Schmidt Ocean Institute-এর ROV পাইলটরা সাম্প্রতিকালে একটি বিরল সুযোগ পেয়েছে, Colorado-Rawson সাবমেরিনটি অন্বেষণ করার জন্য অবতরণের সময় অসংলগ্ন বিশাল phantom jellyfish (Stygiomedusa gigantea) দেখেছেন।
গভীর সমুদ্রের রহস্য উন্মোচন: আর্জেন্টিনায় বিশালাকার প্রবাল প্রাচীরের সন্ধান
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
Schmidt Ocean Institute-এর গবেষণা জাহাজ R/V Falkor (too)-তে পরিচালিত আর্জেন্টিনার এক রোমাঞ্চকর অভিযান ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সম্পন্ন হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিকের জীববৈচিত্র্যের মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের সমুদ্রের গভীরতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছে। এই গবেষণার ফলাফলগুলো কেবল নতুন ভৌগোলিক তথ্যই প্রদান করেনি, বরং সমুদ্রের তলদেশের অজানা প্রাণবৈচিত্র্যকেও বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।
Midwater এ আপনাকে স্বাগতম! | জীবিত বায়োরিয়েটর হিসেবে প্রাণী অংশ ১
গবেষক দলটি এই অভিযানে এখন পর্যন্ত পরিচিত বৃহত্তম শীতল জলের প্রবাল প্রাচীর 'Bathelia candida' শনাক্ত করেছে। আর্জেন্টিনার মহীসোপান বরাবর অন্তত ০.৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রাচীরটি প্রত্যাশিত সীমানার চেয়ে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এই আবিষ্কারটি বিপন্ন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের (VME) সূচক প্রজাতির বিচরণক্ষেত্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে এই প্রজাতিগুলো অনেক বেশি প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম।
সমুদ্রের অতল গভীরে ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এবং নমুনা হিসেবে সংগৃহীত হয়েছে প্রায় ২৮টি সম্ভাব্য নতুন প্রজাতির প্রাণী। এর মধ্যে রয়েছে বিচিত্র ধরনের সামুদ্রিক কৃমি, প্রবাল এবং সি-অ্যানিমোন যা আগে কখনো বিজ্ঞানের নজরে আসেনি। এই আবিষ্কারগুলো প্রমাণ করে যে, সমুদ্রের গভীরতা আজও বিজ্ঞানের জন্য এক বিশাল রহস্যের ভাণ্ডার, যেখানে প্রতিটি নতুন অনুসন্ধান নতুন বিস্ময় নিয়ে আসে এবং জীববিজ্ঞানের প্রচলিত তত্ত্বগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে।
অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি হলো প্রায় ১ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত একটি সক্রিয় 'কোল্ড সিপ' (cold seep) বাস্তুতন্ত্র। কয়েকশ মিটার গভীরে অবস্থিত এই অঞ্চলে জীবনের অস্তিত্ব টিকে আছে কেমোসিন্থেসিস বা রাসায়নিক সংশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে সূর্যের আলোর কোনো প্রবেশাধিকার নেই। এখানে মোলাস্ক, কাঁকড়া এবং অন্যান্য প্রাণীদের এক অনন্য সহাবস্থান লক্ষ্য করা গেছে, যা রাসায়নিক শক্তিকে ব্যবহার করে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খাদ্যশৃঙ্খল তৈরি করেছে।
আর্জেন্টাইন বেসিনে প্রথমবারের মতো ৩৮৯০ মিটার গভীরতায় একটি 'হোয়েল ফল' বা মৃত তিমির দেহাবশেষের পতন নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই মৃতদেহটি গভীর সমুদ্রে জীবনের এক অস্থায়ী দ্বীপে পরিণত হয়েছে, যা ওসেড্যাক্স (Osedax) বা 'হাড়-খেকো' কৃমির মতো বিরল প্রাণীদের খাদ্য সরবরাহ করছে। এই সিম্বিওটিক কৃমিগুলো তিমির হাড় প্রক্রিয়াজাত করে গভীর সমুদ্রের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং পুষ্টির চক্র বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ROV SuBastian নামক রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকলটি প্রায় ৪৫০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছে বিরল এবং বিশালাকার 'ফ্যান্টম' জেলিফিশ (Stygiomedusa gigantea) ক্যামেরাবন্দি করেছে। এছাড়াও মালভিনাস ট্রাফ (Malvinas Trough) অঞ্চলে প্রাচীন প্রবাল বাগান এবং 'প্যারাগোরজিয়া আরবোরিয়া' (Paragorgia arborea)-এর মতো বিরল ল্যান্ডস্কেপ দেখা গেছে। এই প্রাচীন প্রবালগুলো সমুদ্রের তলদেশের এক শান্ত এবং রহস্যময় পরিবেশের চিত্র ফুটিয়ে তোলে যা হাজার হাজার বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
এই আবিষ্কারগুলো কেবল গভীর সমুদ্রের রোমাঞ্চকর তথ্য নয়, বরং এটি আমাদের গ্রহের জীবনের আন্তঃসংযুক্ততার এক অকাট্য প্রমাণ। প্রবাল শহর থেকে শুরু করে রাসায়নিক শক্তির উৎস পর্যন্ত প্রতিটি বাস্তুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল, যা মানুষের হস্তক্ষেপ এবং দূষণের কারণে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বর্তমানের এই ম্যাপিং এবং নমুনা সংগ্রহ কেবল বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়, বরং সমুদ্রের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
উৎসসমূহ
Ocean News & Technology
Marine Technology News
The Economic Times
Schmidt Ocean Institute
Infobae
Schmidt Ocean Institute