প্রদাহ-বিরোধী খাদ্যাভ্যাসে ফুলকপির বহুমুখী পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

ফুলকপি বিশ্বজুড়ে প্রদাহ-বিরোধী খাদ্যাভ্যাসের একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে তার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, কারণ এটিকে একটি অ-প্রদাহজনক সবজি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সবজিটিতে উচ্চ মাত্রায় গ্লুকোসিনোলেট এবং সালফোরাফেন বিদ্যমান, যা উল্লেখযোগ্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুবিধা প্রদান করে এবং কোষীয় স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। সালফোরাফেন, যা একটি শক্তিশালী ক্যান্সার প্রতিরোধক এজেন্ট হিসেবে পরিচিত, তা মুক্ত র‍্যাডিক্যালগুলিকে ধ্বংস করতে এবং অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে কোষকে রক্ষা করতে সক্ষম। উপরন্তু, সালফোরাফেন প্রদাহ সৃষ্টিকারী সাইটোকাইন এবং যৌগের বিকাশ রোধ করার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার মূল কারণগুলি মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারে।

ফুলকপির পুষ্টিগত উপাদানগুলি এটিকে হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী করে তোলে, বিশেষত ভিটামিন কে এবং ফসফরাসের উপস্থিতির কারণে। এই উপাদানগুলি আর্থ্রাইটিসের মতো অবস্থার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেখানে হাড়ের দৃঢ়তা বজায় রাখা অপরিহার্য। শীতকালীন সবজি হওয়া সত্ত্বেও, ফুলকপির ডাঁটা ও সবুজ পাতায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে সহায়ক। যদিও ফুলকপি যকৃতের স্বাভাবিক ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে, এটিকে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে দেখা উচিত, কোনো অলৌকিক 'ডিটক্স' খাদ্য হিসেবে নয়।

ফুলকপি থেকে হজমের সমস্যা সাধারণত অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ বা ভুল রান্নার পদ্ধতির ফল, যা অভিযোজনযোগ্য প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে। ভারতীয় পুষ্টিবিদ নমামি আগরওয়ালের মতে, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো সবজিতে জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে যা হজম করা কঠিন এবং সকালে খেলে গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারে। এই কারণে, হজমের চাপ কমাতে এবং পুষ্টি শোষণ বাড়াতে খাবার ভালোভাবে সেদ্ধ করে বা হালকা ভাপে প্রস্তুত করা বাঞ্ছনীয়। অতিরিক্ত ফাইবার বা আঁশযুক্ত যেকোনো খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করলে পেট ফাঁপা এবং গ্যাস তৈরি হতে পারে, তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ এবং রান্নার কৌশল পরিবর্তন করা হজমজনিত অস্বস্তি এড়াতে সহায়ক।

রান্নাঘরের উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে ফুলকপি তার বহুমুখিতা প্রমাণ করেছে, যেখানে পিৎজার মতো খাদ্যের ভিত্তি তৈরিতে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। এই ধরনের উদ্ভাবন রান্নার সময় সৃষ্ট গন্ধ হ্রাস করতে এবং খাদ্যের পুষ্টিগুণ বাড়াতে সাহায্য করে। ফুলকপি, যা ব্রাসিকা অলেরাসিয়া প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, ১৮২২ সালে ব্রিটিশদের দ্বারা ভারতে চাষের জন্য প্রবর্তিত হয়েছিল। ব্রোকোলির তুলনায় ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে-এর পরিমাণ কম হলেও, ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে 'কোলিন' থাকে, যা মস্তিষ্কের বিকাশ এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, এর গুণাগুণ বজায় রাখতে খুব বেশিক্ষণ ভাজা বা মশলা দিয়ে কষানো উচিত নয়, বরং হালকা ভাপে সেদ্ধ বা অল্প তেলে নাড়াচাড়া করে খাওয়া উচিত।

উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, কারণ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ফুলকপিতে পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। যাদের গেঁটেবাত বা জয়েন্টে ব্যথা রয়েছে, তাদের জন্য ফুলকপির অতিরিক্ত ব্যবহার ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুধুমাত্র মাঝে মাঝে এবং সিদ্ধ বা হালকা সবজি হিসেবে ফুলকপি গ্রহণ করা উচিত, অথবা গুরুতর সমস্যা থাকলে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা শ্রেয়। অন্যদিকে, ফুলকপি তার কম ক্যালোরি এবং উচ্চ ফাইবার উপাদানের কারণে ওজন কমানোর ডায়েটের জন্য একটি আদর্শ সবজি হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে এক কাপ কাটা ফুলকপিতে প্রায় ২৫ ক্যালোরি থাকে। এই বহুমুখী সবজিটি আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞানে তার স্থান দৃঢ় করেছে, যা স্বাস্থ্য সচেতন ভোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ElNacional.cat

  • AS.com

  • SENIOR50

  • podcastdedruni

  • 20Minutos

  • dpa

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।