‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’-এর দ্রুত বরফ ক্ষয় পরিমাপের জন্য জরুরি অভিযান

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

আন্তর্জাতিক গবেষক দলের প্রায় চল্লিশজন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে একটি জরুরি অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযানটি নিউজিল্যান্ড থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ ‘আরাওন’-এ চেপে জানুয়ারি মাসের শুরুতে ২০২৬ সালে থুয়েটস হিমবাহের দিকে যাত্রা করেছে। এই হিমবাহটি ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ বা মহাপ্রলয়ের হিমবাহ নামে পরিচিত। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো হিমবাহটির দ্রুত বিচ্ছিন্নতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা, যা বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার জন্য এক বিশাল বিপদ সৃষ্টি করছে।

থুয়েটস হিমবাহের বরফের ক্ষেত্রফল প্রায় পুরো ব্রিটেনের আয়তনের সমান। যদি এই হিমবাহটি সম্পূর্ণ গলে যায়, তবে সমুদ্রের জলস্তর কমপক্ষে ৬০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এই বৃদ্ধি ৩ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে, সমুদ্রপৃষ্ঠের মোট উচ্চতা বৃদ্ধির প্রায় ৪ শতাংশের জন্য থুয়েটস দায়ী। ২০২২ সালের গবেষণায় দেখা গেছে যে পূর্ব তাক হিমবাহের খণ্ড খণ্ড হয়ে যাওয়ার হার প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ঘটছে, যা বর্তমান মিশনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

এই মিশনের প্রধান কাজ হলো বরফের শত শত মিটার গভীরে প্রবেশ করা, হয় খনন করে অথবা গলিয়ে, যাতে সেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেন্সর বসানো যায় যেখানে হিমবাহটি সমুদ্রের তলদেশের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই সেন্সরগুলি তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং জলের প্রবাহের গতি সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি ও অবিরামভাবে সরবরাহ করবে। গবেষকরা অ্যান্টার্কটিকের প্রতিকূল পরিবেশে প্রায় এক মাস ধরে কাজ করার পরিকল্পনা করেছেন। এই অঞ্চলে বরফ প্রতিদিন প্রায় নয় মিটার গতিতে সরে যাচ্ছে।

সমুদ্রের তলদেশের জলের অবস্থা বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা ‘আইসফিন’ নামক একটি দূরনিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করবেন। এই যানে কন্ডাক্টিভিটি-টেম্পারেচার-ডেপথ (CTD) সেন্সর, অ্যাকোস্টিক ডপলার কারেন্ট প্রোফাইলার এবং মাল্টিবিম ইকোসাউন্ডার সংযুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণের জন্য সমুদ্রের বয়া এবং বরফের তলদেশের গলন গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গ্রাউন্ড-ফেজড রাডার (ApRES) ব্যবহার করা হবে।

থুয়েটস হিমবাহ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা (ITGC) আগামী ১০০ বছরের জন্য এই হিমবাহের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট চিত্র পেতে চাইছে। কারণ এর পতন পশ্চিম অ্যান্টার্কটিক বরফের বিশাল অংশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। গবেষকরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন কারণ উষ্ণ সমুদ্র স্রোতগুলি হিমবাহের ভিত্তি ক্রমাগত ক্ষয় করছে, যার ফলে ফাটল ও গহ্বর তৈরি হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইন-এর বিজ্ঞানীরা পূর্বে আবিষ্কার করেছিলেন যে শক্তিশালী জলের ঘূর্ণি হিমবাহকে নিচ থেকে তীব্রভাবে গলাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের মোট সমুদ্রের নিচের গলনের প্রায় ২০ শতাংশের জন্য দায়ী হতে পারে। বর্তমান জলবায়ু মডেলে এই প্রক্রিয়াগুলিকে অন্তর্ভুক্ত না করলে ঝুঁকির মাত্রা কম করে দেখানো হতে পারে।

এই অভিযান থেকে সংগৃহীত তথ্যগুলিকে হিমবাহের মডেলগুলির সাথে যুক্ত করা হবে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য অবদান সম্পর্কে আরও নির্ভুল পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হবে, যা বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

12 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Izvestia.ru

  • VICE

  • SeaNews Turkey

  • UM Today

  • Miles O'Brien

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।