ঐতিহাসিক মুহূর্ত: ইউক্রেনীয় বরফ-ভাঙা জাহাজ 'নোওসফেরা' প্রথমবার ব্রিটিশ 'রোটেরা' ঘাঁটিতে মালপত্র পৌঁছে দিল

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

ইউক্রেনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা জাহাজ 'নোওসফেরা' তার পঞ্চম অ্যান্টার্কটিক মরসুমে এক যুগান্তকারী লজিস্টিক সাফল্য অর্জন করেছে। এই জাহাজটি ডিসেম্বর ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ মেরু বৃত্ত অতিক্রম করে ব্রিটিশ গবেষণা কেন্দ্র 'রোটেরা'-তে কর্মী এবং প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের জন্য যাত্রা করে। এটি ছিল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ যা ইউক্রেনের মেরু অভিযানের সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

ক্যাপ্টেন আন্দ্রেই স্টারিশের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানটি ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মিশনগুলির মধ্যে একটি, যা ইউক্রেনীয় বৈজ্ঞানিক নৌবহরের উচ্চ প্রশিক্ষণের মানকে তুলে ধরে। 'রোটেরা'-তে পৌঁছানোর জন্য ক্রুদের অসাধারণ নেভিগেশনাল দক্ষতার প্রয়োজন হয়েছিল। অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত মার্গারেট বে উপসাগরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময়, বরফের বিশাল স্তূপের মধ্যে জাহাজটিকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সতর্কতার সাথে কৌশল পরিবর্তন করতে হয়েছিল। 'নোওসফেরা' ইউক্রেনের 'একাডেমিক ভার্নাডস্কি' স্টেশন থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে যাত্রা করে, যা দক্ষিণ মেরু বৃত্তের উত্তরে অবস্থিত।

অ্যাডিলেড দ্বীপে অবস্থিত ব্রিটিশ স্টেশন 'রোটেরা' হলো অ্যান্টার্কটিকার বুকে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বৈজ্ঞানিক স্থাপনা। গ্রীষ্মকালে এখানে প্রায় একশো বিশেষজ্ঞ কাজ করেন, যদিও শীতকালে এই সংখ্যা কমে ২২ জনে দাঁড়ায়। এই মরসুমে 'রোটেরা'-তে মালপত্র সরবরাহ এবং কর্মীদের পালাবদল সম্ভব হয়েছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রসারের ফলে, যা বর্তমান অভিযানের একটি মূল ভিত্তি।

'নোওসফেরা' এই মরসুমে মেক্সিকো এবং কলম্বিয়ার সাথে যৌথ বৈজ্ঞানিক কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ মহাসাগরের উষ্ণায়ন প্রক্রিয়াগুলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। বিশেষত, সমুদ্রবিজ্ঞানীরা 'মেরিন হিট ওয়েভ' বা সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ নিয়ে গবেষণা করছেন—যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে শীতল অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলেও অস্বাভাবিক উষ্ণতার সৃষ্টি করে। ভূতত্ত্ববিদরা মেক্সিকান সহকর্মীদের সাথে মাল্টিকোর ডিভাইস ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশের পলি সংগ্রহ করেছেন, যা বিগত শতক ও সহস্রাব্দের প্রাচীন জলবায়ু পুনর্গঠনে সহায়তা করবে। অধিক নির্ভুল বিশ্লেষণের জন্য, দক্ষিণ মহাসাগরের ১২টি নির্দিষ্ট বিন্দুতে CTD প্রোব ব্যবহার করে তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, অক্সিজেনের মাত্রা এবং অম্লতা পরিমাপ করা হয়েছে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জাহাজটিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে ঘাঁটি গাড়তে হলেও, বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম কেবল বজায় থাকেনি, বরং তা আরও প্রসারিত হয়েছে। 'নোওসফেরা'-র এই পঞ্চম অ্যান্টার্কটিক যাত্রাটি সম্পাদিত গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সংখ্যার দিক থেকে রেকর্ড গড়তে চলেছে, যা বিশ্বজুড়ে মেরু বিজ্ঞানে ইউক্রেনের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছে। 'রোটেরা' পরিদর্শনের পর, বরফ-ভাঙা জাহাজটি তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখে 'একাডেমিক ভার্নাডস্কি' স্টেশনের দিকে প্রত্যাবর্তন শুরু করেছে।

দক্ষিণ মহাসাগরের গবেষণা বিশ্বব্যাপী তাৎপর্য বহন করে, কারণ এই অঞ্চলটি মানুষের সৃষ্ট CO₂ নির্গমনের প্রায় ৪০% শোষণ করে নেয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। 'নোওসফেরা'-র এই অভিযান গ্রহের জটিল জলবায়ু প্রক্রিয়াগুলি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ukranews_com

  • УНІАН

  • Украинская сеть новостей

  • УСІ Online

  • Бабель

  • Odessa Journal

  • Ukrinform

  • ForUA

  • Ukrinform

  • UNN

  • Alpha Navigation

  • The UKRAINE Network

  • Бабель

  • Укрінформ

  • Главред

  • УСІ Online

  • Судновплавство

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।