ঐতিহ্যবাহী অটোমান রন্ধনশৈলীতে ভোজ্য সুগন্ধি যোগ করে নতুন মাত্রা আনল গাজিয়ানতেপ বিশ্ববিদ্যালয়
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
গাজিয়ানতেপ ইসলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (GISTU) একদল শিক্ষার্থী ঐতিহ্যবাহী অটোমান খাবারের স্বাদ ও গন্ধকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ভোজ্য সুগন্ধি উদ্ভাবন করেছেন। এই উদ্যোগটি কেবল খাদ্য পরিবেশনের একটি নতুন পদ্ধতি নয়, বরং এটি ঐতিহাসিক রন্ধনপ্রণালীর সঙ্গে জড়িত ঘ্রাণজনিত স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনার একটি বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয়টি, যা ২০১৮ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কার্যক্রম শুরু করে, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার ভিত্তিতে উদ্ভাবনী সমাধান প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই নতুন উদ্ভাবনের কেন্দ্রে রয়েছে ছয়টি প্রাকৃতিক সুগন্ধি, যা বিশেষভাবে খাদ্যদ্রব্যের উপর পরিবেশনের ঠিক আগে স্প্রে করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই সুগন্ধিগুলি অ্যালকোহল-মুক্ত এবং প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত কৌশল ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ঐতিহ্যকে সংযুক্ত করে। গাজিয়ানতেপ, যা তুরস্কের অন্যতম সেরা খাদ্যশহর হিসেবে পরিচিত এবং এর পেস্তা ও আলেপ্পো মরিচের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, সেই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশিল্পের প্রতি এই প্রচেষ্টা গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে।
এই ছয়টি সুগন্ধির প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ধরনের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যা খাবারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে এক নতুন স্তরে উন্নীত করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গন্ধ খাদ্যের স্বাদ উপলব্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং এই ভোজ্য স্প্রেগুলি সেই সংযোগকে দৃঢ় করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বিশেষ মিশ্রণ লাল মাংসের জন্য এবং অন্য একটি সুগন্ধি হাঁস-মুরগি ও মাছের পদের জন্য প্রণীত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট খাবারের প্রাকৃতিক সুবাসকে আরও ফুটিয়ে তুলতে পারে।
এই ধরনের সুনির্দিষ্ট সুগন্ধি প্রয়োগের মাধ্যমে, শিক্ষার্থীরা অটোমান আমলের খাবারের জটিল স্বাদ প্রোফাইলগুলিকে আধুনিক উপায়ে উপস্থাপন করতে চাইছে। গাজিয়ানতেপ ইসলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যা তার গতিশীলতা এবং প্রকল্প-ভিত্তিক শিক্ষার জন্য পরিচিত, এই ধরনের গবেষণামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রকল্পগুলি TÜBİTAK বিজ্ঞানী সহায়তা কর্মসূচির অধীনে সমর্থন লাভ করেছে, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে।
এই উদ্ভাবনী খাদ্য সংযোজনগুলি অটোমান রন্ধনশৈলীর গভীরতাকে তুলে ধরে, যা কেবল রান্নার পদ্ধতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পরিবেশন এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার উপরও জোর দিত। অ্যালকোহল-মুক্ত হওয়ায়, এটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে এবং খাদ্যের স্বাদকে প্রভাবিত না করে কেবল সুগন্ধের মাধ্যমে একটি অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করবে। এই প্রচেষ্টা তুরস্কের খাদ্য সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে, যেখানে গাজিয়ানতেপ তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং রন্ধনশিল্পের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরিচিত।
14 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Yeni Şafak
Anadolu Ajansı
Haber365
Yeni Şafak
Hürriyet
Milliyet
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
