২০২৪ সালের মিডিয়া আইনের অধীনে যুক্তরাজ্যের প্রধান স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলো নিয়ন্ত্রণে অফকমের নতুন ক্ষমতা
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
যুক্তরাজ্য সরকার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যার মাধ্যমে নেটফ্লিক্স (Netflix), আমাজন প্রাইম ভিডিও (Amazon Prime Video) এবং ডিজনি প্লাস (Disney+)-এর মতো বৃহৎ ভিডিও অন-ডিমান্ড (VoD) প্ল্যাটফর্মগুলোকে মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম (Ofcom)-এর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের মিডিয়া আইনে এই পরিবর্তনটি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো দর্শকদের ক্রমবর্ধমান পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরি করা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ প্রতি মাসে স্ট্রিমিং পরিষেবা ব্যবহার করেন, যা প্রথাগত সরাসরি টেলিভিশন দেখার হার (৬৭ শতাংশ) থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
নতুন এই নীতিমালা মূলত 'টিয়ার ১ পরিষেবা' (Tier 1 Services) হিসেবে চিহ্নিত প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কার্যকর হবে, যাদের যুক্তরাজ্যে ৫ লক্ষেরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। এই তালিকার মধ্যে আইটিভিএক্স (ITVX) এবং চ্যানেল ৪ (Channel 4)-এর মতো সম্প্রচারকদের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এখন থেকে এই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রথাগত টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মতো একই ধরনের কঠোর মানদণ্ড ও কোড অফ কন্ডাক্ট মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে সংবাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা এবং দর্শকদের আপত্তিকর বা ক্ষতিকারক বিষয়বস্তু থেকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, আমস্টারডাম-ভিত্তিক নেটফ্লিক্সের মতো অনেক জনপ্রিয় পরিষেবা এতদিন লাইসেন্সপ্রাপ্ত টিভি চ্যানেলগুলোর মতো সমান স্তরের নিয়ন্ত্রণে ছিল না।
অফকম এখন থেকে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু নিয়ে দর্শকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা লাভ করেছে। যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ২,৫০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা অথবা যুক্তরাজ্যে অর্জিত বার্ষিক আয়ের ৫ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক দণ্ড আরোপ করা হতে পারে। সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব লিসা নন্দী (Lisa Nandy) এই পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান যে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো দর্শকদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রথাগত সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর মধ্যে একটি সমতা নিশ্চিত করা।
এই সংস্কারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কন্টেন্টের সহজলভ্যতা বা অ্যাক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করা। নতুন 'ভিওডি অ্যাক্সেসিবিলিটি কোড' অনুযায়ী, প্রতিটি পরিষেবার মোট ক্যাটালগের অন্তত ৮০ শতাংশে সাবটাইটেল (subtitles), ১০ শতাংশে অডিও ডেসক্রিপশন (audio description) এবং ৫ শতাংশে ইশারা ভাষা বা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (sign language) থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং ৩ লক্ষ ৫০ হাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। যদিও কন্টেন্ট স্ট্যান্ডার্ড বা বিষয়বস্তুর মানদণ্ড সংক্রান্ত নিয়মগুলো দ্রুত কার্যকর হবে, তবে অ্যাক্সেসিবিলিটির এই লক্ষ্যমাত্রাগুলো পূর্ণ করার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে চার বছর সময় দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুই বছর পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অফকম খুব শীঘ্রই এই স্ট্যান্ডার্ড কোড এবং অ্যাক্সেসিবিলিটি কোড চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে জনমত যাচাই বা পাবলিক কনসালটেশন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনটি মূলত এই বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে যে, স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলো এখন ব্রিটিশ সাংস্কৃতিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আধুনিক মিডিয়া ব্যবহারের ধরণ এবং বর্তমান সময়ের চাহিদার সাথে তাল মেলাতে এই ধরনের আইনি কাঠামো সংস্কার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, দর্শকরা যে মাধ্যমেই অনুষ্ঠান দেখুন না কেন, তারা যেন উচ্চমানের এবং নিরাপদ কন্টেন্ট উপভোগ করতে পারেন।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
El Output
Sky News
The Guardian
GOV.UK
GOV.UK
VideoWeek
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



