রাশিয়ার শিয়াল পোষ মানানোর গবেষণা: বিবর্তনীয় জিনতত্ত্বের চলমান অনুসন্ধান
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
রাশিয়ার নভোসিবিরস্কের সাইটোলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ইনস্টিটিউটে ১৯৫৯ সালে শুরু হওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা, যা রূপালী শিয়ালদের মধ্যে আচরণগত নির্বাচনের মাধ্যমে কুকুরের পোষ মানানোর প্রক্রিয়া বোঝার লক্ষ্যে নিবেদিত, তা বিবর্তনীয় জিনতত্ত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অব্যাহত রয়েছে। এই গবেষণাটি শুরু করেছিলেন বিখ্যাত সোভিয়েত জেনেটিসিস্ট দিমিত্রি বেলিয়ায়েভ, চার্লস ডারউইনের কাজের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, যিনি ধারণা করেছিলেন যে পোষ মানানোর প্রক্রিয়াটি মূলত মানুষের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের জন্য নির্বাচন করার ফল। এই কঠোর প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র মানুষের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের ভিত্তিতে শিয়ালদের প্রজনন করানো হয়েছিল, যার ফলে শিয়ালগুলির মধ্যে কুকুরের মতো শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যেমন ঝুলে পড়া কান এবং ছোপযুক্ত লোম, দেখা দিতে শুরু করে, যা 'ডমেস্টিকেশন সিনড্রোম' বা পোষ মানানোর লক্ষণ সংক্রান্ত তত্ত্বকে সমর্থন করে।
এই প্রকল্পটি দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে জেনেটিসিস্ট লিউডমিলা ট্রুট নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যিনি ২০২৪ সালে প্রয়াত হন, এবং তাঁর প্রয়াণের পরেও গবেষণাটি ২০২৩ সাল পর্যন্ত সচল ছিল এবং ২০২৬ সালেও এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তুলনার জন্য, এই গবেষণায় আগ্রাসী-প্রজননকৃত লাইন এবং নিয়ন্ত্রণমূলক লাইন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সময়ের সাথে সাথে আচরণের পরিবর্তনগুলি পরিমাপ করতে সাহায্য করে। ট্রুটের মতে, এই পরীক্ষাটি কয়েক দশকের মধ্যে এমন একটি প্রাচীন প্রক্রিয়াকে সংক্ষিপ্ত করেছে যা হাজার হাজার বছর ধরে ঘটেছিল, যার ফলে আগ্রাসী আচরণের বন্য পূর্বপুরুষদের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে গেছে। গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে, মাত্র ছয় প্রজন্মের মধ্যে, শিয়ালদের মধ্যে লেজ নাড়ানো এবং মানুষের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।
যদিও 'ডমেস্টিকেশন সিনড্রোম'-এর ফলাফলের শক্তির বিষয়ে কিছু বৈজ্ঞানিক বিতর্ক রয়েছে, এই কাজের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জিনগত চিহ্নিতকারীগুলি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে *SorCS1* জিনটি বিশেষভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সাথে যুক্ত। ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ের ডঃ আন্না কুকেকোভাসহ আন্তর্জাতিক গবেষক দল শিয়ালের ডিএনএ-এর সম্পূর্ণ নীলনকশা ব্যবহার করে এই জিনটি চিহ্নিত করেছে, যা মস্তিষ্কের কোষগুলির মধ্যে সংযোগস্থল বা সিন্যাপসের গঠন ও কার্যকারিতায় জড়িত। এই জিনের একটি নির্দিষ্ট রূপভেদ বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে আগ্রাসী শিয়ালদের মধ্যে সেই রূপভেদটি অনুপস্থিত ছিল। এই জিনগত সংযোগটি মানুষের উইলিয়ামস-বেউরেন সিনড্রোমের সাথেও সম্পর্কিত, যা অতিরিক্ত বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের দ্বারা চিহ্নিত।
এই পরীক্ষাটি কেবল শিয়ালের পোষ মানানো নিয়েই নয়, বরং সামগ্রিক বিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও আলোকপাত করেছে, যা প্রমাণ করে যে শুধুমাত্র আচরণের উপর ভিত্তি করে প্রাকৃতিক নির্বাচন একটি জীবের রূপ, প্রজনন হার, হরমোন নিঃসরণ এবং বুদ্ধিমত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষকরা আগ্রাসী এবং পোষ মানা শিয়ালদের মধ্যে মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে প্রায় ১৫০টি জিনে ভিন্ন ভিন্ন এক্সপ্রেশন প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছেন, যার মধ্যে কিছু সেরোটোনিন রিসেপ্টর পথের সাথে যুক্ত, যা মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এই গবেষণার ফলাফলগুলি মানুষের জ্ঞানীয় ক্ষমতা সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পথ খুলে দিতে পারে, কারণ এটি স্মৃতিশক্তি এবং শেখার সাথে সম্পর্কিত জিনগুলিকে উন্মোচিত করতে সহায়তা করছে। এই চলমান গবেষণাটি প্রমাণ করে যে, প্রাণীর পোষ মানানোর প্রক্রিয়াটি কেবল বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, বরং গভীর জিনগত রূপান্তরের ফল।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
News Directory 3
Vertex AI Search
Vertex AI Search
Vertex AI Search
Vertex AI Search
Vertex AI Search
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



