বিড়াল ও মালিকের বন্ধন: গবেষণায় কুকুরের অনুরূপ সংযুক্তির প্রমাণ

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল যে বিড়াল স্বভাবগতভাবে স্বাধীনচেতা এবং মানুষের প্রতি গভীর আসক্তি গঠনে অক্ষম। তবে, ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি (OSU)-এর একটি সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই ধারণাকে জোরালোভাবে খণ্ডন করা হয়েছে। এই গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে গৃহপালিত বিড়াল এবং তাদের মালিকদের মধ্যেকার বন্ধন অত্যন্ত গভীর, যা কুকুর এবং মানব শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া সংযুক্তির ধরনের সঙ্গে তুলনীয়। এই গবেষণাটি বিড়ালের সামাজিক আচরণ সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

গবেষকরা বিড়ালের আচরণ মূল্যায়নের জন্য 'সিকিওর বেস টেস্ট' বা নিরাপদ ভিত্তি পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যা সাধারণত মানব শিশু এবং কুকুরের সংযুক্তি শৈলী অধ্যয়নের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষায়, বিড়ালগুলিকে প্রথমে তাদের মালিকের সাথে একটি অপরিচিত পরিবেশে দুই মিনিটের জন্য রাখা হয়, এরপর মালিক দুই মিনিটের জন্য কক্ষ ত্যাগ করেন এবং সবশেষে মালিক ফিরে আসেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গবেষকরা বিড়ালের মানসিক চাপ এবং মালিকের প্রতি তাদের নির্ভরতা পরিমাপ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মোট বিড়ালদের মধ্যে প্রায় ৬৪.৩% থেকে ৬৫% বিড়াল 'নিরাপদ সংযুক্তি' প্রদর্শন করেছে। নিরাপদ সংযুক্তি প্রদর্শনকারী বিড়ালগুলি তাদের মালিককে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে অপরিচিত পরিবেশ অন্বেষণ করেছে এবং মালিকের সংক্ষিপ্ত অনুপস্থিতির পর পুনরায় সাক্ষাতের সময় আরামের জন্য মালিকের কাছে ফিরে আসে, যা প্রমাণ করে যে মানসিক চাপের মুহূর্তে মানুষই তাদের প্রাথমিক নিরাপত্তার উৎস হিসেবে কাজ করে।

এই গবেষণার নেতৃত্বদানকারী গবেষক ক্রিস্টিন ভিটেল, যিনি OSU-এর কলেজ অফ এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের হিউম্যান-অ্যানিমেল ইন্টারঅ্যাকশন ল্যাবের গবেষক ছিলেন, উল্লেখ করেন যে এই সংযুক্তি একটি জৈবিকভাবে প্রাসঙ্গিক আচরণ যা গৃহপালনের পরেও টিকে থাকে। গবেষণায় মোট ১০৮টি বিড়াল পরীক্ষা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৭০টি ছিল কিটেন (ছানা) এবং ৩৮টি ছিল প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল। কিটেনদের মধ্যে ৬৪.৩% সুরক্ষিত এবং ৩৫.৭% অসুরক্ষিত সংযুক্তির শ্রেণীতে পড়েছিল, যা প্রাপ্তবয়স্ক বিড়ালদের ফলাফলের (৬৫.৮% সুরক্ষিত এবং ৩৪.২% অসুরক্ষিত) সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে যায়। এই ফলাফলগুলি মানব শিশুদের সুরক্ষিত সংযুক্তির হার (৬৫%) এর সঙ্গেও আশ্চর্যজনকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

অসুরক্ষিত সংযুক্তির ক্ষেত্রে, বিড়ালগুলি মালিক ফিরে এলে লেজ নাড়ানো বা ঠোঁট চাটার মতো চাপের লক্ষণ দেখায় এবং হয় মালিককে এড়িয়ে চলে (পরিহার), অথবা তাদের কোলে চেপে বসে থাকে (উভমুখীতা)। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে একবার সংযুক্তির শৈলী প্রতিষ্ঠিত হলে, ছয় সপ্তাহের সামাজিকীকরণ প্রশিক্ষণের পরেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা ইঙ্গিত দেয় যে বিড়ালের বন্ধন তৈরির প্রক্রিয়াটি সময়ের সাথে সাথে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে বিড়ালের স্নেহ এবং বন্ধন তৈরির ক্ষমতা প্রায়শই কুকুরের চেয়ে সূক্ষ্ম হলেও তা বাস্তব এবং দৃঢ়। এই আবিষ্কার প্রাণী কল্যাণ এবং আশ্রয়কেন্দ্রের বিড়ালদের দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

9 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Olhar Digital - O futuro passa primeiro aqui

  • Universo Digital

  • Canal do Pet

  • IA MonitorNews

  • Oregon State University

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।