মেকাম নিলামে ফেরারি ২৫০ জিটিও ‘বিয়ানকো স্পেশাল’-এর রেকর্ডমূল্যে বিক্রি
সম্পাদনা করেছেন: alya myart
১৯৬২ সালের একটি অত্যন্ত বিরল এবং আইকনিক ফেরারি ২৫০ জিটিও (Ferrari 250 GTO), যার চ্যাসিস নম্বর ৩৭২৯জিটি (3729GT), সম্প্রতি মেকাম (Mecum) নিলাম হাউসের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। ফ্লোরিডার কিসিমিতে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য নিলামে জানুয়ারি মাসে গাড়িটি ৩৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়। সাদা রঙের এই ধ্রুপদী গাড়িটি নিলামের দুনিয়ায় এক বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং এটি মেকাম নিলামে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া গাড়ির মর্যাদা পেয়েছে।
‘বিয়ানকো স্পেশাল’ (Bianco Speciale) নামে পরিচিত এই মডেলটি মারানেলোর কারখানা থেকে বের হওয়া মাত্র ৩৬টি ২৫০ জিটিও-র মধ্যে একমাত্র সাদা রঙের সংস্করণ হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাজ্যের একটি বিখ্যাত ব্যক্তিগত রেসিং টিমের মালিক জন কুম্বস এই বিশেষ গাড়িটি অর্ডার করেছিলেন এবং ১৯৬২ সালের ২৮ জুলাই এটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। এই শক্তিশালী গাড়িটিতে রয়েছে ৩.০ লিটারের টিপো ১৬৮/৬২ কলম্বো ভি১২ (Tipo 168/62 Colombo V12) ইঞ্জিন, যা ৩০০ অশ্বশক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। এই চ্যাসিসটির একটি সমৃদ্ধ রেসিং ইতিহাস রয়েছে, যেখানে গ্রাহাম হিল, রিচি গিনথার এবং জ্যাক সিয়ার্সের মতো কিংবদন্তি চালকরা এর স্টিয়ারিং ধরেছিলেন। ১৯৬২ সালের আগস্টে ব্র্যান্ডস হ্যাচে রয় সালভাদোরির হাত ধরে এটি রেসিং জগতে অভিষেক ঘটায় এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। পরবর্তীতে গুডউডে গ্রাহাম হিলের পরিচালনায় আরএসি ট্যুরিস্ট ট্রফিতেও এটি রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল।
এই ঐতিহাসিক গাড়িটির বর্তমান ক্রেতা হলেন প্রখ্যাত সংগ্রাহক ডেভিড এস.কে. লি, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ferraricollector_davidlee’ নামে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি এই ক্রয়কে তার বিশাল এবং মূল্যবান সংগ্রহের একটি ‘ফিনিশিং পিস’ বা পূর্ণতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে গাড়িটি জন শার্লির মতো বিভিন্ন মালিকের অধীনে ছিল, যিনি ১৯৯৯ সাল থেকে এটি একটি নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার গ্যারেজে অত্যন্ত যত্নে সংরক্ষণ করেছিলেন। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গাড়িটি বিভিন্ন সময়ে মেরামত এবং নতুন করে রং করা হলেও এটি কখনোই সম্পূর্ণভাবে পুনর্নির্মাণ বা রিস্টোর করা হয়নি। এর ফলে গাড়িটি তার আদি রূপ এবং ঐতিহাসিক ‘প্যাটিনা’ এখনো চমৎকারভাবে ধরে রেখেছে, যা সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।
যদিও ৩৮.৫ মিলিয়ন ডলার একটি বিশাল অঙ্ক, তবুও এটি বাজারের কিছু উচ্চাভিলাষী প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম ছিল। অনেক বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন এর দাম ৫০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, কারণ অতীতে ২০১৮ সালে এই মডেলের ব্যক্তিগত বিক্রি ৭০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এই তুলনামূলক কম দামের পেছনে একটি প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০২৩ সালের একটি অগ্নিকাণ্ডকে। সেই দুর্ঘটনায় গাড়িটির মূল ইঞ্জিনটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে পরবর্তীতে একটি প্রতিস্থাপিত ভি১২ ইঞ্জিন স্থাপন করতে হয়। তবে এই পরিবর্তন সত্ত্বেও, ৩৭২৯জিটি চ্যাসিসটি মেকাম নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি গাড়ির রেকর্ডটি নিজের করে নিতে সক্ষম হয়েছে।
কিসিমির এই মেকাম নিলামে কেবল ফেরারি ২৫০ জিটিও নয়, আরও কিছু অত্যন্ত মূল্যবান এবং বিরল গাড়ি বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৩ সালের একটি ফেরারি এনজো (Ferrari Enzo), যা ১৭.৮৭৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে এই নির্দিষ্ট মডেলটির জন্য একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। এছাড়াও একটি ফোর্ড জিটি৪০ এমকে২ (Ford GT40 MkII) ফ্যাক্টরি লাইটওয়েট সংস্করণ ১২ মিলিয়ন ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। এই উচ্চমূল্য এবং সংগ্রাহকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, গত শতকের মাঝামাঝি সময়ের ধ্রুপদী এবং অভিজাত অটোমোবাইলের প্রতি বিশ্বজুড়ে এক প্রবল আকর্ষণ বিদ্যমান।
পরিশেষে বলা যায়, ফেরারি ২৫০ জিটিও ‘বিয়ানকো স্পেশাল’-এর এই রেকর্ডমূল্যে বিক্রি অটোমোবাইল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এটি কেবল একটি যান্ত্রিক যান নয়, বরং এটি প্রকৌশলগত উৎকর্ষ এবং শৈল্পিক সুষমার এক অনন্য মেলবন্ধন। সংগ্রাহকদের কাছে এই ধরণের গাড়ির আবেদন সময়ের সাথে সাথে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে ধ্রুপদী গাড়ির বাজারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এই নিলামের সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক বিরল গাড়িকে জনসমক্ষে নিয়ে আসার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
25 দৃশ্য
উৎসসমূহ
ANSA.it
Autoweek
2026: Ten Most Expensive Cars Sold at Public Auction
Autoblog
The Supercar Blog
duPont REGISTRY News
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
