সাউন্ডবোর্ডের মাধ্যমে ব্যবহৃত শব্দের অর্থ বুঝতে পারে কুকুর: গবেষণায় নতুন তথ্য

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

'NOVA' নামক সাম্প্রতিক একটি তথ্যচিত্র কুকুরের সাউন্ডবোর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের ইচ্ছা প্রকাশের বিষয়টি সামনে এনেছে। এটি বিজ্ঞানীদের কুকুরের জ্ঞানীয় ক্ষমতা নিয়ে আরও গভীরভাবে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এই ক্ষেত্রটি 'অগমেন্টেটিভ ইন্টারস্পিসিস কমিউনিকেশন' (AIC) নামে পরিচিত, যেখানে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মালিক তাদের পোষা প্রাণীদের এই ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করতে শেখাচ্ছেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান ডিয়েগোর ডক্টর ফেদেরিকো রোসানো এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর আমালিয়া বাস্তোস সহ প্রখ্যাত বিজ্ঞানীরা এই বিশাল গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এটি প্রাণী যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত অন্যতম বৃহত্তম গবেষণা, যা বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণের জন্য নাগরিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে 'PLOS ONE' জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায় যে, সাউন্ডবোর্ড ব্যবহারে অভ্যস্ত কুকুরগুলো নির্দিষ্ট শব্দের প্রতি যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম। শব্দটি মৌখিকভাবে বলা হোক বা যন্ত্রের বোতাম টিপে শোনানো হোক, তারা সমানভাবে সাড়া দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে খাবার, খেলা এবং বাইরে যাওয়ার মতো শব্দের ক্ষেত্রে কুকুরগুলো প্রাসঙ্গিক আচরণ প্রদর্শন করেছে। এমনকি কোনো অপরিচিত ব্যক্তি শব্দটি উচ্চারণ করলে বা বোতামের মাধ্যমে শব্দটি বাজানো হলেও তাদের প্রতিক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রধান গবেষক ফেদেরিকো রোসানো উল্লেখ করেছেন যে, এই ফলাফলগুলো প্রমাণ করে যে শব্দগুলো কুকুরের কাছে অর্থবহ এবং তারা কেবল মানুষের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি দেখে নয়, বরং শব্দের অর্থ বুঝেই প্রতিক্রিয়া জানায়।

এই পরীক্ষার অংশ হিসেবে ৩০টি কুকুরের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং ২৯ জন মালিকের মাধ্যমে নাগরিক বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। সেখানে দেখা গেছে যে 'প্লে' (খেলা) এবং 'আউটসাইড' (বাইরে) শব্দগুলো কুকুরদের মধ্যে সঠিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অন্য একটি গবেষণায় ১৫২টি কুকুরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, বোতাম টেপা কোনো আকস্মিক ঘটনা বা মালিকের কাজের অনুকরণ নয়। বরং তারা নির্দিষ্ট কিছু বোতামের জোড়া ব্যবহার করেছে যা দৈবচয়নের তুলনায় অনেক বেশি অর্থবহ। উদাহরণস্বরূপ, 'আউটসাইড' + 'টয়লেট' অথবা 'ফুড' + 'ওয়াটার' এর মতো সংমিশ্রণগুলো তাদের সুনির্দিষ্ট ইচ্ছা প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়, যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই তথ্যগুলো কুকুরের ইচ্ছা প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তা মানুষের মতো ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণ করে না। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যারিক কারশেনবাম মনে করেন যে, কুকুরগুলো শব্দের সাথে নির্দিষ্ট ঘটনার সংযোগ তৈরি করে, কিন্তু ভাষার বিমূর্ত প্রকৃতি হয়তো তারা পুরোপুরি বোঝে না। মূল বৈজ্ঞানিক প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত: প্রাণীরা কি বোতামের অবস্থান বা পুরস্কারের আশা ছাড়াই শব্দের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে? ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের জাচারি এন. হাউটন এবং ক্লেভারপেট ইনকর্পোরেটেডের লুকাস নারাঞ্জো সহ রোসানোর দল এই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের মাধ্যমে পোষা প্রাণীদের বোতাম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রথম অভিজ্ঞতামূলক গবেষণা পরিচালনা করছেন।

কুকুরের এই দক্ষতা ভবিষ্যতে পোষা প্রাণীদের প্রয়োজনগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং মানুষ ও কুকুরের মধ্যকার বন্ধন দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে। রোসানো এবং তার সহকর্মীদের এই কাজ বিশ্বজুড়ে প্রাণী আচরণবিদদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। উল্লেখ্য যে, রোসানো অভিনীত 'Can Dogs Talk?' নামক তথ্যচিত্রটি ২০২৬ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি পিবিএস (PBS) চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়েছে। এই গবেষণাটি প্রাণী জগতের বুদ্ধিবৃত্তি সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণাগুলোকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত যোগাযোগের পথ প্রশস্ত করছে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The Wall Street Journal

  • Hollywood Times

  • UC San Diego

  • CET

  • TVBrittanyF.com

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।