.২ কিলোমিটার এবং বার্সেলোনায় ১৭.৬ কিলোমিটার অতিরিক্ত মাইলেজ পাওয়া সম্ভব। এমনকি লন্ডনের মতো মেঘলা পরিবেশেও এই গাড়িটি প্রতিদিন গড়ে ১০.২ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ চলার শক্তি সঞ্চয় করতে পেরেছে। নিসানের প্রকৌশলীদের মতে, এই সৌর প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গ্রিড থেকে চার্জ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ৩৫ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে, যা চার্জিং অবকাঠামো কম থাকা অঞ্চলগুলোর জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

নেদারল্যান্ডস থেকে বার্সেলোনা পর্যন্ত ১৫৫০ কিলোমিটারের একটি দীর্ঘ পরীক্ষামূলক যাত্রায় এই প্রযুক্তির বাস্তব উপযোগিতা প্রমাণিত হয়েছে। একজন সাধারণ শহরবাসী যিনি বছরে প্রায় ৬০০০ কিলোমিটার গাড়ি চালান, তার ক্ষেত্রে উপযুক্ত আলো থাকলে বার্ষিক চার্জিং সেশনের সংখ্যা ২৩ থেকে কমে মাত্র ৮-এ নেমে আসতে পারে। এছাড়াও দেখা গেছে, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ৮০ কিলোমিটারের দুই ঘণ্টার ভ্রমণে প্রায় ০.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা প্রায় ৩ কিলোমিটার কার্বন-মুক্ত চলাচলের সমান।

নিসান এএমআইইও (AMIEO)-এর পাওয়ারট্রেন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিসানের মূল লক্ষ্য। এই কনসেপ্ট মডেলটি গ্রাহকদের চলাফেরায় আরও স্বাধীনতা এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এই উদ্যোগটি ২০৫০ সালের মধ্যে নিসানের পণ্যের জীবনচক্রে বিশ্বব্যাপী কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

15 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ecomento.de

  • CarGuide.PH

  • ТоpЖир

  • Tarmac Life

  • EV Central

  • Autoblog.nl

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।