পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ঘোড়ার মাংস গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে মনোযোগ আকর্ষণ করছে

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ঘোড়ার মাংস বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক বাজারে মনোযোগ আকর্ষণ করছে, যা একে প্রচলিত গরুর মাংসের তুলনায় একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এই মাংসের পুষ্টি প্রোফাইল গরুর মাংস থেকে ভিন্ন হওয়ায় স্বাস্থ্য-সচেতন ভোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে, বিশেষত জাপান, ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের মতো দেশগুলিতে, ঘোড়ার মাংসকে একটি উচ্চ-মূল্যের এবং পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে এর ব্যবহার দীর্ঘদিনের এবং এটি ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাসের অংশ।

সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘোড়ার মাংসের পুষ্টিগত সুবিধাগুলি সুস্পষ্ট। প্রতি ১০০ গ্রাম ঘোড়ার মাংসে সাধারণত ২০ থেকে ২২ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যায়, যা গরুর মাংসের প্রায় সমান বা সামান্য বেশি হতে পারে, যেখানে গরুর মাংসে প্রায় ২১ গ্রাম প্রোটিন থাকে। তবে, চর্বির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়; ঘোড়ার মাংসে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম, বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ গরুর মাংসের তুলনায় কম থাকে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০০৭ সালের ডায়েটারি রেফারেন্স ইনটেকস ফর কোরিয়ানস (KDRIs) অনুসারে, ঘোড়ার মাংসে চর্বির মাত্রা প্রায় ৬.০% যেখানে গরুর মাংসে ১৪.১% পর্যন্ত হতে পারে। এই কম চর্বিযুক্ত বৈশিষ্ট্য হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আয়রনের ক্ষেত্রে ঘোড়ার মাংস গরুর মাংসকে ছাড়িয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে ঘোড়ার মাংসে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে শোষণযোগ্য আয়রন বিদ্যমান, যা রক্তাল্পতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে। গরুর মাংসেও আয়রন থাকলেও, ঘোড়ার মাংসে এর জৈব-উপলভ্যতা বেশি হওয়ায় এটি রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়াও, ঘোড়ার মাংসে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা গরুর মাংসে প্রায় অনুপস্থিত। দ্রুত শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্লাইকোজেনও এতে বিদ্যমান, যা ক্রীড়াবিদ বা শারীরিক শ্রম প্রদানকারী ব্যক্তিদের জন্য একটি অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে।

সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই মাংসের ব্যবহার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়েছে। জাপানে, এটিকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে ‘বাসাশি’ নামে কাঁচা সাশিমি হিসেবে প্রস্তুত করা হয়, যা এর সতেজতা ও গুণমানের পরিচায়ক। অন্যদিকে, ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের মতো ইউরোপীয় দেশগুলিতে, এর লীন বা চর্বিহীন প্রকৃতির কারণে এটি আরোগ্য লাভের সময় বা শারীরিক পুনরুদ্ধারের জন্য সুপারিশ করা হয়। ভিয়েতনামের উত্তর-পশ্চিম পার্বত্য অঞ্চলে, ‘থাং কো’ নামক ঘোড়ার মাংসের জার্কি একটি অনন্য ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে টিকে আছে।

সার্বিক বিশ্লেষণে, ঘোড়ার মাংস একটি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত, পুষ্টি-ঘন বিকল্প হিসেবে গরুর মাংসের বিপরীতে অবস্থান তৈরি করছে। এর উচ্চ প্রোটিন, কম চর্বি এবং আয়রনের প্রাচুর্য একে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে, এই পুষ্টিগত সুবিধাগুলি সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগানোর জন্য নিরাপদ উৎস থেকে মাংস সংগ্রহ এবং সঠিক প্রস্তুতি অপরিহার্য। বিশেষ করে, যাদের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই মাংস গ্রহণের পূর্বে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক, কারণ কিছু মাংসে পিউরিনের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। এই পুষ্টিগত তুলনামূলক বিশ্লেষণ খাদ্য শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • VietNamNet News

  • An ninh Thủ đô

  • Tạp chí Khoa học phổ thông - Sống Xanh

  • Danviet.vn

  • Bệnh viện Đại học Y Dược TPHCM - Cơ sở 3

  • PHUNUTODAY

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।