১৮৯৬ সালের প্রথম অলিম্পিক গেমসের রৌপ্য পদক নিলামে বিক্রি, প্রত্যাশার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দাম

সম্পাদনা করেছেন: alya myart

১৮৯৬ সালে এথেন্সে অনুষ্ঠিত আধুনিক অলিম্পিক গেমসের অভিষেক আসরের একটি অত্যন্ত বিরল রৌপ্য পদক নিলামে বিক্রি হয়েছে। ব্রুন রাসমুসেন আর্টস অকশনার্স (Bruun Rasmussen Arts Auctioneers) আয়োজিত এই অনলাইন নিলামে পদকটি তার প্রাথমিক মূল্যের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সংগ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করা এই ঐতিহাসিক স্মারকটির চূড়ান্ত বিক্রয় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১,৮১,৩২৩ মার্কিন ডলার। ১৮৯৪ সালে ব্যারন পিয়ের দ্য কুবারত্যাঁ (Baron Pierre de Coubertin) অলিম্পিক আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, এই পদকটি সেই ইতিহাসের এক অমূল্য সাক্ষী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মুদ্রাশাস্ত্রের জগতে এই পদকটিকে একটি 'ইউনিকর্ন' বা অত্যন্ত দুর্লভ বস্তু হিসেবে অভিহিত করেছে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটি। অনলাইন নিলাম চলাকালীন পদকটির জন্য মোট ৪২টি বিড বা ডাক পড়েছিল। ১৮৯৬ সালের ৬ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রথম অলিম্পিক গেমসে বিজয়ীদের স্বর্ণের বদলে রৌপ্য পদক, জলপাই শাখা এবং একটি ডিপ্লোমা প্রদান করা হতো। উল্লেখ্য যে, প্রথম স্থানের জন্য স্বর্ণপদক দেওয়ার প্রথাটি অনেক পরে, ১৯০৪ সালের সেন্ট লুইস অলিম্পিক থেকে শুরু হয়। এই পদকটির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছিল ২,০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ ডেনিশ ক্রোন (প্রায় ৩১,৪৮০ থেকে ৪৭,২২০ মার্কিন ডলার), কিন্তু ফি সহ এর চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১,৫২,০০০ ডেনিশ ক্রোন।

এই শৈল্পিক পদকটির নকশা করেছিলেন বিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর জুল-ক্লেমঁ শাপলাঁ (Jules-Clément Chaplain)। পদকটির সামনের দিকে দেবরাজ জিউসের প্রতিকৃতি রয়েছে, যার হাতে রয়েছে একটি গ্লোব বা পৃথিবী। সেই গ্লোবের ওপর বিজয়ের দেবী নাইকি একটি জলপাই শাখা হাতে বসে আছেন। পদকটির উল্টো দিকে এথেন্সের ঐতিহাসিক অ্যাক্রোপলিস এবং পার্থেননের ছবি খোদাই করা আছে, যার সাথে গ্রিক ভাষায় লেখা রয়েছে 'আন্তর্জাতিক অলিম্পিক গেমস — এথেন্স ১৮৯৬'। প্যারিস মিন্টে তৈরি এই পদকটির ব্যাস ছিল ৪৮ মিলিমিটার।

এই নির্দিষ্ট পদকটি কোন অ্যাথলেটকে দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ব্রুন রাসমুসেন ধারণা করছেন যে, এটি ডেনিশ জিমন্যাস্ট ভিগো জেনসেনের (Viggo Jensen) হতে পারে। জেনসেন ভারোত্তোলনে ডেনমার্কের প্রথম অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ছিলেন এবং টু-হ্যান্ড লিফটে স্বর্ণ (তৎকালীন রৌপ্য) জিতেছিলেন। যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। প্রথম আধুনিক অলিম্পিকে ১৪টি দেশের ২৪১ জন পুরুষ অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারা ভারোত্তোলন, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস, সাইক্লিং, কুস্তি, ফেন্সিং, শুটিং এবং টেনিস—এই নয়টি ক্রীড়া বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

প্রথম অলিম্পিক গেমস আয়োজনের সময় আয়োজক কমিটি ব্যাপক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিল, কারণ খরচ প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে যুবরাজ কনস্টানটাইনের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ এবং নেতৃত্ব প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে, প্যানাথেনাইকো স্টেডিয়াম (Panathenaic Stadium) সংস্কারের জন্য জর্জিয়াস অ্যাভেরফ (Georgios Averoff) যে বিশাল অনুদান দিয়েছিলেন, তা গেমস সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

এই নিলামটি কেবল একটি ধাতব খণ্ডের বিক্রি নয়, বরং এটি আধুনিক ক্রীড়া ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়ের স্বীকৃতি। ১৮৯৬ সালের সেই সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত অলিম্পিক গেমস যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, এই রৌপ্য পদকটি তারই এক অনন্য স্মারক হিসেবে টিকে থাকবে। সংগ্রাহকদের এই বিপুল আগ্রহ প্রমাণ করে যে, অলিম্পিক আন্দোলনের মূল চেতনা এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে সমাদৃত।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Forbes

  • Mynewsdesk

  • Forbes

  • The Sports Examiner

  • Straitstimes.com

  • Finestre sull'Arte

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।